আল-মুমতাহিনা · 12/13
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মুমতাহিনা
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ۝١٢
Yaaa ayyuhan nabbiyyu izaa jaaa`akal mu`minaau yubaai naka `alaaa allaa yushrikna billaahi shai `anw wa laa yasriqna wa laa yazneena wa laa yaqtulna awlaadahunna wa laa yaateena bibuhtaaniny yaftaree nahoo baina aydeehinna wa arjulihinna wa laa ya`seenaka fee ma`roofin fabaayi`hunna wastaghfir lahunnal laaha innnal laaha ghafoorur raheem
📖 বাংলা অর্থ
হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • يُبَايِعْنَكَ – আপনার কাছে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করবে।
  • بُهْتَانٍ – মিথ্যা অপবাদ, মনগড়া কথা।
  • يَفْتَرِينَهُ – যা তারা নিজেরা রচনা করে।
  • بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ – অর্থাৎ সন্তানকে নিজের গর্ভজাত বলে স্বামীর কাছে উপস্থাপন করা; কারণ সন্তান জন্মের সময় মায়ের সামনে (হাতের কাছে) এবং পায়ের কাছে পড়ে।
  • مَعْرُوفٍ – শরিয়তসম্মত ভালো কাজ, যা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

হে নবী! যখন আপনার কাছে ঈমানদার নারীরা এসে বাইয়াত গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে—যেমনটি মক্কা বিজয়ের দিন ঘটেছিল—তখন তাদের কাছ থেকে এই শর্তগুলোতে অঙ্গীকার নিন:

  1. তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না; একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে।
  2. তারা চুরি করবে না।
  3. তারা ব্যভিচার করবে না।
  4. তারা নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না—জাহিলি যুগের মতো কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া বা গর্ভপাতের মাধ্যমে সন্তান নষ্ট করা।
  5. তারা এমন মিথ্যা অপবাদ রচনা করবে না যার মাধ্যমে স্বামীর ঘরে পরপুরুষের সন্তানকে নিজের সন্তান বলে চালিয়ে দেবে—এটি জঘন্য প্রতারণা ও চরিত্রহীনতার পরিচয়।
  6. তারা কোনো ভালো কাজে আপনার অবাধ্য হবে না—অর্থাৎ যে কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শরিয়তের নির্দেশ রয়েছে, তাতে তারা আপনার আদেশ মানবে; যেমন মৃতের জন্য বিলাপ করা, চুল ছেঁড়া, গালে চপেটাঘাত করা ইত্যাদি জাহিলি প্রথা থেকে বিরত থাকা।

যখন তারা এই শর্তগুলোতে আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবে, তখন আপনি তাদের বাইয়াত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল—তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন—এবং পরম দয়ালু—তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়া প্রদর্শন করেন।

দাওয়াতি বার্তা:

এই আয়াতটি ইসলামের পবিত্রতা ও নারীর মর্যাদা রক্ষার এক উজ্জ্বল দলিল। ইসলাম নারীকে এমন উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে যে, তার কাছ থেকে সরাসরি পবিত্র জীবনযাপনের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এই বাইয়াতের মাধ্যমে ইসলাম নারীকে চুরি, ব্যভিচার, সন্তান হত্যা, প্রতারণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আজকের যুগে নারীরা যখন নানা অনৈতিকতার শিকার, তখন এই আয়াত তাদের জন্য আলোকবর্তিকা—যে পথে চললে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য নিশ্চিত। আল্লাহর রহমতের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত; তিনি তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেন। আসুন, আমরা সবাই এই পবিত্র অঙ্গীকারকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভের চেষ্টা করি।



📜 আয়াত 10-13 — সূরা আল-মুমতাহিনা

10يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ ۖ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ ۖ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ ۖ وَآتُوهُم مَّا أَنفَقُوا ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ ۚ وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ وَاسْأَلُوا مَا أَنفَقْتُمْ وَلْيَسْأَلُوا مَا أَنفَقُوا ۚ ذَٰلِكُمْ حُكْمُ اللَّهِ ۖ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ ۚ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
11وَإِن فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِّنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَآتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُم مِّثْلَ مَا أَنفَقُوا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।
12يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু।
13يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ قَدْ يَئِسُوا مِنَ الْآخِرَةِ كَمَا يَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَابِ الْقُبُورِ
মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে।
আল-মুমতাহিনাকুরআন সূচী
13আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
12আয়াত

অনুবাদ — আল-মুমতাহিনা 12

সূরা আল-মুমতাহিনা আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ…

সূরা আয়াত 12/13 — সূরা আল-মুমতাহিনা الممتحنة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুমতাহিনা শুনুন, সূরা আল-মুমতাহিনা অনুবাদ, সূরা আল-মুমতাহিনা mp3, সূরা আল-মুমতাহিনা pdf. আয়াত 10–13. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না