Kutiba alaikumulqitaalu wa huwa kurhullakum wa `asaaa an takrahoo shai`anw wa huwa khairullakum wa `asaaa an tuhibbo shai`anw wa huwa sharrullakum; wallaahu ya`lamu wa antum laa ta`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुसलमानों) तुम पर जिहाद फर्ज क़िया गया अगरचे तुम पर शाक़ ज़रुर है और अजब नहीं कि तुम किसी चीज़ (जिहाद) को नापसन्द करो हालॉकि वह तुम्हारे हक़ में बेहतर हो और अजब नहीं कि तुम किसी चीज़ को पसन्द करो हालॉकि वह तुम्हारे हक़ में बुरी हो और ख़ुदा (तो) जानता ही है मगर तुम नही जानते हो
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ — তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে।
وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ — অথচ এটি তোমাদের কাছে অপ্রিয়।
وَعَسَى — সম্ভবত / আশা করা যায়।
خَيْرٌ لَكُمْ — তোমাদের জন্য কল্যাণকর।
شَرٌّ لَكُمْ — তোমাদের জন্য অকল্যাণকর।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ তথা যুদ্ধ ফরজ করেছেন। স্বভাবগতভাবে এই যুদ্ধ তোমাদের কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অপ্রিয়, কারণ এতে জান ও মালের ক্ষতি হয় এবং জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু তোমরা যে বিষয়টিকে অপছন্দ করছ, অর্থাৎ জিহাদ, হয়তো তা-ই তোমাদের জন্য প্রকৃত কল্যাণের কারণ; কারণ এর মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাত, গনিমতের সম্পদ এবং শত্রুর উপর বিজয় লাভ করতে পারবে। অপরদিকে, তোমরা যে বিষয়টিকে ভালোবাসো, অর্থাৎ জিহাদ থেকে বিরত থাকা, আরাম-আয়েশে জীবন কাটানো, হয়তো তা-ই তোমাদের জন্য অকল্যাণের কারণ; কারণ এর ফলে তোমরা আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে, শত্রুরা তোমাদের উপর চাপিয়ে দেবে এবং তোমরা লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হবে।
আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞ। তিনি জানেন কোন কাজে তোমাদের প্রকৃত মঙ্গল রয়েছে এবং কোন কাজে অমঙ্গল। কিন্তু তোমাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত, তাই তোমরা প্রায়ই ভালো-মন্দের সঠিক পার্থক্য করতে পারো না। তোমরা নিজেদের ক্ষুদ্র জ্ঞান ও দুর্বল বিচার-বুদ্ধির উপর নির্ভর না করে আল্লাহর আদেশের অনুসরণ করো, কারণ আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের জন্য সর্বদা মঙ্গল নিহিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রকৃত কল্যাণের কথা জানেন। মানুষের সীমিত জ্ঞান কখনো আল্লাহর অসীম জ্ঞানের সমকক্ষ হতে পারে না।
জিহাদ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামের সম্মান ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। আরাম-প্রিয়তা ও ভীরুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।
জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আল্লাহর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, এমনকি তা আমাদের কাছে কষ্টকর মনে হলেও। কারণ আল্লাহ যা নির্দেশ দেন, তাতেই আমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত।
বিপদ-আপদ ও কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই মুমিনের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখা।
এই আয়াত মুমিনদের সাহস ও প্রেরণা জোগায় যে, তারা যখন আল্লাহর পথে কষ্ট স্বীকার করে, তখন আল্লাহ তাদেরকে এমন কিছু দান করেন যা তাদের ধারণার বাইরে।
তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।
তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও-যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা-মাতার জন্যে, আত্নীয়-আপনজনের জন্যে, এতীম-অনাথদের জন্যে, অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে।
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।
সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।
আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।