আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(और जब आदम को) ये हुक्म दिया था कि यहाँ से उतर पड़ो (तो भी कह दिया था कि) अगर तुम्हारे पास मेरी तरफ़ से हिदायत आए तो (उसकी पैरवी करना क्योंकि) जो लोग मेरी हिदायत पर चलेंगे उन पर (क़यामत) में न कोई ख़ौफ होगा
আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
اهْبِطُوا – তোমরা নেমে যাও, অবতরণ কর।
هُدًى – পথনির্দেশ, সঠিক পথের দিশা (যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল ও কিতাবের মাধ্যমে আসে)।
خَوْفٌ – ভয় (ভবিষ্যতের কোনো বিপদ বা শাস্তির আশঙ্কা)।
يَحْزَنُونَ – দুঃখিত হওয়া (অতীতের কোনো ক্ষতি বা প্রিয় বস্তু হারানোর কারণে)।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ), হাওয়া (আঃ) এবং শয়তানকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়ে বললেন: “তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও।” এরপর তিনি ঘোষণা দিলেন যে, আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অবশ্যই পথনির্দেশ আসবে—রাসূলদের মাধ্যমে এবং আসমানী কিতাবের মাধ্যমে। যারা এই পথনির্দেশ অনুসরণ করবে, অর্থাৎ ঈমান আনবে এবং নবী-রাসূলদের আনুগত্য করবে, তাদের জন্য কোনো ভয় নেই—আখিরাতের কঠিন মুহূর্তগুলোতে তারা নিরাপদ থাকবে। আর তারা দুঃখিতও হবে না—দুনিয়ার কোনো হারানো সম্পদ, মর্যাদা বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আফসোস করতে হবে না। কারণ, আল্লাহর পথে চলার বিনিময়ে তারা এমন কিছু পাবে যা দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।
এই নির্দেশটি আদম (আঃ)-এর বংশধরদের জন্যও প্রযোজ্য—যতদিন দুনিয়ায় মানুষ আসবে, ততদিন এই হেদায়াতের ঘোষণা কার্যকর থাকবে। যে কেউ এই হেদায়াতকে আঁকড়ে ধরবে, সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় শান্তি পাবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর পক্ষ থেকে পথনির্দেশই是人类 জীবনের একমাত্র নিরাপদ পথ। যারা এই পথে চলে, তারা কখনো পথভ্রষ্ট হয় না।
মুমিনের জীবনে ভয় ও দুশ্চিন্তার আসল কারণ হলো আল্লাহ থেকে দূরে থাকা। আর আল্লাহর কাছাকাছি থাকলে অন্তর প্রশান্ত থাকে, ভবিষ্যতের চিন্তায় মন খারাপ হয় না।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার ক্ষতি-বঞ্চনা নিয়ে আফসোস করা উচিত নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আসল সফলতা।
আল্লাহর রহমত অপরিসীম—ভুল করার পরও তিনি পথ দেখান এবং তওবা করার সুযোগ দেন। আদম (আঃ)-এর ঘটনা আমাদের শেখায়, ভুল থেকে ফিরে এলে আল্লাহ ক্ষমা করেন এবং নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত শান্তি (নিরাপত্তা ও আনন্দ) কেবল আল্লাহর হেদায়াত মেনে চলার মাধ্যমেই সম্ভব—দুনিয়ার সম্পদ, পদ-মর্যাদা বা সামাজিক অবস্থান দ্বারা নয়।
অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।
অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।
হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।