Wa anzalnaa ilaikal Kitaaba bilhaqqi musaddiqallimaa baina yadaihi minal Kitaabi wa muhaiminan `alaihi fahkum bainahum bimaa anzalal laahu wa laa tattabi ahwaaa`ahum `ammaa jaaa`aka minal haqq; likullin ja`alnaa minkum shir`atanw wa minhaajaa; wa law shaaa`al laahu laja`alakum ummatanw waahidatanw wa laakil liyabluwakum fee maa aataakum fastabiqul khairaat; ilal laahi arji`ukum jamee`an fayunab bi`ukum bimaa kuntum feehi takhtalifoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल) हमने तुम पर भी बरहक़ किताब नाज़िल की जो किताब (उसके पहले से) उसके वक्त में मौजूद है उसकी तसदीक़ करती है और उसकी निगेहबान (भी) है जो कुछ तुम पर ख़ुदा ने नाज़िल किया है उसी के मुताबिक़ तुम भी हुक्म दो और जो हक़ बात ख़ुदा की तरफ़ से आ चुकी है उससे कतरा के उन लोगों की ख्वाहिशे नफ़सियानी की पैरवी न करो और हमने तुम में हर एक के वास्ते (हस्बे मसलेहते वक्त) एक एक शरीयत और ख़ास तरीक़े पर मुक़र्रर कर दिया और अगर ख़ुदा चाहता तो तुम सब के सब को एक ही (शरीयत की) उम्मत बना देता मगर (मुख़तलिफ़ शरीयतों से) ख़ुदा का मतलब यह था कि जो कुछ तुम्हें दिया है उसमें तुम्हारा इमतेहान करे बस तुम नेकी में लपक कर आगे बढ़ जाओ और (यक़ीन जानो कि) तुम सब को ख़ुदा ही की तरफ़ लौट कर जाना है
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
مُهَيْمِنًا — তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষক ও সত্যায়নকারী।
شِرْعَةً — শরীয়ত, অর্থাৎ আমলি বিধি-বিধান।
مِنْهَاجًا — স্পষ্ট পথ, জীবন-পদ্ধতি বা সুস্পষ্ট রীতি।
لِيَبْلُوَكُمْ — তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য।
فَاسْتَبِقُوا — তোমরা প্রতিযোগিতা কর, দ্রুত অগ্রসর হও।
তাফসীর:
হে নবী! আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কুরআন নাযিল করেছি। এটি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর উপর তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ, কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের মধ্যে যা সত্য ও অপরিবর্তিত রয়েছে তা স্বীকার করে, আর যা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে তা প্রকাশ করে দেয় এবং সেগুলোর বিধানের উপর কর্তৃত্বশীল। সুতরাং আহলে কিতাবদের মধ্যে যখন তারা আপনার কাছে বিচার প্রার্থনা করবে, তখন আপনি আল্লাহ যা নাযিল করেছেন (কুরআন) তা দিয়েই তাদের মধ্যে বিচার করুন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না।
প্রতিটি উম্মতের জন্য আমি একটি করে শরীয়ত (আমলি বিধান) এবং একটি স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি। মূল বিষয় তথা তাওহীদ ও ঈমানের ক্ষেত্রে সবাই এক, তবে আমলি বিধিবিধানে ভিন্নতা রয়েছে। আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে সবাইকে একই শরীয়তের উপর এক উম্মত করে দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, বরং বিভিন্ন উম্মতকে বিভিন্ন শরীয়ত দিয়েছেন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন—কে তাঁর নির্দেশ মেনে চলে এবং কে তা অমান্য করে। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর কাজে দ্রুত অগ্রসর হও এবং ভালো কাজে প্রতিযোগিতা কর। তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকেই। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তোমাদেরকে সেই বিষয়ের সত্যতা জানিয়ে দেবেন, যাতে তোমরা মতভেদ করতে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কুরআন সর্বশেষ ও চূড়ান্ত আসমানী কিতাব। এটি পূর্ববর্তী সব কিতাবের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর উপর কর্তৃত্বশীল। তাই একজন মুমিনের জন্য কুরআনই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
বিচার-ফয়সালা ও পারস্পরিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অবশ্যই আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসরণ করতে হবে। নিজের প্রবৃত্তি বা কারো খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা যাবে না।
শরীয়তের বিধান ভিন্ন হলেও মূল দ্বীন তথা তাওহীদ ও ঈমানের ক্ষেত্রে সব নবী-রাসূলের শিক্ষা এক ও অভিন্ন। এতে কোনো বিরোধ নেই।
আল্লাহর বিধানে ভিন্নতা মানুষের জন্য পরীক্ষা। প্রতিটি মানুষ তার আমল অনুযায়ী ফল পাবে। তাই আমাদের কর্তব্য ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করা, অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।
সব মতভেদের চূড়ান্ত মীমাংসা হবে আল্লাহর কাছে। কিয়ামতের দিন তিনি সত্য-মিথ্যা স্পষ্ট করে দেবেন এবং প্রত্যেককে তার কাজের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ায় সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলা।
আমি তাদের পেছনে মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। এটি পূর্ববতী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়ন করে পথ প্রদর্শন করে এবং এটি খোদাভীরুদের জন্যে হেদায়েত উপদেশ বানী।
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।