Kallazeena min qablikum kaanoo ashadda minkum quwwatanw wa aksara amwaalanw wa awlaadan fastamta`oo bikhalaaqihim fastamta`tum bikhalaaqikum kamas tamta`al lazeena min qablikum bikhalaa qihim wa khudtum kallazee khaadooo; ulaaa`ika habitat a`maaluhum fid dunyaa wal Aakhirati wa ulaaa`ika humul khaasiroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন-সম্পদের ও সন্তান-সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী; অতঃপর উপকৃত হয়েছে নিজেদের ভাগের দ্বারা আবার তোমরা ফায়দা উঠিয়েছ তোমাদের ভাগের দ্বারা-যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ফায়দা উঠিয়েছিল নিজেদের ভাগের দ্বারা। আর তোমরাও বলছ তাদেরই চলন অনুযায়ী। তারা ছিল সে লোক, যাদের আমলসমূহ নিঃশেষিত হয়ে গেছে দুনিয়া ও আখেরাতে। আর তারাই হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुनाफिक़ो तुम्हारी तो) उनकी मसल है जो तुमसे पहले थे वह लोग तुमसे कूवत में (भी) ज्यादा थे और औलाद में (भी) कही बढ़ कर तो वह अपने हिस्से से भी फ़ायदा उठा हो चुके तो जिस तरह तुम से पहले लोग अपने हिस्से से फायदा उठा चुके हैं इसी तरह तुम ने अपने हिस्से से फायदा उठा लिया और जिस तरह वह बातिल में घुसे रहे उसी तरह तुम भी घुसे रहे ये वह लोग हैं जिन का सब किया धरा दुनिया और आख़िरत (दोनों) में अकारत हुआ और यही लोग घाटे में हैं
যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন-সম্পদের ও সন্তান-সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী; অতঃপর উপকৃত হয়েছে নিজেদের ভাগের দ্বারা আবার তোমরা ফায়দা উঠিয়েছ তোমাদের ভাগের দ্বারা-যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ফায়দা উঠিয়েছিল নিজেদের ভাগের দ্বারা। আর তোমরাও বলছ তাদেরই চলন অনুযায়ী। তারা ছিল সে লোক, যাদের আমলসমূহ নিঃশেষিত হয়ে গেছে দুনিয়া ও আখেরাতে। আর তারাই হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
خَلَاقِهِمْ – তাদের ভাগ্য, দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের অংশ।
خُضْتُمْ – তোমরা নিমগ্ন হয়েছ, অর্থাৎ মিথ্যা ও বাতিল কাজে ডুবে গেছ।
حَبِطَتْ – নিষ্ফল হয়ে গেছে, বিনষ্ট হয়ে গেছে।
তাফসীর:
হে মুনাফিকরা! তোমাদের অবস্থা ও আচরণ সেই পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মতো, যারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে ছিল প্রবলতর, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ছিল অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী। তারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মেতে উঠেছিল এবং তাদের নির্ধারিত অংশ থেকে পূর্ণরূপে আনন্দ উপভোগ করেছিল। ঠিক তেমনি তোমরাও (হে মুনাফিকরা!) তোমাদের নির্ধারিত দুনিয়ার অংশ থেকে ভোগ-বিলাসে মগ্ন হয়েছ, যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীরা করেছিল। আর তোমরাও সত্যকে অস্বীকার করে, রাসূলের বিরুদ্ধে অপবাদ রটিয়ে এবং বাতিল কাজে লিপ্ত হয়ে সেই পথেই ডুবে গেছ, যে পথে তারা ডুবেছিল।
এই মুনাফিকদের কর্মসমূহ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গাতেই নিষ্ফল হয়ে গেছে, কারণ তাদের অন্তরে ঈমান ছিল না এবং তাদের সব কাজ ছিল প্রতারণা ও কপটতার উপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে তারা দুনিয়াতেও কোনো কল্যাণ অর্জন করতে পারেনি এবং আখিরাতেও তাদের জন্য রয়েছে চরম ক্ষতি। তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসকে গ্রহণ করেছে এবং নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাস ও সম্পদের অহংকার কখনোই স্থায়ী নয়। পূর্ববর্তী শক্তিশালী ও সম্পদশালী জাতিগুলো আজ ইতিহাসের পাতায় কেবল একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ মাত্র।
মুনাফিকি ও কপটতা মানুষের সকল ভালো কাজকে বিনষ্ট করে দেয়। ঈমান ও আন্তরিকতা ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলের অনুসরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন করা। যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার মোহে আখিরাতকে ভুলে যায়, সে-ই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। পূর্ববর্তীদের ভুল পথ অনুসরণ করা কখনোই মঙ্গলজনক নয়; বরং তাদের পরিণাম থেকে সতর্ক হয়ে সঠিক পথে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার সাময়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেখে ধোঁকায় পড়া যাবে না। আসল পরীক্ষা হলো ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলা।
মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তার, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।
ওয়াদা করেছেন আল্লাহ, মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের-তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন-সম্পদের ও সন্তান-সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী; অতঃপর উপকৃত হয়েছে নিজেদের ভাগের দ্বারা আবার তোমরা ফায়দা উঠিয়েছ তোমাদের ভাগের দ্বারা-যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ফায়দা উঠিয়েছিল নিজেদের ভাগের দ্বারা। আর তোমরাও বলছ তাদেরই চলন অনুযায়ী। তারা ছিল সে লোক, যাদের আমলসমূহ নিঃশেষিত হয়ে গেছে দুনিয়া ও আখেরাতে। আর তারাই হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন।
তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল? তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে। বস্তুতঃ আল্লাহ তো এমন ছিলেন না যে, তাদের উপর জুলুম করতেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো।
আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।