আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल) वह वाकेया भी याद करो जब इबराहीम ने (खुदा से) दरख्वास्त की कि ऐ मेरे परवरदिगार तू मुझे भी तो दिखा दे कि तू मुर्दों को क्योंकर ज़िन्दा करता है ख़ुदा ने फ़रमाया क्या तुम्हें (इसका) यक़ीन नहीं इबराहीम ने अर्ज़ की (क्यों नहीं) यक़ीन तो है मगर ऑंख से देखना इसलिए चाहता हूं कि मेरे दिल को पूरा इत्मिनान हो जाए फ़रमाया (अगर ये चाहते हो) तो चार परिन्दे लो और उनको अपने पास मॅगवा लो और टुकड़े टुकड़े कर डालो फिर हर पहाड़ पर उनका एक एक टुकड़ा रख दो उसके बाद उनको बुलाओ (फिर देखो तो क्यों कर वह सब के सब तुम्हारे पास दौड़े हुए आते हैं और समझ रखो कि ख़ुदा बेशक ग़ालिब और हिकमत वाला है
আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَصُرْهُنَّ – তাদেরকে নিজের দিকে টেনে নাও, অর্থাৎ জবাই করে টুকরো টুকরো করে মিশিয়ে ফেলো।
سَعْيًا – দ্রুতগতিতে ছুটে আসা।
لِيَطْمَئِنَّ – যাতে আমার অন্তর প্রশান্ত হয় ও নিশ্চিত হয়।
عَزِيزٌ – পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
حَكِيمٌ – প্রজ্ঞাময়, যিনি প্রতিটি কাজ প্রজ্ঞার সাথে করেন।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন ইবরাহীম (আঃ) তাঁর রবের কাছে নিবেদন করেছিলেন: “হে আমার রব! আমাকে দেখান, আপনি কীভাবে মৃতদের জীবিত করেন?” তখন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কি বিশ্বাস করো না?” ইবরাহীম (আঃ) উত্তরে বললেন: “অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি, হে আমার রব! কিন্তু আমি চাই আমার অন্তর যেন আরও প্রশান্ত হয় এবং আমার বিশ্বাস দৃঢ়তর হয়।” তখন আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিলেন: “তুমি চারটি পাখি নাও, সেগুলোকে নিজের কাছে ডেকে জবাই করে টুকরো টুকরো করো, তারপর সেগুলোর টুকরোগুলোকে চারপাশের বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। এরপর সেগুলোকে ডাকো, তারা তোমার কাছে দ্রুত ছুটে আসবে।” ইবরাহীম (আঃ) তাই করলেন। তিনি পাখিগুলোকে ডাকলেন, আর আল্লাহর কুদরতে প্রতিটি টুকরো নিজ নিজ জায়গায় ফিরে গিয়ে পাখিগুলো জীবিত হয়ে তাঁর কাছে ছুটে এলো। এতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে আল্লাহর কুদরত দেখতে পেলেন এবং তাঁর অন্তর পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ করল। আল্লাহ তাকে বললেন: “তুমি জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, তাঁর প্রতিটি কাজ হিকমতের সাথে সম্পন্ন হয়।”
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ঈমানের পরেও জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রশ্ন করা এবং জানার চেষ্টা করা প্রশংসনীয়। ইবরাহীম (আঃ) এর এই আকাঙ্ক্ষা ছিল অন্তরের প্রশান্তির জন্য, যা আমাদের জ্ঞান অন্বেষণে উৎসাহিত করে।
আল্লাহর কুদরত ও ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা এবং তাঁর নিদর্শনসমূহ পর্যবেক্ষণ করা ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।
আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে প্রার্থনা করা এবং নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করা কোনো দোষের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরও মধুর করে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কিয়ামতের দিন মৃতদের পুনরুত্থান অবশ্যই ঘটবে, কারণ আল্লাহ যিনি পাখিদের জীবিত করতে সক্ষম, তিনিই সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন।
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তিনি যা করেন, তা প্রজ্ঞার সাথে করেন।
তুমি কি সে লোককে দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল ইব্রাহীমের সাথে এ কারণে যে, আল্লাহ সে ব্যাক্তিকে রাজ্য দান করেছিলেন? ইব্রাহীম যখন বললেন, আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি। ইব্রাহীম বললেন, নিশ্চয়ই তিনি সুর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর। তখন সে কাফের হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ সীমালংঘণকারী সম্প্রদায়কে সরল পথ প্রদর্শন করেন না।
তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। বললেন, তাহলে চারটি পাখী ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও, অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ বিভিন্ন পাহাড়ের উপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাক; তোমার নিকট দৌড়ে চলে আসবে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি জ্ঞান সম্পন্ন।
যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি বীজের মত, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। প্রত্যেকটি শীষে একশ করে দানা থাকে। আল্লাহ অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।
যারা স্বীয় ধন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, এরপর ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার এবং তাদের কোন আশংকা নেই, তারা চিন্তিতও হবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।