আশ-শুরা · 22/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
تَرَى الظَّالِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا كَسَبُوا وَهُوَ وَاقِعٌ بِهِمْ ۗ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ ۖ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ ۝٢٢
Taraz zaalimeena mushfiqeena mimmaa kasaboo wa huwa waaqi`um bihim; wallazeena aamanoo wa `amilus saalihaati fee rawdaatil jannaati lahum maa yashaaa`oona `inda Rabbihim; zaalika huwal fadlul kabeer
📖 বাংলা অর্থ
আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُشْفِقِينَ — ভয়ভীতু, সশঙ্কিত।
  • رَوْضَاتِ — উদ্যানসমূহ, সবুজ-শ্যামল বাগান।
  • الْفَضْلُ الْكَبِيرُ — মহান অনুগ্রহ, যা কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না।

তাফসীর:

হে নবী! আপনি কিয়ামতের দিন দেখবেন যে, যালিমরা (মুশরিক ও পাপীগণ) নিজেদের কৃতকর্মের শাস্তির ভয়ে আতঙ্কিত, আর সেই শাস্তি তাদের উপর অবশ্যম্ভাবীভাবে নেমে আসবে—তারা ভয় করুক বা না করুক, তা থেকে বাঁচার কোনো উপায় তাদের নেই। কারণ, তারা দুনিয়ায় যে শিরক ও পাপাচার করেছে, তার প্রতিফল তাদেরকে পেতেই হবে। অন্যদিকে, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন—তারা জান্নাতের মনোরম উদ্যানসমূহে থাকবে, সেখানে তাদের রবের কাছে তারা যা কিছু চাইবে বা যা কিছু কামনা করবে, তা-ই তাদের জন্য উপস্থিত থাকবে। এটাই সেই মহান অনুগ্রহ, যা দুনিয়ার যাবতীয় সুখ-সম্ভোগের ঊর্ধ্বে এবং যা কোনো বুদ্ধি বা চিন্তা দিয়ে কল্পনা করাও সম্ভব নয়।

ফায়দা (শিক্ষা):

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাওবা করা এবং সৎকর্ম করা—শুধু ভয় দেখালেই কোনো লাভ হবে না, যতক্ষণ না অন্তর থেকে পাপ পরিত্যাগ করা হয়।
  2. ঈমান ও সৎকর্মের ফল হলো জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামত, যেখানে বান্দার প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ হবে—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি অপরিসীম দয়া ও করুণার নিদর্শন।
  3. এই আয়াত মুমিনদের মনে আশা জাগায় যে, দুনিয়ার কষ্ট-ক্লেশ যতই হোক না কেন, আখিরাতের সাফল্যই আসল সাফল্য। তাই আমাদের উচিত ধৈর্য ধরে সৎকর্ম করা এবং আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাস রাখা।
  4. এটি আমাদেরকে শেখায় যে, আল্লাহর ন্যায়বিচার নিখুঁত—যালিমরা তাদের কর্মের ফল পাবে, আর নেককাররা তাদের উত্তম প্রতিদান পাবে। তাই আমাদের প্রতিটি কাজে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে আছে।


📜 আয়াত 20-24 — সূরা আশ-শুরা

20مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ
যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।
21أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
22تَرَى الظَّالِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا كَسَبُوا وَهُوَ وَاقِعٌ بِهِمْ ۗ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ ۖ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ
আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার।
23ذَٰلِكَ الَّذِي يُبَشِّرُ اللَّهُ عِبَادَهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ۗ قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَىٰ ۗ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُ فِيهَا حُسْنًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ
এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
24أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۖ فَإِن يَشَإِ اللَّهُ يَخْتِمْ عَلَىٰ قَلْبِكَ ۗ وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ وَيُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
নাকি তারা একথা বলে যে, তিনি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করেছেন? আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনার অন্তরে মোহর এঁটে দিতেন। বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তর্নিহিত বিষয় সম্পর্কে সর্বিশেষ জ্ঞাত।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
22আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 22

সূরা আশ-শুরা আয়াত 22 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি…

সূরা আয়াত 22/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 20–24. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না