Al A`raabu ashaddu kufranw wa nifaaqanw wa ajdaru allaa ya`lamoo hudooda maaa anzalal laahu `alaa Rasoolih; wallaahu `Aleemun Hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ये) अरब के गॅवार देहाती कुफ्र व निफाक़ में बड़े सख्त हैं और इसी क़ाबिल हैं कि जो किताब ख़ुदा ने अपने रसूल पर नाज़िल फरमाई है उसके एहक़ाम न जानें और ख़ुदा तो बड़ा दाना हकीम है
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বেদুইন আরবদের (মরুভূমির অধিবাসীদের) সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তারা কুফর ও মুনাফিকিতে শহরবাসীদের চেয়ে আরও কঠোর। এর কারণ হলো—তাদের স্বভাব প্রকৃতিগতভাবে রুক্ষ, হৃদয় কঠোর এবং তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান, আলেম-উলামার সাহচর্য, ওয়াজ-নসীহত ও কুরআন-সুন্নাহ শোনার পরিবেশ থেকে দূরে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে সত্য গ্রহণের প্রবণতা কম থাকে এবং ভুল-বিভ্রান্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান, হালাল-হারামের সীমারেখা এবং শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কম যোগ্য। কারণ, জ্ঞান অর্জন ও দ্বীন বুঝার জন্য প্রয়োজন সৎসঙ্গ, অধ্যবসায় এবং নবীজী (সা.)-এর শিক্ষা থেকে সরাসরি উপকৃত হওয়ার সুযোগ। বেদুইনরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় তাদের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞানের ঘাটতি প্রকট হয়।
আল্লাহ তাআলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। তিনি প্রত্যেকের অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন—যে সৎকর্ম করে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং যে অসৎকর্ম করে তাকে শাস্তি দেন। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কোনো কিছু থেকে গোপন নয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইলম অর্জন ও দ্বীনি জ্ঞান লাভের জন্য সৎসঙ্গ এবং আলেম-উলামার সাহচর্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জ্ঞান থেকে দূরে থাকা মানুষ সহজেই কুফর, মুনাফিকি ও ভ্রান্তির শিকার হয়।
কঠোরতা, রুক্ষতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে দূরে থাকা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয় এবং সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। যে ব্যক্তি যত বেশি জ্ঞান অর্জন করবে এবং কুরআন-সুন্নাহ বুঝার চেষ্টা করবে, সে তত বেশি সঠিক পথে পরিচালিত হবে।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের অবস্থা সম্পর্কে অবগত এবং তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী তিনি সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সমাজের দুর্বল ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া এবং তাদের দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করা উম্মতের দায়িত্ব।
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর-নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর আল্লাহ হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।
আর কোন কোন বেদুইন হল তারা, যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলের দোয়া লাভের উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।