বস্তুতঃ মূসার সম্প্রদায়ে একটি দল রয়েছে যারা সত্যপথ নির্দেশ করে এবং সে মতেই বিচার করে থাকে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
উম্মাতুন (أُمَّةٌ): একটি দল বা সম্প্রদায়।
ইয়াহদূনা (يَهْدُونَ): তারা পথ প্রদর্শন করে।
বিল-হাক্কি (بِالْحَقِّ): সত্যের মাধ্যমে বা সত্যের ভিত্তিতে।
ইয়া'দিলূন (يَعْدِلُونَ): তারা ন্যায়বিচার করে।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একটি দল ছিল যারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং সত্যের পথে মানুষকে হিদায়াত করত। তারা কেবল নিজেরা সঠিক পথে চলত না, বরং অন্যদেরকেও সত্য ও ন্যায়ের দিকে আহ্বান জানাত। তাদের বিচার-আচরণেও তারা ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখত—কোনো প্রকার জুলুম বা পক্ষপাতিত্ব না করে। তারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের মধ্যে ফয়সালা করত এবং সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করত। এই দলটি ছিল বনী ইসরাঈলের মধ্যে থেকে যারা ঈমান ও সত্যের উপর অটল ছিল এবং তাদের কর্ম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং সত্যের দিকে মানুষকে ডাকা একটি মহান গুণ। প্রতিটি সমাজে এমন কিছু লোক থাকা প্রয়োজন যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে মানুষকে পরিচালিত করবে।
ন্যায়বিচার ইসলামের একটি মূল ভিত্তি। যারা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে, তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, নিজে সৎ থাকার পাশাপাশি সমাজের অন্যকেও সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।
ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবতার কল্যাণের জন্যও নির্দেশনা দেয়।
যে কোনো জাতির মধ্যে ভালো মানুষ থাকলে সেই জাতি আল্লাহর রহমত পায় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই।
আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং খাও তা থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা এবং বল, আমাদের ক্ষমা করুন। আর দরজা দিয়ে প্রবেশ কর প্রণত অবস্থায়। তবে আমি ক্ষমা করে দেব তোমাদের পাপসমুহ। অবশ্য আমি সৎকর্মীদিগকে অতিরিক্ত দান করব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।