আল-আনআম · 48/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۖ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ۝٤٨
Wa maa nursilul mursaleena illaa mubashshireena wa munzireena faman aamana wa aslaha falaa khawfun `alaihim wa laa hum yahzanoon
📖 বাংলা অর্থ
আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُبَشِّرِينَ – সুসংবাদদাতা (যারা ঈমানদারদের জান্নাতের সুসংবাদ দেন)
  • مُنذِرِينَ – ভয় প্রদর্শনকারী (যারা কাফিরদের শাস্তির ভয় দেখান)
  • آمَنَ – ঈমান আনা, বিশ্বাস করা
  • أَصْلَحَ – সংশোধন করা, সৎকর্ম করা
  • خَوْفٌ – ভয় (ভবিষ্যতের শাস্তি সম্পর্কে)
  • حَزَنٌ – দুঃখ (অতীতের ক্ষতি বা প্রাপ্তিতে বঞ্চনার জন্য)

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেন শুধুমাত্র দুটি উদ্দেশ্যে—একটি হলো সুসংবাদ প্রদান এবং অন্যটি হলো সতর্ক করা। যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী নিজেদের জীবনকে সংশোধন করে, তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়। আর যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর অবাধ্যতা করে, তাদের জন্য আখিরাতের কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়।

অতঃপর আল্লাহ বলেন, যারা রাসূলদের উপর ঈমান আনে এবং নিজেদের আমল ও চরিত্রকে সংশোধন করে, তাদের জন্য কোনো ভয় নেই—না মৃত্যুর সময়, না কবরে, না কিয়ামতের ময়দানে, না আখিরাতের কোনো পর্যায়ে। তারা জান্নাতের স্থায়ী নিয়ামত পাবে এবং দুনিয়ার কোনো ক্ষতি বা বঞ্চনার জন্য তারা দুঃখিত হবে না, কারণ তারা জানে যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা-ই উত্তম ও চিরস্থায়ী।

এই আয়াতে মূল কথা হলো, রাসূলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য কখনো শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সঠিক পথ দেখানো, তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া এবং জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে সতর্ক করা। যারা এই দাওয়াত গ্রহণ করে এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে, তাদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তি।

ফায়দা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর রাসূলগণ রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন—তারা মানুষের জন্য সুসংবাদ ও সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছেন, যেন মানুষ সঠিক পথ খুঁজে পায়।
  2. ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়ই হলো সফলতার চাবিকাঠি। শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়, সাথে সাথে আমল সংশোধন করাও জরুরি।
  3. মুমিনের জীবনে কোনো প্রকৃত ভয় বা দুঃখ নেই। দুনিয়ার ক্ষতি-বঞ্চনা তাকে হতাশ করতে পারে না, কারণ তার চোখ থাকে আখিরাতের চিরস্থায়ী সাফল্যের দিকে।
  4. এই আয়াত আমাদের আশা জাগায় যে, আল্লাহর রহমত অপরিসীম। যে কেউ ঈমান আনে এবং নিজেকে সংশোধন করে, সে আল্লাহর বিশেষ করুণা ও নিরাপত্তার অধিকারী হবে।
  5. দাওয়াতের কাজে আমাদেরও রাসূলদের পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত—মানুষকে সুসংবাদ দিয়ে উৎসাহিত করা এবং শাস্তির ভয় দেখিয়ে সতর্ক করা, যাতে তারা সত্যকে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়।


📜 আয়াত 46-50 — সূরা আল-আনআম

46قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَىٰ قُلُوبِكُم مَّنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِهِ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ
আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি আল্লাহ তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।
47قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ بَغْتَةً أَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ
বলে দিনঃ দেখতো, যদি আল্লাহর শাস্তি, আকস্মিক কিংবা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর আসে, তবে জালেম, সম্প্রদায় ব্যতীত কে ধ্বংস হবে?
48وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۖ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
49وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ
যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।
50قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ ۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
48আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 48

সূরা আল-আনআম আয়াত 48 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে…

সূরা আয়াত 48/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 46–50. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না