Yahlifoona lakum litardaw `anhum fa in tardaw `anhum fa innal laaha laa yardaa `anil qawmil faasiqeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तुम्हारे सामने ये लोग क़समें खाते हैं ताकि तुम उनसे राज़ी हो (भी) जाओ तो ख़ुदा बदकार लोगों से हरगिज़ कभी राज़ी नहीं होगा
لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ – যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও।
الْفَاسِقِينَ – যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে সীমালঙ্ঘনকারী।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! এই মুনাফিকরা তোমাদের কাছে এসে মিথ্যা শপথ করে, যাতে তোমরা তাদের বাহ্যিক অবস্থা দেখে সন্তুষ্ট হয়ে যাও এবং তাদের অজুহাত গ্রহণ কর। কিন্তু তোমাদের এই সন্তুষ্টি তাদের কোনো উপকারে আসবে না। কারণ, যদি তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্টও হও, তবুও আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না। আল্লাহ তো কেবল বাহ্যিক শপথ দেখেন না, তিনি তাদের অন্তরের কুফরী, মুনাফিকী ও অবাধ্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। যারা সত্য consciously প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে চলতে থাকে, আল্লাহ কখনো তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন না। সুতরাং তোমরা যদি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও, তবে তা হবে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। কারণ, আল্লাহর সন্তুষ্টিই একমাত্র মানদণ্ড, আর তোমাদের সন্তুষ্টি ততক্ষণ পর্যন্ত মূল্যহীন, যতক্ষণ না তা আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
মুনাফিকদের চিহ্ন হলো মিথ্যা শপথ করা এবং অজুহাত দেখানো, যা থেকে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।
মানুষের সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিকল্প নয়। কোনো কাজ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী হবে।
আল্লাহর দৃষ্টি বাহ্যিক আচরণে নয়, অন্তরের বিশ্বাস ও নিয়তে। তাই অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্যের উপর অটল থাকতে হবে এবং অন্যায়কারীদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যদিও তারা বাহ্যিকভাবে ভালো কিছু দেখায়।
আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টিই আসল সাফল্য। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, মানুষের প্রশংসা বা সন্তুষ্টিকে নয়।
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর-নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু আল্লাহ তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি-কানুন না শেখারই যোগ্য যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর আল্লাহ হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।