Qul yaaa aiyuhan naasu innee Rasoohul laahi ilaikum jamee`anil lazee lahoo mulkus samaawaati wal ardi laaa ilaaha illaa Huwa yuhyee wa yumeetu fa aaminoo billaahi wa Rasoolihin Nabiyyil ummiy yil lazee yu`minu billaahi wa Kalimaatihee wattabi`oohu la`allakum tahtadoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) तुम (उन लोगों से) कह दो कि लोगों में तुम सब लोगों के पास उस ख़ुदा का भेजा हुआ (पैग़म्बर) हूँ जिसके लिए ख़ास सारे आसमान व ज़मीन की बादशाहत (हुकूमत) है उसके सिवा और कोई माबूद नहीं वही ज़िन्दा करता है वही मार डालता है पस (लोगों) ख़ुदा और उसके रसूल नबी उल उम्मी पर ईमान लाओ जो (ख़ुद भी) ख़ुदा पर और उसकी बातों पर (दिल से) ईमान रखता है और उसी के क़दम बा क़दम चलो ताकि तुम हिदायत पाओ
الْأُمِّيِّ — যে লিখতে-পড়তে পারে না; নিরক্ষর। এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিশেষণ হিসেবে এসেছে, যিনি কারো কাছে লেখাপড়া শেখেননি।
كَلِمَاتِهِ — আল্লাহর কালাম বা বাণীসমূহ; অর্থাৎ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী।
لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ — আশা করা যায় তোমরা সঠিক পথ পাবে; অর্থাৎ হিদায়াত লাভের আশায়।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি ঘোষণা করুন এবং সকল মানুষকে সম্বোধন করে বলুন: “হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সবার প্রতি প্রেরিত আল্লাহর রাসূল। আমি শুধু কোনো নির্দিষ্ট জাতি, গোত্র বা অঞ্চলের জন্য প্রেরিত নই; বরং আমার রিসালাত আরব-আজম, কালো-সাদা, পূর্ব-পশ্চিম—সকল মানুষের জন্য ব্যাপক।”
তিনি সেই আল্লাহ, যাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য ও রাজত্ব আসমানসমূহ এবং যমীনের উপর। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; সমস্ত মাখলুকাত তাঁরই দাস। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তাঁর হাতেই সৃষ্টি, ধ্বংস ও পুনরুত্থানের ক্ষমতা। সুতরাং যখন তিনি এমন সর্বশক্তিমান ও একক উপাস্য, তখন তোমাদের কর্তব্য হলো—
তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো এবং তাঁর রাসূলের প্রতিও ঈমান আনো। সেই রাসূল হলেন উম্মী নবী, যিনি লেখাপড়া জানতেন না, কিন্তু তাঁর কাছে এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী। তিনি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর অবতীর্ণ সমস্ত কালামের প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখেন—তা তাঁর উপর নাযিলকৃত কুরআন হোক বা পূর্ববর্তী নবীদের উপর নাযিলকৃত কিতাবসমূহ। তিনি কোনো কিতাবের মধ্যে পার্থক্য করেন না।
অতএব, তোমরা তাঁর অনুসরণ করো এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলো—যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছেন। তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে আশা করা যায় যে, তোমরা সঠিক পথের হিদায়াত লাভ করবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জন করতে পারবে।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
এই আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাত সর্বজনীন ও চিরকালীন। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষ ও জিনের জন্য রাসূল। তাই প্রতিটি যুগের প্রতিটি মানুষের উপর তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ ফরজ।
আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর পূর্ণ ক্ষমতার ঘোষণা এখানে এমনভাবে এসেছে যে, ঈমানের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহকে একক উপাস্য হিসেবে মেনে নেওয়া এবং তাঁরই কাছে জীবন-মৃত্যু, রিযিক ও সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ সোপর্দ করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উম্মী হওয়া তাঁর সত্যতার একটি প্রমাণ। একজন নিরক্ষর মানুষের পক্ষে এত মহান ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ কুরআন আনা সম্ভব নয়, যদি না তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। এটি ইসলামের সত্যতার অন্যতম নিদর্শন।
মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো—সকল নবী ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা। কাউকে মানা আর কাউকে না মানা ঈমানের পরিপন্থী।
হিদায়াত লাভের একমাত্র পথ হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণ। যে ব্যক্তি তাঁর পথে চলবে, আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য দান করবেন।
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার আযাব তারই উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয় রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়তসমুহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।
সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।
আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।