তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আফাহুকমাল জাহিলিয়্যাহ – তবে কি তারা জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে?
ইয়াবগুন – তারা চায়, অন্বেষণ করে।
আহসানু – আরও উত্তম, আরও ন্যায়সংগত।
হুকমান – বিধান, ফয়সালা।
লিকাওমিন ইউক্বিনুন – সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সব লোকদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞাপূর্ণ ফয়সালা মেনে নিতে রাজি ছিল না, বরং তারা তাদের পূর্বপুরুষদের সেই জাহিলি যুগের রীতিনীতি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিধানই খুঁজে বেড়াত। প্রশ্ন করা হচ্ছে—তারা কি সত্যিই অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার সেই পুরোনো বিধানকে কামনা করছে? অথচ আল্লাহ তাআলার বিধানই হলো সর্বোচ্চ ন্যায়, সর্বোত্তম ফয়সালা এবং মানুষের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।
যারা অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে, তারা ভালো করেই জানে যে, আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা আর কেউ হতে পারে না। কারণ আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই জানেন তাঁর বান্দাদের জন্য কী কল্যাণকর আর কী ক্ষতিকর। তাঁর বিধান মানুষের মনের চাওয়া-পাওয়া বা সমাজের প্রচলিত রীতির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা চিরন্তন সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে জাহিলিয়্যাতের বিধান মানুষের মনগড়া, যেখানে রয়েছে অন্যায়, বৈষম্য ও বিভ্রান্তি।
শিক্ষা ও উপদেশ:
একজন মুমিনের জীবনে সর্বদা আল্লাহর বিধানই চূড়ান্ত। মানুষের তৈরি আইন বা সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি যদি আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী হয়, তবে তা গ্রহণ করা ঈমানের পরিপন্থী।
আল্লাহর বিধানই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ তিনি সৃষ্টিকর্তা, তাই তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রকৃত স্বভাব সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন।
প্রকৃত ঈমানদার সেই, যে আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে এবং মনে-প্রাণে মেনে নেয় যে, আল্লাহর ফয়সালার চেয়ে উত্তম ফয়সালা আর কারও হতে পারে না।
জাহিলিয়্যাতের দিকে ফিরে যাওয়া মানে অন্ধকারের দিকে ফিরে যাওয়া। ইসলাম আমাদেরকে আলো ও ন্যায়ের পথ দেখায়, তাই আমাদের উচিত সব বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (ﷺ) নির্দেশকে প্রাধান্য দেওয়া।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সমাজের কোনো প্রচলিত অন্যায় রীতি বা কুসংস্কারকে আল্লাহর বিধানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। ইসলামের আলোয় আমরা যতই এগিয়ে যাব, ততই আমাদের জীবন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।
আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।
বস্তুতঃ যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, তাদেরকে আপনি দেখবেন, দৌড়ে গিয়ে তাদেরই মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বলেঃ আমরা আশঙ্কা করি, পাছে না আমরা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হই। অতএব, সেদিন দুরে নয়, যেদিন আল্লাহ তা’আলা বিজয় প্রকাশ করবেন অথবা নিজের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ দেবেন-ফলে তারা স্বীয় গোপন মনোভাবের জন্যে অনুতপ্ত হবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।