আল-মায়িদা · 49/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
وَأَنِ ٱحۡكُم بَيۡنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَلَا تَتَّبِعۡ أَهۡوَآءَهُمۡ وَٱحۡذَرۡهُمۡ أَن يَفۡتِنُوكَ عَنۢ بَعۡضِ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيۡكَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَٱعۡلَمۡ أَنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعۡضِ ذُنُوبِهِمۡۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلنَّاسِ لَفَٰسِقُونَ  ۝٤٩
Wa anih kum bainahum bimaaa anzalal laahu wa laa tattabi` ahwaaa`ahum wahzarhum ai yaftinooka `am ba`di maaa anzalal laahu ilaika fa in tawallaw fa`lam annamaa yureedul laahu ai yuseebahum biba`di zunoobihim; wa inna kaseeram minan naasi lafaasiqoon
📖 বাংলা অর্থ
আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَاحْذَرْهُمْ – তাদের থেকে সতর্ক থাকুন।
  • يَفْتِنُوكَ – তোমাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে, তোমাকে সত্য থেকে সরিয়ে দেয়।
  • تَوَلَّوْا – তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিমুখ হয়।
  • لَفَاسِقُونَ – নিশ্চয়ই তারা সীমালঙ্ঘনকারী, অবাধ্য।

তাফসীর:

হে নবী! আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি তাদের (ইয়াহুদীদের) মধ্যে সেই আইন অনুযায়ী বিচার করুন যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন, অর্থাৎ কুরআনের বিধান অনুযায়ী। আপনি তাদের খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, কারণ তারা নিজেদের মনগড়া বিধান ও রীতি-নীতি আপনার উপর চাপিয়ে দিতে চায়। আর তাদের থেকে সতর্ক থাকুন—তারা চেষ্টা করবে যেন আপনাকে আল্লাহর নাযিলকৃত কোনো বিধান থেকে বিচ্যুত করে ফেলে, কোনো অংশে আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা এ কাজে কোনো প্রকার গাফিলতি করবে না, সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

এরপর যদি তারা আপনার দেওয়া ফয়সালা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রাখুন—আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু গুনাহের কারণে দুনিয়াতেই শাস্তি দিতে চান। অর্থাৎ তাদের এই বিমুখতা ও জিদের কারণে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়াতেই লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার করবেন, আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। নিশ্চয়ই অনেক মানুষ—বিশেষ করে ইয়াহুদী সম্প্রদায়—আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেছে, তারা সীমালঙ্ঘনকারী ও অবাধ্য।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. বিচারক বা নেতার জন্য সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করা; ব্যক্তি স্বার্থ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা বৈধ নয়।
  2. মানুষের প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশি অনেক সময় সত্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে; তাই প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে দূরে থাকা জরুরি।
  3. সত্যের পথে অবিচল থাকার সময় শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকা দরকার; তারা যেকোনো উপায়ে মানুষকে সত্য থেকে সরাতে চায়।
  4. আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান করলে দুনিয়াতেও শাস্তি আসতে পারে; এটি আল্লাহর রহমত যে তিনি অপরাধীদের দুনিয়াতেই কিছু শাস্তি দিয়ে সতর্ক করেন, যেন তারা তাওবা করে।
  5. ইসলামের বিধান সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য এবং তা মানুষের কল্যাণের জন্যই নাযিল হয়েছে; তাই এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের ঈমানের দাবি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 47-51 — আল-মায়িদা

47وَلۡيَحۡكُمۡ أَهۡلُ ٱلۡإِنجِيلِ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فِيهِۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ 
ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।
48وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَمُهَيۡمِنًا عَلَيۡهِۖ فَٱحۡكُم بَيۡنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۖ وَلَا تَتَّبِعۡ أَهۡوَآءَهُمۡ عَمَّا جَآءَكَ مِنَ ٱلۡحَقِّۚ لِكُلٍّ جَعَلۡنَا مِنكُمۡ شِرۡعَةً وَمِنۡهَاجًاۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَكُمۡ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَلَٰكِن لِّيَبۡلُوَكُمۡ فِي مَآ ءَاتَىٰكُمۡۖ فَٱسۡتَبِقُواْ ٱلۡخَيۡرَٰتِۚ إِلَى ٱللَّهِ مَرۡجِعُكُمۡ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ فِيهِ تَخۡتَلِفُونَ 
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
49وَأَنِ ٱحۡكُم بَيۡنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَلَا تَتَّبِعۡ أَهۡوَآءَهُمۡ وَٱحۡذَرۡهُمۡ أَن يَفۡتِنُوكَ عَنۢ بَعۡضِ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيۡكَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَٱعۡلَمۡ أَنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعۡضِ ذُنُوبِهِمۡۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلنَّاسِ لَفَٰسِقُونَ 
আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।
50أَفَحُكۡمَ ٱلۡجَٰهِلِيَّةِ يَبۡغُونَۚ وَمَنۡ أَحۡسَنُ مِنَ ٱللَّهِ حُكۡمًا لِّقَوۡمٍ يُوقِنُونَ 
তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?
51۞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ ٱلۡيَهُودَ وَٱلنَّصَٰرَىٰٓ أَوۡلِيَآءَۘ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٍۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمۡ فَإِنَّهُۥ مِنۡهُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ 
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
49আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 49

সূরা আয়াত 49/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 47–51. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না