Alaaa inna lillaahi maa fis samaawaati wal ardi qad ya`lamu maaa antum `alaihi wa Yawma yurja`oona ilaihi fa yunaabi `uhum bimaa `amiloo; wallaahu bikulli shai`in `Aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ख़बरदार जो कुछ सारे आसमान व ज़मीन में है (सब) यक़ीनन ख़ुदा ही का है जिस हालत पर तुम हो ख़ुदा ख़ूब जानता है और जिस दिन उसके पास ये लोग लौटा कर लाएँ जाएँगें तो जो कुछ उन लोगों ने किया कराया है बता देगा और ख़ुदा तो हर चीज़ से खूब वाकिफ है
মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
قَدْ يَعْلَمُ — এখানে ‘قَدْ’ তহকীক (নিশ্চয়তা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জানেন।
يُرْجَعُونَ — তারা ফিরে যাবে, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের পর আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন।
فَيُنَبِّئُهُم — তখন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন।
তাফসীর:
জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে—সবকিছুর সৃষ্টি, মালিকানা এবং পরিচালনা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার। তিনি সবকিছুর একক অধিপতি এবং সর্বশক্তিমান। তিনি তোমাদের সকল অবস্থা, আমল, চিন্তা-চেতনা এবং গোপন-প্রকাশ্য সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে অবগত আছেন—তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই লুকানো নেই। আর সেই দিনের কথা স্মরণ করো, যখন সকল মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত করে তাঁরই সামনে ফিরিয়ে আনা হবে। সেদিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত করবেন এবং প্রত্যেককে তার কাজের যথাযথ প্রতিদান দেবেন—ভালো কাজের জন্য ভালো প্রতিদান এবং মন্দ কাজের জন্য মন্দ প্রতিদান। আর আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞানী; আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। তাঁর জ্ঞান সকল সৃষ্টি, সকল অবস্থা এবং সকল সময়কে পরিব্যাপ্ত করে আছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মহাবিশ্বের সকল কিছুই আল্লাহর মালিকানাধীন। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
আল্লাহর জ্ঞান আমাদের সকল কাজ, কথা এমনকি মনের গোপন ভাবনা সম্পর্কেও সম্পূর্ণ। এই উপলব্ধি আমাদেরকে গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখে এবং নেক কাজে উৎসাহিত করে।
কিয়ামতের দিনের প্রতি বিশ্বাস আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। এই পার্থিব জীবনই শেষ নয়; বরং একটি চিরন্তন জীবনের সূচনা মাত্র, যেখানে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।
আল্লাহর জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তিনি কখনো কারো প্রতি জুলুম করেন না এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করেন।
এই আয়াত আমাদেরকে আখিরাতমুখী জীবন গড়তে সাহায্য করে—যেখানে আমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের চেয়ে আখিরাতের স্থায়ী সাফল্যকে প্রাধান্য দিই।
মুমিন তো তারাই; যারা আল্লাহর ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রসূলের সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ ব্যতীত চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোন কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।
রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
মনে রেখো নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তা আল্লাহরই। তোমরা যে অবস্থায় আছ তা তিনি জানেন। যেদিন তারা তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে, সেদিন তিনি বলে দেবেন তারা যা করেছে। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ই জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।