La taj`aloo du`aaa`ar Rasooli bainakum kadu`aaa`i badikum ba`daa; qad ya`lamul laahul lazeena yatasallaloona minkum liwaazaa; fal yahzaril lazeena yukhaalifoona `an amriheee an tuseebahum fitnatun aw yuseebahum `azaabun aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ ईमानदारों) जिस तरह तुम में से एक दूसरे को (नाम ले कर) बुलाया करते हैं उस तरह आपस में रसूल का बुलाना न समझो ख़ुदा उन लोगों को खूब जानता है जो तुम में से ऑंख बचा के (पैग़म्बर के पास से) खिसक जाते हैं- तो जो लोग उसके हुक्म की मुख़ालफत करते हैं उनको इस बात से डरते रहना चाहिए कि (मुबादा) उन पर कोई मुसीबत आ पडे या उन पर कोई दर्दनाक अज़ाब नाज़िल हो
রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
دُعَاءَ الرَّسُولِ – রাসূলের ডাক বা আহ্বান।
يَتَسَلَّلُونَ – চুপিচুপি বের হয়ে যাওয়া, একে একে সরে পড়া।
لِوَاذًا – একে অপরের আড়ালে লুকিয়ে, গোপনে।
يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ – তার আদেশের বিরুদ্ধে যায়, তা অমান্য করে।
فِتْنَةٌ – বিপর্যয়, পরীক্ষা, ক্ষতিকর বিপদ।
عَذَابٌ أَلِيمٌ – যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তাফসীর:
হে মুমিনগণ! তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ডাকার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। তোমরা একে অপরকে যেমন নাম ধরে ডাকো—যেমন ‘হে অমুক!’ বা ‘হে অমুকের ছেলে!’—তেমনিভাবে তাকে ‘হে মুহাম্মাদ!’ বা ‘হে আবদুল্লাহর ছেলে!’ বলে ডেকো না। বরং তাকে সম্মান ও মর্যাদার সাথে ডাকো—‘হে আল্লাহর রাসূল!’, ‘হে আল্লাহর নবী!’ বলো। আর যখন তিনি কোনো বিষয়ে তোমাদের ডাকেন বা কোনো আদেশ দেন, তখন তা যেন তোমাদের নিজেদের মধ্যে সাধারণ ডাকের মতো হালকা না হয়; বরং সাথে সাথে সাড়া দাও এবং গুরুত্ব সহকারে তা পালন করো।
আল্লাহ তাআলা ভালো করেই জানেন যারা মুনাফিকের মতো রাসূলের মজলিস থেকে চুপিচুপি, একে অপরের আড়ালে লুকিয়ে, অনুমতি ছাড়া বেরিয়ে পড়ে। তারা মনে করে আল্লাহ তাদের কাজ দেখছেন না, কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
অতএব, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশের বিরুদ্ধে চলে, তার নির্দেশ অমান্য করে, তাদের উচিত ভয় করা—পাছে তাদের উপর কোনো বিপর্যয় বা কঠিন পরীক্ষা নেমে আসে, অথবা আখিরাতে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। এই ভয়ই তাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে।
ফায়দা (শিক্ষা):
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আদব ও সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানের অংশ। তাকে নাম ধরে না ডেকে সম্মানসূচক উপাধিতে ডাকা আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রমাণ।
রাসূলের আদেশকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সাথে সাথে পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তার আদেশ অমান্য করা বা অবহেলা করা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে।
আল্লাহ তাআলা মানুষের গোপন কাজ সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অবগত। তাই প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে, সব অবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, নবীপ্রেম ও আনুগত্যই মুমিনের সফলতার চাবিকাঠি। যে ব্যক্তি রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হবে এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
ইসলাম শুধু বিশ্বাসের নাম নয়, বরং তা আদব, সম্মান ও আনুগত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—যা পালন করলেই আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারব।
অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খঞ্জের জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।
মুমিন তো তারাই; যারা আল্লাহর ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রসূলের সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোন কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।
রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।