এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
यही (ईनाम) है जिसकी ख़ुदा अपने उन बन्दों को ख़ुशख़बरी देता है जो ईमान लाए और नेक काम करते रहे (ऐ रसूल) तुम कह दो कि मैं इस (तबलीग़े रिसालत) का अपने क़रातबदारों (अहले बैत) की मोहब्बत के सिवा तुमसे कोई सिला नहीं मांगता और जो शख़्श नेकी हासिल करेगा हम उसके लिए उसकी ख़ूबी में इज़ाफा कर देंगे बेशक वह बड़ा बख्शने वाला क़दरदान है
এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يَقْتَرِفْ – অর্জন করা, উপার্জন করা (ভালো বা মন্দ যে কোনো কাজই হোক; এখানে ভালো কাজের প্রসঙ্গে ব্যবহৃত)।
حَسَنَةً – সৎকর্ম, পুণ্যকাজ।
نَزِدْ لَهُ فِيهَا حُسْنًا – আমরা তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেব।
شَكُورٌ – অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যে সামান্য ভালো কাজেরও পুরস্কার দেন এবং তা গ্রহণ করেন।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! এই ঘোষণা—যা জান্নাত, নেয়ামত ও চিরস্থায়ী সুখের সুসংবাদ—সেটিই হলো সেই প্রতিশ্রুতি যা আল্লাহ তাঁর সেই বান্দাদের দিচ্ছেন যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে। তাদের জন্যই এই মহান সুসংবাদ।
এরপর আল্লাহ নবী (সা.)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে তিনি যেন কাফির ও মুশরিকদের বলে দেন: “আমি তোমাদের কাছে এই দ্বীনের দাওয়াত ও কুরআন পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে কোনো পার্থিব প্রতিদান বা ধন-সম্পদ চাই না। আমার একটিই প্রত্যাশা—তোমরা আমার আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে আমার প্রতি ভালোবাসা রাখো এবং আমার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” অর্থাৎ, তিনি তাদের কাছে কোনো জাগতিক স্বার্থ চান না; বরং তাঁর দাবি হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং তাঁর প্রতি সদিচ্ছা পোষণ করা—যা তাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর।
এরপর আল্লাহ ঘোষণা করছেন: যে ব্যক্তি একটি সৎকর্ম করে, আমি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেব—একটি নেকির বিনিময়ে দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত, এমনকি আল্লাহ যাকে চান তার চেয়েও বেশি। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল—তিনি তাঁর বান্দাদের ভুল-ত্রুটি ও পাপ ক্ষমা করেন যখন তারা তওবা করে; এবং তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ—তিনি সামান্য ভালো কাজেরও মূল্য দেন এবং তার প্রতিদান দিতে কখনো ভুলে যান না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ঈমান ও সৎকর্মই হলো আল্লাহর সুসংবাদ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি ঈমান আনে এবং ভালো কাজ করে, তার জন্য রয়েছে জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের প্রতিশ্রুতি।
নবী (সা.)-এর দাওয়াত ছিল সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। তিনি মানুষের কাছ থেকে কোনো পার্থিব লাভ চাননি; বরং তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল মানুষের কল্যাণ ও হিদায়াত। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামের প্রচার-প্রসার কখনো জাগতিক স্বার্থের জন্য হয় না।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং নবী পরিবারের প্রতি ভালোবাসা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি মজবুত করে।
আল্লাহর দয়া অপরিসীম—একটি ছোট ভালো কাজও তিনি বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। এটি মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে এবং আশা জাগায় যে আল্লাহর কাছে কোনো পুণ্যকর্মই নষ্ট হয় না।
আল্লাহ ক্ষমাশীল ও কৃতজ্ঞ—তিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং ভালো কাজের প্রতিদান দেন। এটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভরসা সৃষ্টি করে এবং তাকে তওবা ও সৎকর্মে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করে।
তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার।
এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
নাকি তারা একথা বলে যে, তিনি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করেছেন? আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনার অন্তরে মোহর এঁটে দিতেন। বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তর্নিহিত বিষয় সম্পর্কে সর্বিশেষ জ্ঞাত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।