Wadoo law takfuroona kamaa kafaroo fatakoonoona sawaaa`an falaa tattakhizoo minhum awliyaaa`a hattaa yuhaajiroo fee sabeelil laah; fa in tawallaw fa khuzoohum waqtuloohum haisu wajat tumoohum wa laa tattakhizoo minhum waliyyanw wa laa naseeraa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
उन लोगों की ख्वाहिश तो ये है कि जिस तरह वह काफ़िर हो गए तुम भी काफ़िर हो जाओ ताकि तुम उनके बराबर हो जाओ पस जब तक वह ख़ुदा की राह में हिजरत न करें तो उनमें से किसी को दोस्त न बनाओ फिर अगर वह उससे भी मुंह मोड़ें तो उन्हें गिरफ्तार करो और जहॉ पाओ उनको क़त्ल करो और उनमें से किसी को न अपना दोस्त बनाओ न मददगार
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
وَدُّوا – তারা কামনা করেছে, চেয়েছে।
تَكْفُرُونَ – তোমরা কুফরি করো (অস্বীকার করো)।
سَوَاءً – সমান, একই পর্যায়ে।
أَوْلِيَاءَ – বন্ধু, অভিভাবক, সাহায্যকারী।
يُهَاجِرُوا – হিজরত করে (আল্লাহর পথে)।
تَوَلَّوْا – তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিমুখ হয়।
خُذُوهُمْ – তাদেরকে বন্দি করো।
نَصِيرًا – সহায়কারী, মিত্র।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে মুনাফিকদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। মুনাফিকরা যারা ইসলাম গ্রহণের পর আবার কুফরির দিকে ফিরে গিয়েছিল, তারা অন্তর থেকে চায় যে, তোমরাও (মুমিনগণ) তেমনি কুফরি করো, যেমন তারা কুফরি করেছে। তাদের এই কামনা এইজন্য যে, তাহলে তোমরা তাদের সাথে কুফরির ব্যাপারে সমান হয়ে যাবে এবং তাদের মতোই জাহান্নামের উপযুক্ত হবে। তারা চায় না যে, তোমরা ঈমানের উপর অটল থাকো এবং তাদের চেয়ে উত্তম অবস্থানে থাকো।
অতএব, আল্লাহ মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এই মুনাফিকদেরকে কখনো বন্ধু বা অভিভাবক বানাবে না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর পথে সত্যিকারের হিজরত করে। অর্থাৎ, তারা যেন কুফরির পরিবেশ ত্যাগ করে ইসলামের পরিবেশে চলে আসে এবং তাদের ঈমানের সত্যতা প্রমাণ করে। হিজরতই তাদের ঈমানের প্রমাণ।
এরপর আল্লাহ বলেন, যদি তারা ঈমান ও হিজরত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং কুফরি ও শত্রুতার উপরই অটল থাকে, তাহলে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও, বন্দি করো এবং হত্যা করো। তবে এই নির্দেশ তাদের জন্য, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আর তোমরা তাদের কাউকে বন্ধু বানাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করবে না। কারণ তারা তোমাদের প্রকৃত শত্রু এবং তাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।
ফায়দা (শিক্ষা ও উপদেশ):
মুনাফিক ও কাফিরদের প্রকৃত শত্রুতা সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে। তারা কখনো মুমিনদের মঙ্গল কামনা করে না, বরং তারা চায় মুমিনরাও ঈমান থেকে বিচ্যুত হোক।
ঈমানের দাবি কেবল মুখে বলা নয়, বরং এর প্রমাণ প্রয়োজন। হিজরত বা আল্লাহর পথে ত্যাগ-তিতিক্ষা ঈমানের সত্যতার একটি বড় প্রমাণ।
শত্রুদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ইসলামের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব বা মিত্রতা মুমিনের জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলাম গ্রহণ করে।
ইসলাম শত্রুর মোকাবিলায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে এই কঠোরতা ন্যায়বিচার ও আল্লাহর নির্দেশের ভিত্তিতে, অন্যায় আগ্রাসনের ভিত্তিতে নয়।
মুমিনের পরিচয় হলো, সে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে এবং কাফির-মুনাফিকদের থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা থাকে। এই পৃথকতা তার ঈমান ও চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি।
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।