আন-নিসা · 89/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً ۖ فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ ۖ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا ۝٨٩
Wadoo law takfuroona kamaa kafaroo fatakoonoona sawaaa`an falaa tattakhizoo minhum awliyaaa`a hattaa yuhaajiroo fee sabeelil laah; fa in tawallaw fa khuzoohum waqtuloohum haisu wajat tumoohum wa laa tattakhizoo minhum waliyyanw wa laa naseeraa
📖 বাংলা অর্থ
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَدُّوا – তারা কামনা করেছে, চেয়েছে।
  • تَكْفُرُونَ – তোমরা কুফরি করো (অস্বীকার করো)।
  • سَوَاءً – সমান, একই পর্যায়ে।
  • أَوْلِيَاءَ – বন্ধু, অভিভাবক, সাহায্যকারী।
  • يُهَاجِرُوا – হিজরত করে (আল্লাহর পথে)।
  • تَوَلَّوْا – তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিমুখ হয়।
  • خُذُوهُمْ – তাদেরকে বন্দি করো।
  • نَصِيرًا – সহায়কারী, মিত্র।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে মুনাফিকদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। মুনাফিকরা যারা ইসলাম গ্রহণের পর আবার কুফরির দিকে ফিরে গিয়েছিল, তারা অন্তর থেকে চায় যে, তোমরাও (মুমিনগণ) তেমনি কুফরি করো, যেমন তারা কুফরি করেছে। তাদের এই কামনা এইজন্য যে, তাহলে তোমরা তাদের সাথে কুফরির ব্যাপারে সমান হয়ে যাবে এবং তাদের মতোই জাহান্নামের উপযুক্ত হবে। তারা চায় না যে, তোমরা ঈমানের উপর অটল থাকো এবং তাদের চেয়ে উত্তম অবস্থানে থাকো।

অতএব, আল্লাহ মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এই মুনাফিকদেরকে কখনো বন্ধু বা অভিভাবক বানাবে না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর পথে সত্যিকারের হিজরত করে। অর্থাৎ, তারা যেন কুফরির পরিবেশ ত্যাগ করে ইসলামের পরিবেশে চলে আসে এবং তাদের ঈমানের সত্যতা প্রমাণ করে। হিজরতই তাদের ঈমানের প্রমাণ।

এরপর আল্লাহ বলেন, যদি তারা ঈমান ও হিজরত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কুফরি ও শত্রুতার উপরই অটল থাকে, তাহলে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও, বন্দি করো এবং হত্যা করো। তবে এই নির্দেশ তাদের জন্য, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আর তোমরা তাদের কাউকে বন্ধু বানাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করবে না। কারণ তারা তোমাদের প্রকৃত শত্রু এবং তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।


ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):

  1. মুনাফিক ও কাফিরদের প্রকৃত শত্রুতা সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে। তারা কখনো মুমিনদের মঙ্গল কামনা করে না, বরং তারা চায় মুমিনরাও ঈমান থেকে বিচ্যুত হোক।
  2. ঈমানের দাবি কেবল মুখে বলা নয়, বরং এর প্রমাণ প্রয়োজন। হিজরত বা আল্লাহর পথে ত্যাগ-তিতিক্ষা ঈমানের সত্যতার একটি বড় প্রমাণ।
  3. শত্রুদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ইসলামের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব বা মিত্রতা মুমিনের জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলাম গ্রহণ করে।
  4. ইসলাম শত্রুর মোকাবিলায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে এই কঠোরতা ন্যায়বিচার ও আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতে, অন্যায় আগ্রাসনের ভিত্তিতে নয়।
  5. মুমিনের পরিচয় হলো, সে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে এবং কাফির-মুনাফিকদের থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা থাকে। এই পৃথকতা তার ঈমান ও চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।


📜 আয়াত 87-91 — সূরা আন-নিসা

87اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا
আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!
88۞ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوا ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
89وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً ۖ فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ ۖ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
90إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىٰ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَاقٌ أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ ۚ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا
কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি।
91سَتَجِدُونَ آخَرِينَ يُرِيدُونَ أَن يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوا إِلَى الْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا فِيهَا ۚ فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّوا أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ۚ وَأُولَٰئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
89আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 89

সূরা আন-নিসা আয়াত 89 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে…

সূরা আয়াত 89/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 87–91. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না