Wa maa kaana limu`mininw wa laa mu`minatin izaa qadal laahu wa Rasooluhooo amran ai yakoona lahumul khiyaratu min amrihim; wa mai ya`sil laaha wa Rasoolahoo faqad dalla dalaalam mubeenaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और न किसी ईमानदार मर्द को ये मुनासिब है और न किसी ईमानदार औरत को जब खुदा और उसके रसूल किसी काम का हुक्म दें तो उनको अपने उस काम (के करने न करने) अख़तेयार हो और (याद रहे कि) जिस शख्स ने खुदा और उसके रसूल की नाफरमानी की वह यक़ीनन खुल्लम खुल्ला गुमराही में मुब्तिला हो चुका
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قَضَى — নির্ধারণ করা, ফয়সালা করা, আদেশ দেওয়া।
الْخِيَرَةُ — ইখতিয়ার, পছন্দ করার স্বাধীনতা, বেছে নেওয়ার অধিকার।
কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য শোভনীয় নয়—বরং তাদের জন্য বৈধও নয়—যখন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন, তখন তাদের জন্য নিজেদের পছন্দমতো অন্য কিছু বেছে নেওয়ার কোনো অবকাশ থাকে না। অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ যখন স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন মুমিনের কর্তব্য হলো তা মাথা পেতে মেনে নেওয়া, নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে প্রাধান্য না দেওয়া।
এই আয়াতের শানে নুযূল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাচাতো ভাই যায়েদ ইবনে হারেছা (রাঃ)-কে তাঁর চাচাতো বোন যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)-এর সাথে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যায়নাব (রাঃ) প্রথমে এ বিয়েতে আগ্রহী ছিলেন না, কারণ তিনি মনে করতেন তাঁর মর্যাদা যায়েদ (রাঃ)-এর চেয়ে বেশি। তখন এই আয়াত নাযিল হয় যে, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, তখন কারো নিজের পছন্দের কোনো স্থান নেই। এরপর যায়নাব (রাঃ) তা মেনে নেন এবং বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে এবং নিজের মনমতো চলতে চায়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়—সে সরল পথ থেকে বহু দূরে সরে যায় এবং তার বিভ্রান্তি এতটাই স্পষ্ট যে, তা কোনো বুদ্ধিমান মানুষের কাছে গোপন থাকে না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের জীবনের মূলনীতি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের কাছে নিজের ইচ্ছাকে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করা। এটাই ঈমানের প্রকৃত দাবি।
নিজের পছন্দ-অপছন্দকে শরিয়তের নির্দেশের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ঈমানের পরিপন্থী এবং তা মানুষকে ধীরে ধীরে পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়।
ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে আল্লাহর আদেশ মানা আবশ্যক—কোনো লিঙ্গভেদ নেই। এতে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতা ও মানবতার প্রতি সম্মান প্রকাশ পায়।
আল্লাহর সিদ্ধান্তে প্রায়ই মানুষের অজানা কল্যাণ লুকানো থাকে। যা আমরা ভালো মনে করি, তাতে ক্ষতি হতে পারে; আর যা আমরা খারাপ মনে করি, তাতেই আমাদের মঙ্গল থাকতে পারে। তাই আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামে আনুগত্যের কোনো শর্ত নেই—শর্তহীনভাবে আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ মেনে নেওয়াই মুমিনের পরিচয়। এতে করেই মানুষ প্রকৃত শান্তি ও সফলতা লাভ করে।
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।
আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।
আল্লাহ নবীর জন্যে যা নির্ধারণ করেন, তাতে তাঁর কোন বাধা নেই পূর্ববর্তী নবীগণের ক্ষেত্রে এটাই ছিল আল্লাহর চিরাচরিত বিধান। আল্লাহর আদেশ নির্ধারিত, অবধারিত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।