Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- রিবা (الرِّبَا): মূলধনের অতিরিক্ত যা সুদ হিসেবে নেওয়া হয়।
- يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ: শয়তান তাকে আঘাত করে, অর্থাৎ জিনের স্পর্শে সে পাগল হয়ে যায়।
- الْمَسِّ: জিনের স্পর্শ বা উন্মাদনা।
- مَوْعِظَةٌ: উপদেশ, সতর্কবাণী।
- فَانتَهَى: বিরত থাকা, নিবৃত্ত হওয়া।
- مَا سَلَفَ: যা আগে হয়ে গেছে (অতীতের আমল)।
- خَالِدُونَ: চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী।
তাফসীর:
যারা রিবা (সুদ) খায়, তারা কিয়ামতের দিন কবর থেকে এমনভাবে উঠবে, যেমনভাবে উঠে সেই ব্যক্তি, যাকে শয়তান স্পর্শ করে উন্মাদ বানিয়ে দিয়েছে। সে হোঁচট খেতে খেতে, এদিক-ওদিক হেলে-দুলে, পাগলের মতো উঠবে। কেননা, দুনিয়ায় তারা রিবাকে হালাল মনে করত এবং বলত: “বেচাকেনা তো রিবার মতোই! দুটোই তো লাভের উপায়, দুটোই তো হালাল!” কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাদের এই ভুল ধারণা খণ্ডন করে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন: “আল্লাহ বেচাকেনাকে হালাল করেছেন এবং রিবাকে হারাম করেছেন।”
অর্থাৎ, বেচাকেনা ও রিবার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বেচাকেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য লাভ-লোকসানের সম্ভাবনা থাকে, সমাজের জন্য কল্যাণ থাকে। কিন্তু রিবা হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে একজন পুঁজির মালিক অন্যের শ্রম ও প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে তার সম্পদ বৃদ্ধি করে নেয়, ফলে সমাজে বৈষম্য ও শোষণ সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহ তা’আলা বেচাকেনাকে হালাল করেছেন, কিন্তু রিবাকে সম্পূর্ণ হারাম করেছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত বিধান।
এখন, যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই উপদেশ ও সতর্কবাণী পৌঁছেছে, অর্থাৎ রিবার হারাম হওয়ার কথা জানতে পেরেছে, অতঃপর সে রিবা থেকে বিরত হয়েছে এবং তওবা করেছে, তাহলে তার জন্য ক্ষমা রয়েছে। যা কিছু সে আগে (হারাম ঘোষণার আগে) নিয়েছে, তা তার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তার ব্যাপারটি আল্লাহর উপর সোপর্দ। আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন, আর চাইলে তার হিসাব নেবেন। তবে যে ব্যক্তি তওবা করে সৎকাজ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দয়ালু।
আর যে ব্যক্তি এই সতর্কবাণী পৌঁছার পরও আবার রিবায় ফিরে যায়, রিবাকে হালাল মনে করে বা জেনে-শুনে তা খেতে থাকে, তাহলে সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে এবং সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, যে মুমিন রিবাকে হারাম জানে কিন্তু দুর্বলতার কারণে রিবা খেয়ে ফেলে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাবে না; বরং তার শাস্তি হবে সাময়িক। চিরস্থায়ী শাস্তি কেবল তাদের জন্য, যারা রিবাকে হালাল মনে করে বা কুফরি করে।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! দেখুন, আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য কত সুন্দর ও সহজ পথ বেছে দিয়েছেন। তিনি আমাদের জন্য হালাল উপার্জনের অসংখ্য দরজা খুলে রেখেছেন, আর হারামকে নিষিদ্ধ করেছেন আমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যই। রিবা শুধু দুনিয়ার জীবনকে ধ্বংস করে না, বরং আখিরাতের চিরন্তন সাফল্যকেও নষ্ট করে দেয়। আসুন, আমরা সবাই রিবা থেকে দূরে থাকি, হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রিবার মতো ধ্বংসাত্মক পাপ থেকে হেফাজত করুন এবং হালাল রিজিকে বরকত দিন। আমিন।
📜 আয়াত 273-277 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 275
সূরা আল-বাকারা আয়াত 275 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয়…সূরা আয়াত 275/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 273–277. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আল-বাকারা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না


