অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- يَدْعُونَ – ডাকে, আহ্বান করে; এখানে অর্থ ইবাদত করা বা উপাসনা করা।
- إِلَٰهًا آخَرَ – অন্য কোনো উপাস্য বা মা‘বুদ।
- حَرَّمَ اللَّهُ – আল্লাহ যা হারাম করেছেন।
- بِالْحَقِّ – ন্যায়সংগত কারণে; শরিয়তসম্মত উপায়ে।
- يَزْنُونَ – ব্যভিচার করে।
- أَثَامًا – গুনাহের শাস্তি বা কঠিন প্রতিদান।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রকৃত বান্দাদের সেই মহান গুণাবলির বর্ণনা দিয়েছেন, যা তাদেরকে অন্যান্য মানুষের থেকে আলাদা করে এবং জান্নাতের পথকে সুগম করে। এই বান্দারা হলো সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা, যারা তাওহিদের উপর অটল থাকে—তারা আল্লাহর সাথে আর কাউকে ডাকে না, কারও কাছে প্রার্থনা করে না, এবং কারও সামনে মাথা নত করে না। তারা জানে যে, সমস্ত ক্ষমতা, রিজিক, জীবন-মৃত্যু এবং সাহায্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই তারা তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর কাছেই সব কিছু চায়।
এরপর আল্লাহ তাদের দ্বিতীয় মহৎ গুণ বর্ণনা করেছেন—তারা সেই প্রাণ হত্যা করে না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, তবে শুধুমাত্র ন্যায়সংগত কারণে। অর্থাৎ, শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া তারা কাউকে হত্যা করে না। ইসলামে হত্যা শুধুমাত্র তিনটি ক্ষেত্রে বৈধ: (১) কুফরি বা ধর্মত্যাগের কারণে, (২) বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের কারণে, এবং (৩) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার কারণে (কিসাস বা প্রতিশোধ)। এর বাইরে কোনো মানুষের রক্তপাত করা সম্পূর্ণ হারাম।
তৃতীয় গুণ হলো—তারা ব্যভিচার করে না। তারা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে এবং শুধুমাত্র বৈধ পথে (বিবাহ বা দাসত্বের মাধ্যমে) যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। তারা জাহেলিয়াতের সেই কুপ্রথা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, যেখানে ব্যভিচার ছিল সাধারণ ব্যাপার।
এরপর আল্লাহ সতর্ক করে দিচ্ছেন—যে ব্যক্তি এই তিনটি মহাপাপের মধ্যে যেকোনো একটি করবে, সে কিয়ামতের দিন তার শাস্তির সম্মুখীন হবে। তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি, লাঞ্ছনা ও অপমান। তবে আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি সাথে সাথে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, যে ব্যক্তি তাওবা করবে, ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তার পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। কারণ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! দেখুন, আল্লাহ কত মহান! তিনি পাপের শাস্তির ভয় দেখানোর পাশাপাশি তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। তিনি চান না তাঁর বান্দারা ধ্বংস হোক; বরং তিনি চান তারা ফিরে আসুক, তাঁর কাছে ক্ষমা চাক এবং সৎপথে চলুক। তাই আমাদের উচিত এই তিনটি মহাপাপ থেকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা এবং যদি কোনো কারণে কেউ পাপ করে ফেলে, তবে সাথে সাথে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী এবং ক্ষমাশীল।
📜 আয়াত 66-70 — সূরা আল-ফুরকান
অনুবাদ — আল-ফুরকান 68
সূরা আল-ফুরকান আয়াত 68 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ…সূরা আয়াত 68/77 — সূরা আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফুরকান শুনুন, সূরা আল-ফুরকান অনুবাদ, সূরা আল-ফুরকান mp3, সূরা আল-ফুরকান pdf. আয়াত 66–70. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








