Innal lazeena aamanoo wa haajaroo wa jaahadoo bi amwaalihim wa anfusihim fee sabeelil laahi wallazeena aawaw wa nasarooo ulaaa`ika ba`duhum awliyaaa`u ba`d; wallazeena aamanoo wa lam yuhaajiroo maa lakum minw walaayatihim min shai`in hatta yuhaajiroo; wa inistan sarookum fid deeni fa`alaiku munnasru illaa `alaa qawmim bainakum wa bainahum meesaaq; wallaahu bimaa ta`maloona Baseer
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जिन लोगों ने ईमान क़ुबूल किया और हिजरत की और अपने अपने जान माल से ख़ुदा की राह में जिहाद किया और जिन लोगों ने (हिजरत करने वालों को जगह दी और हर (तरह) उनकी ख़बर गीरी (मदद) की यही लोग एक दूसरे के (बाहम) सरपरस्त दोस्त हैं और जिन लोगों ने ईमान क़ुबूल किया और हिजरत नहीं की तो तुम लोगों को उनकी सरपरस्ती से कुछ सरोकार नहीं-यहाँ तक कि वह हिजरत एख्तियार करें और (हॉ) मगर दीनी अम्र में तुम से मदद के ख्वाहॉ हो तो तुम पर (उनकी मदद करना लाज़िम व वाजिब है मगर उन लोगों के मुक़ाबले में (नहीं) जिनमें और तुममें बाहम (सुलह का) एहदो पैमान है और जो कुछ तुम करते हो ख़ुदा (सबको) देख रहा है
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
آوَوا — আশ্রয় দিয়েছে, স্থান দিয়েছে।
نَصَرُوا — সাহায্য করেছে, সমর্থন করেছে।
وَلَايَتِهِم — তাদের সাথে বন্ধুত্ব, সাহায্য ও উত্তরাধিকারের সম্পর্ক।
مِيثَاقٌ — চুক্তি, অঙ্গীকার।
اسْتَنصَرُوكُمْ — তারা তোমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মধ্যে সম্পর্ক ও দায়িত্বের ভিত্তি নির্ধারণ করেছেন। যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ি ও স্বজন ত্যাগ করে হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে—অর্থাৎ মুহাজিররা—আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে সাহায্য করেছে—অর্থাৎ আনসাররা—এই দুই দলই পরস্পরের বন্ধু, সাহায্যকারী ও অভিভাবক। তাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকবে। ঈমান ও হিজরতের এই বন্ধনই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি, এমনকি আত্মীয়তার সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী।
অপরদিকে, যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি—অর্থাৎ কুফরি পরিবেশে থেকে গেছে—তাদের সাথে তোমাদের কোনো বন্ধুত্ব, সাহায্য বা উত্তরাধিকারের সম্পর্ক নেই, যতক্ষণ না তারা হিজরত করে তোমাদের সাথে মিলিত হয়। কারণ হিজরত না করা পর্যন্ত তারা ইসলামী সমাজের পূর্ণ সদস্য হিসেবে গণ্য হবে না এবং তাদের প্রতি তোমাদের বিশেষ দায়িত্বও নেই।
তবে যদি এই মুমিনরা (যারা হিজরত করেনি) দ্বীনের ব্যাপারে অত্যাচারিত হয় এবং তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তাহলে তাদের সাহায্য করা তোমাদের ওপর কর্তব্য। কিন্তু যদি তাদের ওপর অত্যাচারকারী সম্প্রদায়ের সাথে তোমাদের কোনো চুক্তি থাকে, তাহলে সেই চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না। কারণ চুক্তি পালন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ।
আল্লাহ তাআলা সবকিছু দেখেন এবং প্রত্যেকের নিয়ত ও কাজ অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। তিনি জানেন কে প্রকৃত ঈমানদার, কে আন্তরিকভাবে সাহায্য করে এবং কে কেবল মুখে দাবি করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলামে ঈমান, হিজরত ও জিহাদের বন্ধনই মুমিনদের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপন করে—জাতি, গোত্র বা রক্তের সম্পর্ক নয়।
মুমিনদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা; একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
ইসলামী সমাজ গঠনে হিজরতের গুরুত্ব অপরিসীম—নিজের নিরাপত্তা ও দ্বীন পালনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি পালন করা ইসলামের অপরিহার্য বিধান; এমনকি শত্রুর সাথেও চুক্তি থাকলে তা সম্মান করতে হবে।
আল্লাহর দৃষ্টি সবকিছুর ওপর—তিনি আমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সব কাজ সম্পর্কে অবগত; তাই আমাদের নিয়ত ও আমলকে পবিত্র রাখতে হবে।
হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আর যদি তারা তোমার সাথে প্রতারণা করতে চায়-বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সাথেও ইতিপূর্বে প্রতারণা করেছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত, সুকৌশলী।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।
আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।