Afaman sharahal laahu sadrahoo lil Islaami fahuwa `alaa noorim mir Rabbih; fa wailul lilqaasiyati quloobuhum min zikril laah; ulaaa`ika fee dalaalim mubeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तो क्या वह शख्स जिस के सीने को खुदा ने (क़ुबूल) इस्लाम के लिए कुशादा कर दिया है तो वह अपने परवरदिगार (की हिदायत) की रौशनी पर (चलता) है मगर गुमराहों के बराबर हो सकता है अफसोस तो उन लोगों पर है जिनके दिल खुदा की याद से (ग़ाफ़िल होकर) सख्त हो गए हैं
আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
شَرَحَ اللهُ صَدْرَهُ — আল্লাহ তার বক্ষ প্রশস্ত করে দিয়েছেন (অর্থাৎ অন্তরকে সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন)।
لِلْإِسْلَامِ — ইসলাম গ্রহণ করার জন্য, ইসলামের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করার জন্য।
عَلَىٰ نُورٍ — আলোর উপর রয়েছে, অর্থাৎ স্পষ্ট জ্ঞান ও হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।
الْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم — যাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেছে, আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ।
ضَلَالٍ مُبِينٍ — সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।
তাফসীর:
যে ব্যক্তির বক্ষ আল্লাহ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন—অর্থাৎ তার অন্তরকে সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন, যাতে সে ইসলামকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছে এবং তার অনুগত হয়েছে—সে কি তার সমান হতে পারে যে এরূপ নয়? কখনোই না। এই ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে আগত স্পষ্ট নূর বা আলোর উপর রয়েছে, অর্থাৎ সে তার দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও নিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী। তার অন্তর আলোকিত, তার পথ পরিষ্কার, এবং সে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত।
অপরদিকে, যাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেছে এবং আল্লাহর জিকির থেকে দূরে সরে গেছে—যখন তাদের কাছে আল্লাহর কথা বলা হয়, তখন তাদের অন্তর আরও শক্ত হয়ে যায় এবং তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে—তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংস ও দুর্ভোগ। এরা সত্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত এবং স্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত। এ দুই শ্রেণীর মানুষ কখনো সমান হতে পারে না; একজন মুক্তিপ্রাপ্ত, অন্যজন ক্ষতিগ্রস্ত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তর প্রশস্ত হওয়া একটি বড় নেয়ামত। যখন কেউ ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার অন্তর সত্যের প্রতি উন্মুক্ত হয়, তখন সে প্রকৃত শান্তি ও আলোকিত জীবন লাভ করে।
হিদায়াত লাভ করা সম্পূর্ণ আল্লাহর দান। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে হিদায়াত ও অন্তর প্রশস্ত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা।
অন্তরের কঠোরতা একটি মারাত্মক রোগ। আল্লাহর জিকির থেকে দূরে থাকলে অন্তর শক্ত হয়ে যায় এবং সত্য গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই আমাদের সর্বদা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা উচিত।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ঈমানদার ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কখনো সমান নয়। ঈমানদারের জন্য রয়েছে সম্মান ও সাফল্য, আর সত্য প্রত্যাখ্যানকারীর জন্য রয়েছে ধ্বংস ও ব্যর্থতা।
অন্তরকে নরম রাখার জন্য কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির এবং সৎকর্মশীলদের সাহচর্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এগুলোই অন্তরকে জীবিত রাখে এবং তাকে আলোর পথে পরিচালিত করে।
কিন্তু যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্যে নির্মিত রয়েছে প্রাসাদের উপর প্রাসাদ। এগুলোর তলদেশে নদী প্রবাহিত। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্দ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর আল্লাহ তাকে খড়-কুটায় পরিণত করে দেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।
আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে।
আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।