আশ-শুরা · 21/53
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুরা
أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ۝٢١
Am lahum shurakaaa`u shara`oo lahum minad deeni maa lam yaazam bihil laah; wa law laa kalimatul fasli laqudiya bainahum; wa innaz zaalimeena lahum `azaabun aleem
📖 বাংলা অর্থ
তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شُرَكَاءُ — অংশীদার, শরিক (এখানে মিথ্যা উপাস্য বা শয়তানদের বোঝানো হয়েছে)।
  • شَرَعُوا — বিধান প্রবর্তন করেছে, আইন প্রণয়ন করেছে।
  • مِنَ الدِّينِ — দীন বা ধর্মের মধ্যে থেকে।
  • كَلِمَةُ الْفَصْلِ — চূড়ান্ত ফয়সালার সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেওয়ার পূর্বঘোষিত ফরমান।
  • لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ — তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত (শাস্তি দ্রুত নেমে আসত)।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সেই ভ্রান্ত পথের নিন্দা করেছেন, যেখানে তারা নিজেদের মনগড়া কিছু বিধান দীন বলে চালিয়ে দেয়। প্রশ্ন হিসেবে বলা হচ্ছে— তাদের কি এমন কোনো শরিক বা অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য এমন ধর্মীয় বিধান প্রবর্তন করেছে যা আল্লাহ অনুমোদন করেননি? অর্থাৎ তারা শিরক, হারামকে হালাল করা, হালালকে হারাম করা—এসব কিছুই নিজেদের পক্ষ থেকে দীন বানিয়ে নিয়েছে, অথচ আল্লাহ তাআলা এসবের কোনো অনুমতি দেননি। শয়তানরা তাদের এই মিথ্যা বিধানগুলো সুশোভিত করে দেখিয়েছে এবং তারা সেগুলোকে আল্লাহর বিধান বলে মানতে শুরু করেছে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলছেন— যদি না পূর্ব থেকে নির্ধারিত চূড়ান্ত ফয়সালার সময় (কিয়ামত) নির্ধারিত থাকত, তবে দুনিয়াতেই তাদের ও মুমিনদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত এবং তাদের শাস্তি দ্রুত নেমে আসত। কিন্তু আল্লাহর প্রজ্ঞা অনুযায়ী তাদের অবকাশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা তাওবা করার সুযোগ পায়। তবে এই অবকাশ তাদেরকে নিরাপদ মনে করার কারণ নয়— যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে (শিরক ও গুনাহের মাধ্যমে), তাদের জন্য আখিরাতে অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষমান।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. দীন বা ধর্মের বিধান একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই গ্রহণ করতে হবে। কারও মনগড়া মতামত, সমাজের প্রচলিত রীতি বা পূর্বপুরুষের পথ—এসব দীন হতে পারে না, যদি তা আল্লাহর অনুমোদন না থাকে।
  2. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা; এতে নতুন কিছু সংযোজন বা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে ধর্মে নতুন বিধান চালু করে, সে মূলত আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্বের অপরাধ করছে।
  3. আল্লাহর অবকাশকে তার শাস্তির অভাব মনে করা উচিত নয়। দুনিয়ায় শাস্তি না এলেও আখিরাতের শাস্তি নিশ্চিত এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হবে।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট; মুমিনদের কর্তব্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করা এবং মনগড়া কোনো মতবাদ থেকে দূরে থাকা।
  5. আল্লাহর রহমত ও দয়ায় তিনি মানুষকে তাওবার সুযোগ দিয়েছেন, তাই প্রতিটি মানুষকে উচিত নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর অনুমোদিত পথেই চলা।


📜 আয়াত 19-23 — আশ-শুরা

19اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ ۖ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।
20مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ ۖ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ
যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।
21أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۗ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
22تَرَى الظَّالِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا كَسَبُوا وَهُوَ وَاقِعٌ بِهِمْ ۗ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فِي رَوْضَاتِ الْجَنَّاتِ ۖ لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ
আপনি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীতসন্ত্রস্ত দেখবেন। তাদের কর্মের শাস্তি অবশ্যই তাদের উপর পতিত হবে। আর যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তারা জান্নাতের উদ্যানে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাই তাদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে। এটাই বড় পুরস্কার।
23ذَٰلِكَ الَّذِي يُبَشِّرُ اللَّهُ عِبَادَهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ۗ قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَىٰ ۗ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُ فِيهَا حُسْنًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ
এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
21আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 21

সূরা আশ-শুরা আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে…

সূরা আয়াত 21/53 — আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুরা শুনুন, আশ-শুরা অনুবাদ, আশ-শুরা mp3, আশ-শুরা pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না