আন-নিসা · 88/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
۞ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوا ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا ۝٨٨
Famaa lakum filmuna afiqeena fi`ataini wallaahu arkasahum bimaa kasaboo; atureedoona an tahdoo man adallal laahu wa mmai yudlilil laahu falan tajida lahoo sabeelaa
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فِئَتَيْنِ — দুটি দল বা দুটি সম্প্রদায়।
  • أَرْكَسَهُم — তিনি তাদেরকে উল্টে দিয়েছেন অর্থাৎ কুফর ও গোমরাহীর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
  • أَضَلَّ اللَّهُ — যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন।
  • سَبِيلًا — কোনো পথ বা উপায়।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হলো যে, তোমরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গেলে? একটি দল বলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, কারণ তারা কুফরী করেছে; অপর দল বলে তাদেরকে ছেড়ে দাও, কারণ তারা মুখে ঈমান এনেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের মন্দ কর্মের কারণে কুফর ও গোমরাহীর গভীরে নিমজ্জিত করে দিয়েছেন। তারা ইসলাম গ্রহণের পর আবার কুফরের দিকে ফিরে গেছে, তাই তাদেরকে মুমিন মনে করার কোনো অবকাশ নেই।

তোমরা কি তাদেরকে হিদায়াত দিতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ নিজেই পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য হিদায়াতের কোনো পথই নেই। আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশের বাইরে কারো হিদায়াত দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। সুতরাং মুনাফিকদের ব্যাপারে মতভেদ না করে তাদেরকে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান করো এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকো।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুনাফিক ও কাফেরদের ব্যাপারে মুমিনদের একীভূত অবস্থান থাকা আবশ্যক; মতভেদ দুর্বলতা সৃষ্টি করে।
  2. হিদায়াত ও গোমরাহী সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যাকে চান হিদায়াত দেন, যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন, তাঁর জ্ঞান ও ন্যায়বিচার অনুযায়ী।
  3. মানুষের প্রতি দায়িত্ব হলো সত্য প্রচার করা, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে। তাই কারো ঈমান আনা বা না আনা নিয়ে হতাশ বা বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
  4. মন্দ কর্ম ও পাপ মানুষকে হিদায়াত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং অন্তরকে কঠোর করে তোলে। তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকা ঈমান রক্ষার পূর্বশর্ত।
  5. ইসলামের শত্রুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং তাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া মুমিনের কর্তব্য; তাদের প্রতি নরম হওয়া বা তাদেরকে মুমিন ভাবা ভুল।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 86-90 — আন-নিসা

86وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।
87اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۗ وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا
আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!
88۞ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ وَاللَّهُ أَرْكَسَهُم بِمَا كَسَبُوا ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَهْدُوا مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُ سَبِيلًا
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
89وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً ۖ فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّىٰ يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ ۖ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
90إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىٰ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَاقٌ أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ ۚ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا
কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
88আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 88

সূরা আন-নিসা আয়াত 88 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে…

সূরা আয়াত 88/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 86–90. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না