আল-মায়িদা · 13/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
فَبِمَا نَقۡضِهِم مِّيثَٰقَهُمۡ لَعَنَّٰهُمۡ وَجَعَلۡنَا قُلُوبَهُمۡ قَٰسِيَةًۖ يُحَرِّفُونَ ٱلۡكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِۦ وَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِۦۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَآئِنَةٍ مِّنۡهُمۡ إِلَّا قَلِيلًا مِّنۡهُمۡۖ فَٱعۡفُ عَنۡهُمۡ وَٱصۡفَحۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ  ۝١٣
Fabimaa naqdihim meesaa qahum la`annaahum wa ja`alnaa quloobahum qaasiyatany yuharrifoonal kalima `ammawaadi`ihee wa nasoo hazzam mimmaa zukkiroo bih; khaaa`inatim minhum illaa qaleelam minhum fa`fu `anhum wasfah; innal laaha yuhibbul muhsineen
📖 বাংলা অর্থ
অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • নাকদ্ব (نَقْض): ভঙ্গ করা, ভেঙে ফেলা।
  • মীছাক (ميثاق): দৃঢ় অঙ্গীকার, চুক্তি।
  • লাআনা (لعن): অভিশাপ দেওয়া, রহমত থেকে দূরে করা।
  • কাসিয়াহ (قاسية): কঠিন, শক্ত, নমনীয় নয়।
  • ইউহাররিফুন (يُحَرِّفُونَ): বিকৃত করা, শব্দের অর্থ বা রূপ পরিবর্তন করা।
  • হাযযান (حَظًّا): অংশ, ভাগ।
  • খাইনাহ (خَائِنَةٍ): বিশ্বাসঘাতকতা, খিয়ানত।
  • ইছফাহ (اصفح): ক্ষমা করা, উপেক্ষা করা, মার্জনা দেখানো।

তাফসীর:

তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার ভঙ্গ করার কারণেই আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি এবং তাদের অন্তরকে কঠিন ও শক্ত করে দিয়েছি—যাতে তা ঈমানের নূর গ্রহণ করতে পারে না এবং কোনো উপদেশ তাদের মনে দাগ কাটে না। ফলে তারা আল্লাহর কালামকে তার সঠিক স্থান থেকে সরিয়ে বিকৃত করে—কখনো শব্দ বদলে দেয়, কখনো অর্থকে নিজেদের খেয়াল-খুশির সাথে মিলিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে। আর তাদেরকে যে বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ তারা পরিত্যাগ করে—তাতে আমল করেনি, এমনকি তা অস্বীকারও করেছে।

হে নবী! তুমি সর্বদা তাদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা দেখতে পাবে—তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, শত্রুদের সাথে মিলে তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তবে তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক যারা প্রকৃত মুমিন, তারা এর ব্যতিক্রম। সুতরাং তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো, তাদের অপরাধ উপেক্ষা করো এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করো। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা অপরাধীর প্রতিও সদয় ও ক্ষমাশীল আচরণ করে এবং ইনসাফের সাথে উত্তম পথ অবলম্বন করে।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা একটি গুরুতর অপরাধ, যার কারণে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া যায় এবং অন্তর কঠিন হয়ে যায়। তাই মুমিনের উচিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।
  2. কুরআন ও হাদীসের বিকৃত ব্যাখ্যা করা এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা ধ্বংসের কারণ। আমাদের উচিত আল্লাহর কালামকে তার সঠিক অর্থ ও মর্ম অনুযায়ী বুঝা এবং আমল করা।
  3. যারা আল্লাহর নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও তা ভুলে যায় (ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে), তাদের অন্তর ধীরে ধীরে মরে যায়। তাই কুরআন তিলাওয়াত ও আমলকে জীবনের অংশ করা জরুরি।
  4. ক্ষমা ও মার্জনা করা মুমিনের মহৎ গুণ। এমনকি শত্রুর প্রতিও সদয় আচরণ করলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। ক্ষমা করলে অন্তর প্রশস্ত হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—যত বড় অন্যায়ই হোক না কেন, মুমিনের উচিত প্রতিশোধ না নিয়ে উত্তম পথ অবলম্বন করা, কারণ আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের এটাই সর্বোত্তম উপায়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — আল-মায়িদা

11يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ إِذۡ هَمَّ قَوۡمٌ أَن يَبۡسُطُوٓاْ إِلَيۡكُمۡ أَيۡدِيَهُمۡ فَكَفَّ أَيۡدِيَهُمۡ عَنكُمۡۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلۡيَتَوَكَّلِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ 
হে মুমিনগণ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের দিকে স্বীয় হস্ত প্রসারিত করতে সচেষ্ট হয়েছিল, তখন তিনি তাদের হস্ত তোমাদের থেকে প্রতিহত করে দিলেন। আল্লাহকে ভয় কর এবং মুমিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
12۞ وَلَقَدۡ أَخَذَ ٱللَّهُ مِيثَٰقَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَبَعَثۡنَا مِنۡهُمُ ٱثۡنَيۡ عَشَرَ نَقِيبًاۖ وَقَالَ ٱللَّهُ إِنِّي مَعَكُمۡۖ لَئِنۡ أَقَمۡتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَيۡتُمُ ٱلزَّكَوٰةَ وَءَامَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرۡتُمُوهُمۡ وَأَقۡرَضۡتُمُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمۡ سَيِّـَٔاتِكُمۡ وَلَأُدۡخِلَنَّكُمۡ جَنَّٰتٍ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۚ فَمَن كَفَرَ بَعۡدَ ذَٰلِكَ مِنكُمۡ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ 
আল্লাহ বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বার জন সর্দার নিযুক্ত করেছিলাম। আল্লাহ বলে দিলেনঃ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, যাকাত দিতে থাক, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখ, তাঁদের সাহায্য কর এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋন দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ দুর করে দিব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যান সমূহে প্রবিষ্ট করব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নিঝরিনীসমূহ প্রবাহিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এরপরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
13فَبِمَا نَقۡضِهِم مِّيثَٰقَهُمۡ لَعَنَّٰهُمۡ وَجَعَلۡنَا قُلُوبَهُمۡ قَٰسِيَةًۖ يُحَرِّفُونَ ٱلۡكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِۦ وَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِۦۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَآئِنَةٍ مِّنۡهُمۡ إِلَّا قَلِيلًا مِّنۡهُمۡۖ فَٱعۡفُ عَنۡهُمۡ وَٱصۡفَحۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ 
অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
14وَمِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّا نَصَٰرَىٰٓ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَهُمۡ فَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِۦ فَأَغۡرَيۡنَا بَيۡنَهُمُ ٱلۡعَدَاوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَسَوۡفَ يُنَبِّئُهُمُ ٱللَّهُ بِمَا كَانُواْ يَصۡنَعُونَ 
যারা বলেঃ আমরা নাছারা, আমি তাদের কাছ থেকেও তাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। অতঃপর তারাও যে উপদেশ প্রাপ্ত হয়েছিল, তা থেকে উপকার লাভ করা ভুলে গেল। অতঃপর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।
15يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ قَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمۡ كَثِيرًا مِّمَّا كُنتُمۡ تُخۡفُونَ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَيَعۡفُواْ عَن كَثِيرٍۚ قَدۡ جَآءَكُم مِّنَ ٱللَّهِ نُورٌ وَكِتَٰبٌ مُّبِينٌ 
হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল আগমন করেছেন! কিতাবের যেসব বিষয় তোমরা গোপন করতে, তিনি তার মধ্য থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করেন এবং অনেক বিষয় মার্জনা করেন। তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 13

সূরা আয়াত 13/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না