Wa maa asaabakum yawmal taqal jam`aani fabiiznil laahi wa liya`lamal mu`mineen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর যেদিন দু’দল সৈন্যের মোকাবিলা হয়েছে; সেদিন তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তা আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে এবং তা এজন্য যে, তাতে ঈমানদারদিগকে জানা যায়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और जिस दिन दो जमाअतें आपस में गुंथ गयीं उस दिन तुम पर जो मुसीबत पड़ी वह तुम्हारी शरारत की वजह से (ख़ुदा के इजाजत की वजह से आयी) और ताकि ख़ुदा सच्चे ईमान वालों को देख ले
আর যেদিন দু’দল সৈন্যের মোকাবিলা হয়েছে; সেদিন তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তা আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে এবং তা এজন্য যে, তাতে ঈমানদারদিগকে জানা যায়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَصَابَكُمْ = তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে (ক্ষত-বিক্ষত হওয়া, নিহত হওয়া, পরাজয়)।
يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ = যে দিন দুটি দল মুখোমুখি হয়েছিল (মুসলিম ও মুশরিক বাহিনী) — অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধের দিন।
فَبِإِذْنِ اللَّهِ = তা আল্লাহর অনুমতি, ইচ্ছা, জ্ঞান ও তাকদীরের মাধ্যমেই ঘটেছে।
وَلِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ = এবং যাতে আল্লাহ প্রকাশ করে দেন (বাস্তবে) ঈমানদারদেরকে।
তাফসীর:
উহুদ যুদ্ধের দিনটি ছিল পরীক্ষার দিন। সে দিন মুসলিম ও মুশরিক — এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথমে মুসলিমরা বিজয় লাভ করেছিল, কিন্তু পরে কিছু তীরন্দাজের নির্দেশ অমান্য করার কারণে পরাজয় ও ক্ষয়ক্ষতি তাদেরকে গ্রাস করে। বহু সাহাবী শহীদ হন, অনেকে আহত হন এবং কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের সান্ত্বনা ও শিক্ষা দিচ্ছেন যে, যা কিছু ঘটেছে — তা আকস্মিক, অনিয়ন্ত্রিত বা কাকতালীয় ছিল না। বরং সবকিছু আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান, ইচ্ছা, তাকদীর ও হিকমত অনুযায়ী সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহ পূর্ব থেকেই জানতেন কে প্রকৃত মুমিন, কে মুনাফিক, কে ধৈর্যশীল আর কে অস্থিরচিত্ত। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি সেই গোপন বিষয়কে বাস্তব জগতে প্রকাশ করে দিলেন — যাতে সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে যায় কে সত্যিকারের ঈমানদার, কে কেবল মুখে ঈমান দাবি করে।
অর্থাৎ, এই পরাজয় ও কষ্ট ছিল একটি পরীক্ষা ও মানদণ্ড — যার মাধ্যমে মুমিন ও মুনাফিকের পার্থক্য ফুটে ওঠে, এবং মুমিনদের ঈমান, ধৈর্য ও আনুগত্যের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের জীবনে প্রতিটি ঘটনা — ভালো হোক বা মন্দ — আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের অধীনে ঘটে। তাই বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা উচিত।
বিপদ-আপদ মুমিনের জন্য পরীক্ষা; এর মাধ্যমে আল্লাহ তার ঈমানের গভীরতা যাচাই করেন এবং মুনাফিকদের থেকে মুমিনদের আলাদা করেন।
এই শিক্ষা আমাদের অন্তরে এই বিশ্বাস দৃঢ় করে যে, আল্লাহর পরিকল্পনা অত্যন্ত নিখুঁত; যা আমরা বুঝি না, তাতেও আমাদের জন্য কল্যাণ থাকতে পারে।
উহুদের ঘটনা আমাদের শেখায় — আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই বিজয়ের চাবিকাঠি; আর নির্দেশ অমান্য করলে বিপদ আসবেই, তবে তাতেও আল্লাহর হিকমত লুকানো থাকে।
এই আয়াত মুমিনকে প্রশান্তি দেয় — কোনো কষ্টই অনর্থক নয়; প্রতিটি কষ্টের বিনিময় আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত, এবং তা ঈমানের উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।
যখন তোমাদের উপর একটি মুসীবত এসে পৌছাল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে পৌছে গিয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এল? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌছেছে তোমারই পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।
এবং তাদেরকে যাতে সনাক্ত করা যায় যারা মুনাফিক ছিল। আর তাদেরকে বলা হল এসো, আল্লাহর রাহে লড়াই কর কিংবা শত্রুদিগকে প্রতিহত কর। তারা বলেছিল, আমরা যদি জানতাম যে, লড়াই হবে, তাহলে অবশ্যই তোমাদের সাথে থাকতাম। সে দিন তারা ঈমানের তুলনায় কুফরীর কাছাকাছি ছিল। যা তাদের অন্তরে নেই তারা নিজের মুখে সে কথাই বলে বস্তুতঃআল্লাহ ভালভাবে জানেন তারা যা কিছু গোপন করে থাকে।
ওরা হলো যে সব লোক, যারা বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বদ্ধে বলে, যদি তারা আমাদের কথা শুনত, তবে নিহত হত না। তাদেরকে বলে দিন, এবার তোমাদের নিজেদের উপর থেকে মৃত্যুকে সরিয়ে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।