আল-আরাফ · 169/206
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আরাফ
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَٰذَا الْأَدْنَىٰ وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ ۚ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَّا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ ۗ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ۝١٦٩
Fakhalafa mim ba`dihim khalfunw warisul Kitaaba yaa khuzoona `arada haazal adnaa wa yaqooloona sayughfaru lanaa wa iny yaatihim `aradum misluhoo yaakhuzooh; alam yu`khaz `alaihim `aradum misluhoo yaakhuzooh; alam yu`khaz `alaihim meesaaqul Kitaabi al laa yaqooloo `alal laahi illal haqqa wa darasoo maa feeh; wad Daarul Aakhirtu khairul lillazeena yattaqoon; afalaa ta`qiloon
📖 বাংলা অর্থ
তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে। তাদের কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয় ভীতদের জন্য উত্তম-তোমরা কি তা বোঝ না ?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • خَلَفٌ (খালাফ) — অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম; এখানে উদ্দেশ্য সেই দুষ্ট প্রজন্ম যারা পূর্ববর্তী নেক বান্দাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল।
  • عَرَضَ (আরাদ) — পার্থিব সামগ্রী, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ।
  • الأَدْنَى (আল-আদনা) — নিকৃষ্ট, তুচ্ছ, নিম্নমানের।
  • مِيثَاق (মীসাক) — অঙ্গীকার, চুক্তি, প্রতিশ্রুতি।
  • دَرَسُوا (দারাসূ) — তারা পড়েছে, অধ্যয়ন করেছে, ভালোভাবে জেনেছে।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের কথা উল্লেখ করার পর বলছেন যে, তাদের পরে এমন এক অপদার্থ ও দুষ্ট প্রজন্ম এলো, যারা তাওরাতের উত্তরাধিকারী হলো। তারা কিতাব পড়ত, কিন্তু তার বিধান অনুযায়ী আমল করত না। তারা দুনিয়ার তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট সম্পদ লাভের জন্য কিতাবের বিধান বিকৃত করত, ঘুষ গ্রহণ করত এবং নিজেদের মনগড়া ফতোয়া দিত। আর তারা এও বলত যে, "আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে" — অথচ তারা গুনাহের উপর অটল থাকত এবং বারবার একই ধরনের গুনাহ করতে থাকত। যদি আবারও দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ তাদের সামনে আসত, তবে তারা তা গ্রহণ করত এবং গুনাহের পুনরাবৃত্তি করত।

আল্লাহ তাআলা তাদের এই আচরণকে তিরস্কার করে বলছেন: তাদের কাছে কি তাওরাতে অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? তারা তো কিতাব পড়েছে এবং এর মধ্যে যা আছে তা ভালোভাবে জেনেছে। তারপরও তারা জেনে-শুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলছে এবং তাঁর ক্ষমা সম্পর্কে মিথ্যা আশা পোষণ করছে। অথচ আল্লাহর ক্ষমা তো তাওবাকারীদের জন্য, আর যারা গুনাহের উপর অটল থাকে তাদের জন্য নয়।

এরপর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, আখিরাতের স্থায়ী নিয়ামত তাদের জন্য উত্তম যারা তাকওয়া অবলম্বন করে — অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকে। দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী সম্পদের তুলনায় আখিরাতের স্থায়ী সুখ-শান্তি অনেক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করছেন: তোমরা কি বুঝ না? তোমরা কি বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করবে না যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা উত্তম ও চিরস্থায়ী?


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. কিতাব পড়া বা জ্ঞান অর্জন করা যথেষ্ট নয়; বরং জ্ঞান অনুযায়ী আমল করাই আসল উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি জানে কিন্তু আমল করে না, তার অবস্থা ইয়াহুদীদের মতো — যাদেরকে আল্লাহ তিরস্কার করেছেন।
  2. দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদের জন্য ধর্মীয় বিধান বিকৃত করা বা নিজের ঈমান-আখলাক নষ্ট করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। মুমিনের উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদের চেয়ে আখিরাতের স্থায়ী পুরস্কারকে প্রাধান্য দেওয়া।
  3. আল্লাহর ক্ষমা সম্পর্কে মিথ্যা আশা পোষণ করা এবং গুনাহের উপর অটল থেকে "ক্ষমা হয়ে যাবে" বলা — এটি শয়তানের ধোঁকা। প্রকৃত ক্ষমা লাভের জন্য তাওবা করা আবশ্যক, আর তাওবা মানে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া এবং ফিরে না যাওয়া।
  4. জ্ঞানী ব্যক্তির উপর বড় দায়িত্ব হলো — সে যা জানে তা অনুযায়ী আমল করা এবং অন্যদেরকেও সঠিক পথ দেখানো। জেনে-শুনে ভুল করলে তার শাস্তি আরও কঠিন।
  5. তাকওয়াই সফলতার চাবিকাঠি। যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, তাদের জন্যই আখিরাতে রয়েছে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি। দুনিয়ার সম্পদ যতই হোক না কেন, তা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু আখিরাতের নিয়ামত চিরস্থায়ী।
  6. বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করা এবং চিন্তা-গবেষণা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন যেন তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং সঠিক পথ বেছে নেয়।


📜 আয়াত 167-171 — সূরা আল-আরাফ

167وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ ۗ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ ۖ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
168وَقَطَّعْنَاهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَمًا ۖ مِّنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَبَلَوْنَاهُم بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।
169فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَٰذَا الْأَدْنَىٰ وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ ۚ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَّا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ ۗ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে। তাদের কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয় ভীতদের জন্য উত্তম-তোমরা কি তা বোঝ না ?
170وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ
আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মীদের সওয়াব।
171۞ وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
আর যখন আমি তুলে ধরলাম পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে, সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে পার।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
169আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 169

সূরা আল-আরাফ আয়াত 169 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের;…

সূরা আয়াত 169/206 — সূরা আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আরাফ শুনুন, সূরা আল-আরাফ অনুবাদ, সূরা আল-আরাফ mp3, সূরা আল-আরাফ pdf. আয়াত 167–171. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না