Innal lazeena aamanoo wa amilus saalihaati wa aqaamus salaata wa aatawuz zakaata lahum ajruhum `inda rabbihim wa laa khawfun `alaihim wa laa hum yahzanoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(हॉ) जिन लोगों ने ईमान क़ुबूल किया और अच्छे-अच्छे काम किए और पाबन्दी से नमाज़ पढ़ी और ज़कात दिया किये उनके लिए अलबत्ता उनका अज्र व (सवाब) उनके परवरदिगार के पास है और (क़यामत में) न तो उन पर किसी क़िस्म का ख़ौफ़ होगा और न वह रन्जीदा दिल होंगे
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আমানু – ঈমান এনেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে।
আস-সালিহাত – সৎকর্মসমূহ, ভালো কাজ।
আকামুস-সালাহ – নামাজ প্রতিষ্ঠা করেছে, যথাযথভাবে আদায় করেছে।
আতাউজ-জাকাত – যাকাত প্রদান করেছে।
আজরুহুম – তাদের প্রতিদান, পুরস্কার।
খাওফ – ভয়।
হুযন – দুঃখ, অনুতাপ।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, যারা প্রকৃত ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর এবং তাঁর রাসূলের উপর, এবং সেই ঈমানের দাবি অনুযায়ী সৎকর্ম করেছে—অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করেছে, নামাজকে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে তার সব শর্ত, রুকন এবং আদবসহ, এবং নিজেদের সম্পদের যাকাত আদায় করেছে তা নির্ধারিত খাতে ব্যয় করে—তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের কাছে বিশেষ প্রতিদান। এই প্রতিদান তাদের জন্য সংরক্ষিত, যা অন্যদের সাথে ভাগাভাগি নয়। আর তাদের জন্য কোনো ভয় নেই আগামী দিনের কোনো বিপদ বা আখিরাতের কঠিন মুহূর্ত সম্পর্কে, এবং তারা দুঃখিত হবে না দুনিয়ার কোনো হারানো সুযোগ বা সম্পদের জন্য, কারণ তারা জানে যে আল্লাহর কাছে যা আছে তা-ই উত্তম ও স্থায়ী। এই আয়াতটি তাদের জন্য সুসংবাদ যারা ঈমান ও আমলকে একত্রিত করেছে, এবং এটি প্রমাণ করে যে প্রকৃত সাফল্য কেবল ঈমান ও সৎকর্মের সমন্বয়েই সম্ভব।
ফায়দা (উপকারিতা):
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ঈমানের সাথে সাথে সৎকর্ম করা অপরিহার্য। শুধু মুখে ঈমান বলা যথেষ্ট নয়, কাজ দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে।
নামাজ ও যাকাতকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক (নামাজ) এবং মানুষের সাথে সম্পর্ক (যাকাত) উভয়ই ইসলামের ভিত্তি। একজন মুমিনকে উভয় দিকেই যত্নবান হতে হবে।
মুমিনদের জন্য এটি একটি বড় সান্ত্বনা যে, দুনিয়ার কোনো ক্ষতি বা ভবিষ্যতের কোনো ভয় তাদেরকে পেরেশান করবে না, যদি তারা ঈমান ও সৎকর্মের পথে থাকে। আল্লাহ তাদের হেফাজত করবেন।
এই আয়াত আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে যে, দুনিয়ার সাময়িক সুখ-সম্পদের পেছনে ছুটে না গিয়ে, আল্লাহর কাছে স্থায়ী প্রতিদানের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে অফুরন্ত পুরস্কার রয়েছে।
যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।