আল-বাকারা · 193/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
وَقَٰتِلُوهُمۡ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتۡنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِۖ فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَلَا عُدۡوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ  ۝١٩٣
Wa qaatiloohum hatta laa takoona fitnatunw wa yakoonad deenu lillaahi fa-inin tahaw falaa `udwaana illaa `alaz zaalimeen
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।
📜

অনুবাদ — Tafsir

### معاني الكلمات:

  • ফিতনা: এখানে অর্থ শিরক, কুফর এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা।
  • দ্বীন: এখানে অর্থ ইবাদত, আনুগত্য ও দীন ইসলাম।
  • উদওয়ান: অর্থ জুলুম, সীমালঙ্ঘন বা অন্যায় আক্রমণ।
  • যালিমুন: যারা কুফর ও শিরকের ওপর অটল থাকে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে।

### تفسير الآية:

হে মুমিনগণ! তোমরা মুশরিক ও কাফিরদের সাথে জিহাদ চালিয়ে যেতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা (শিরক ও কুফর) সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য খাঁটি হয়ে যায়—অর্থাৎ ইবাদত ও আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর জন্যই হয়, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা না হয়। আর মানুষ যেন আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তারা শিরক, কুফর ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো। কারণ জুলুম ও আগ্রাসন কেবল তাদেরই বিরুদ্ধে বৈধ, যারা জুলুম ও কুফরের ওপর অটল থাকে এবং অন্যায়ভাবে আল্লাহর বান্দাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, আখিরাতে জালিমদের শাস্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার, তা জুলুম নয়; কিন্তু দুনিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা জুলুমেরই জবাব।

### فوائد:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামে যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য কখনোই মানুষ হত্যা বা সম্পদ লুণ্ঠন নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো ফিতনা দূর করা এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা। যুদ্ধ কেবল সেই পরিস্থিতিতেই বৈধ, যখন মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং আল্লাহর ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করা হয়।
  2. ইসলাম অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও সহনশীল। শত্রুরা যখন শান্তি চায় এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকে, তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি ইসলামের মানবতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রতিশোধ বা আগ্রাসন কেবল জালিমদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত; নিরপরাধ ও শান্তিকামী মানুষের প্রতি কোনো ধরনের জুলুম ইসলাম অনুমোদন করে না।
  4. মুমিনের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত করা। দুনিয়ার কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ যেন আমাদের কর্মপদ্ধতিকে প্রভাবিত না করে।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা ধৈর্য ও কৌশলের শিক্ষা পাই—যখন শত্রু সত্যের পথে ফিরে আসে, তখন তাদের গ্রহণ করা এবং সংঘাতের পথ পরিহার করা। এটি ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠার উচ্চ আদর্শকে তুলে ধরে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 191-195 — আল-বাকারা

191وَٱقۡتُلُوهُمۡ حَيۡثُ ثَقِفۡتُمُوهُمۡ وَأَخۡرِجُوهُم مِّنۡ حَيۡثُ أَخۡرَجُوكُمۡۚ وَٱلۡفِتۡنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلۡقَتۡلِۚ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمۡ عِندَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِيهِۖ فَإِن قَٰتَلُوكُمۡ فَٱقۡتُلُوهُمۡۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ 
আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।
192فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 
আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু।
193وَقَٰتِلُوهُمۡ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتۡنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِۖ فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَلَا عُدۡوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ 
আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।
194ٱلشَّهۡرُ ٱلۡحَرَامُ بِٱلشَّهۡرِ ٱلۡحَرَامِ وَٱلۡحُرُمَٰتُ قِصَاصٌۚ فَمَنِ ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡ فَٱعۡتَدُواْ عَلَيۡهِ بِمِثۡلِ مَا ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلۡمُتَّقِينَ 
সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা রয়েছে। বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর জবর দস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
195وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ وَأَحۡسِنُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ 
আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
193আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 193

সূরা আয়াত 193/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 191–195. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না