আল-বাকারা · 253/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
۞ تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ اللَّهُ ۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ ۚ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِن بَعْدِهِم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَٰكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُم مَّنْ آمَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ۝٢٥٣
Tilkar Rusulu faddalnaa ba`dahum `alaa ba`d; minhum man kallamal laahu wa rafa`a ba`dahum darajaat; wa aatainaa `Eesab na Maryamal baiyinaati wa ayyadnaahu bi Roohil Qudus; wa law shaaa`al laahu maqtatalal lazeena mimba`dihim mim ba`di maa jaaa`athumul baiyinaatu wa laakinikh talafoo faminhum man aamana wa minhum man kafar; wa law shaaa`al laahu maq tataloo wa laakinnallaaha yaf`alu maa yureed
📖 বাংলা অর্থ
এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো, কিন্তু আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • তিলকা রুসুলু — এই রাসূলগণ
  • ফাদ্দালনা — আমরা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি
  • কাল্লামাল্লাহ — আল্লাহ তার সাথে কথা বলেছেন
  • রাফা'না — আমরা উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি
  • আল-বাইয়্যিনাত — স্পষ্ট প্রমাণাদি, অলৌকিক মু'জিযা
  • আইয়াদনা — আমরা শক্তিশালী করেছি
  • রূহুল কুদুস — পবিত্র রূহ, অর্থাৎ জিবরাঈল (আঃ)
  • ইকতাতালু — তারা পরস্পর যুদ্ধ করেছে

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর প্রেরিত রাসূলগণের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে পার্থক্য রেখেছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে প্রত্যেক নবী তাঁর নিজ নিজ যুগে মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, "এই রাসূলগণ—আমি তাদের কাউকে কারো ওপর মর্যাদা দান করেছি।" এর মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যাঁদের সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন, যেমন মুসা (আঃ) এবং আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ)। এতে আল্লাহর কথা বলার গুণটি প্রমাণিত হয়—তিনি যেভাবে তাঁর শানের সাথে মানানসই, সেভাবেই তিনি কথা বলেন। আবার কাউকে তিনি উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যেমন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) যিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, তাঁর ওপর নবুওয়াতের ধারা শেষ হয়েছে এবং তাঁর উম্মতকে সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে।

এরপর আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁকে তিনি স্পষ্ট মু'জিযা বা অলৌকিক নিদর্শন দান করেছিলেন—যেমন জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আল্লাহর অনুমতিতে সুস্থ করা, মৃতকে জীবিত করা ইত্যাদি। আর তাঁকে পবিত্র রূহ জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী করেছিলেন, যাতে তিনি তাঁর দাওয়াতের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।

এরপর আল্লাহ তাআলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন—যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে রাসূলগণের পরে যারা এসেছিল তারা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরও পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ মানুষের ইচ্ছা ও পছন্দের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই তারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছে—কেউ ঈমান এনেছে, কেউ কুফরি করেছে। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তারা যুদ্ধ করত না, কিন্তু আল্লাহ যা চান তাই করেন—তিনি যাকে চান হিদায়াত দেন তাঁর অনুগ্রহে, আর যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন তাঁর ন্যায়বিচারে।

এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং রাসূলগণের পথ অনুসরণ করা। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা প্রতিটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আর যারা মতভেদ করে আল্লাহর বিধান থেকে বিচ্যুত হয়, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে। আল্লাহর রহমত ও হিদায়াত লাভের জন্য আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করা এবং রাসূলগণের আদর্শকে অনুসরণ করা।



📜 আয়াত 251-255 — সূরা আল-বাকারা

251فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ
তারপর ঈমানদাররা আল্লাহর হুকুমে জালূতের বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাউদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ দাউদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শিখালেন। আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।
252تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ ۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, যা আমরা তোমাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে থাকি। আর আপনি নিশ্চিতই আমার রসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।
253۞ تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ اللَّهُ ۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ ۚ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِن بَعْدِهِم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَٰكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُم مَّنْ آمَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ
এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে কেউ তো হলো তারা যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আর কারও মর্যাদা উচ্চতর করেছেন এবং আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রকৃষ্ট মু’জেযা দান করেছি এবং তাকে শক্তি দান করেছি ‘রুহূল কুদ্দুস’ অর্থৎ জিবরাঈলের মাধ্যমে। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা পরস্পর লড়াই করতো, কিন্তু আল্লাহ তাই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।
254يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ ۗ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
255اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
253আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 253

সূরা আল-বাকারা আয়াত 253 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এই রসূলগণ-আমি তাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা দিয়েছি। তাদের মধ্যে…

সূরা আয়াত 253/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 251–255. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না