Yaa ayyuhal lazeena aamanoo anfiqoo mimmaa razaqnaakum min qabli ai yaatiya yawmul laa bai`un fee wa la khullatunw wa laa shafaa`ah; walkaa firoona humuz zaalimoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदारों जो कुछ हमने तुमको दिया है उस दिन के आने से पहले (ख़ुदा की राह में) ख़र्च करो जिसमें न तो ख़रीदो फरोख्त होगी और न यारी (और न आशनाई) और न सिफ़ारिश (ही काम आयेगी) और कुफ़्र करने वाले ही तो जुल्म ढाते हैं
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَنفِقُوا – তোমরা ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)।
خُلَّةٌ – বন্ধুত্ব, গভীর বন্ধুত্ব।
شَفَاعَةٌ – সুপারিশ, কারও পক্ষে কথা বলা বা মধ্যস্থতা।
الظَّالِمُونَ – যালিমরা, সীমালঙ্ঘনকারীরা।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছ। আল্লাহ তোমাদের যে হালাল সম্পদ দান করেছেন, তা থেকে তোমরা ব্যয় করো—অর্থাৎ ফরয যাকাত আদায় করো এবং নফল সদকা দাও। এই ব্যয় এমন এক দিন আসার আগেই করো, যেদিন কোনো লেনদেন থাকবে না, যার মাধ্যমে তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্ত করতে পারবে। সেদিন কোনো বন্ধুত্বও কাজে আসবে না, যা তোমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। আর কোনো সুপারিশও গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজে কারও জন্য অনুমতি দেন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। সেদিন প্রত্যেকে নিজের আমল অনুযায়ী ফল পাবে। আর যারা কুফরি করে, তারাই প্রকৃত যালিম—কারণ তারা আল্লাহর ইবাদতকে সঠিক স্থানে স্থাপন করেনি এবং নিজেদের উপর জুলুম করেছে। তারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দান-সদকা ও যাকাত আদায় করা ঈমানের প্রমাণ এবং আল্লাহর অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায়ের একটি মাধ্যম।
দুনিয়ার জীবনে আমরা যে সম্পদ উপার্জন করি, তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দান। তাই তাঁর পথে ব্যয় করা আমাদের দায়িত্ব।
কিয়ামতের দিন কোনো অর্থ-সম্পদ, বন্ধুত্ব বা প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে আসবে না। শুধু ঈমান ও সৎকর্মই মুক্তির উপায়।
আয়াতটি আমাদেরকে সময়ের মূল্যায়ন করতে শেখায়—আজই ভালো কাজ করা উচিত, কারণ আগামীকালের নিশ্চয়তা নেই।
কুফরি ও সীমালঙ্ঘনকে ইসলাম জুলুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা মানুষকে নিজের ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা।
এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো, কিন্তু আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।