Wa laqad sadaqakumul laahu wa`dahooo iz tahussoo nahum bi iznihee hattaaa izaa fashiltim wa tanaaza`tum fil amri wa `asaitum mim ba`di maaa araakum maa tuhibboon; minkum mai yureedud dunyaa wa minkum mai yureedul Aakhirah; summa sarafakum `anhum sarafakum `anhum liyabtaliyakum wa laqad `afaa `ankum; wallaahu zoo fadlin `alal mu`mineen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
बेशक खुदा ने (जंगे औहद में भी) अपना (फतेह का) वायदा सच्चा कर दिखाया था जब तुम उसके हुक्म से (पहले ही हमले में) उन (कुफ्फ़ार) को खूब क़त्ल कर रहे थे यहॉ तक की तुम्हारे पसन्द की चीज़ (फ़तेह) तुम्हें दिखा दी उसके बाद भी तुमने (माले ग़नीमत देखकर) बुज़दिलापन किया और हुक्में रसूल (मोर्चे पर जमे रहने) झगड़ा किया और रसूल की नाफ़रमानी की तुममें से कुछ तो तालिबे दुनिया हैं (कि माले ग़नीमत की तरफ़) से झुक पड़े और कुछ तालिबे आख़िरत (कि रसूल पर अपनी जान फ़िदा कर दी) फिर (बुज़दिलेपन ने) तुम्हें उन (कुफ्फ़ार) की की तरफ से फेर दिया (और तुम भाग खड़े हुए) उससे ख़ुदा को तुम्हारा (ईमान अख़लासी) आज़माना मंज़ूर था और (उसपर भी) ख़ुदा ने तुमसे दरगुज़र की और खुदा मोमिनीन पर बड़ा फ़ज़ल करने वाला है
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَحُسُّونَهُم – তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করছিলে / নির্মূল করছিলে।
فَشِلْتُمْ – তোমরা দুর্বল হয়ে পড়লে, সাহস হারিয়ে ফেললে।
تَنَازَعْتُمْ – তোমরা মতবিরোধ করলে।
لِيَبْتَلِيَكُمْ – যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন।
عَفَا عَنكُمْ – তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তাদেরকে যে বিজয়ের ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা তিনি সত্যে পরিণত করেছেন। উহুদ যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে তোমরা আল্লাহর অনুমতিতে শত্রুদেরকে এমনভাবে হত্যা করছিলে যে, তারা সম্পূর্ণরূপে পরাজিত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন তোমরা দুর্বল হয়ে পড়লে, সাহস হারিয়ে ফেললে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ সম্পর্কে মতবিরোধে লিপ্ত হলে—কেউ বলল, আমরা অবস্থান ছেড়ে গিয়ে গনিমতের মাল সংগ্রহ করব, আবার কেউ বলল, আমরা নির্দেশ মেনে অবস্থানেই থাকব—এবং তোমরা রাসূলের আদেশ অমান্য করলে, যে আদেশ ছিল পাহাড়ের গিরিপথে অবস্থানকারী তীরন্দাজদেরকে কোনো অবস্থাতেই স্থান ত্যাগ না করার। এই অবাধ্যতা তোমরা করেছিলে সেই মুহূর্তে, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয় ও গনিমতের মতো প্রিয় জিনিস দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই পরাজয় নেমে এলো।
তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ দুনিয়ার সম্পদ (গনিমত) কামনা করে, আর কেউ কেউ আখিরাতের প্রতিদান ও সাওয়াব কামনা করে। যারা গিরিপথ ছেড়ে গনিমত সংগ্রহে গিয়েছিল তারা দুনিয়া চেয়েছিল, আর যারা রাসূলের নির্দেশে অটল থেকে অবস্থানে ছিল তারা আখিরাত কামনা করেছিল। এরপর আল্লাহ তোমাদেরকে শত্রুদের সামনে থেকে ফিরিয়ে দিলেন এবং তাদেরকে তোমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন—এটি ছিল তোমাদের পরীক্ষা, যাতে প্রকাশ পায় কে প্রকৃত ধৈর্যশীল মুমিন এবং কে দুর্বল ও বিচলিত। তবে আল্লাহ তোমাদের এই ভুলের জন্য তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেননি; বরং তোমাদের অনুতাপ ও তওবার কারণে তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অশেষ অনুগ্রহশীল ও দয়ালু।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর ওয়াদা কখনো ভঙ্গ হয় না, তবে শর্ত হলো তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা। বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু তা বান্দার আনুগত্য ও ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল।
দুনিয়ার সামান্য সম্পদের লোভ মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মুমিনের উচিত দুনিয়ার মোহকে আখিরাতের চেয়ে বড় না করা।
বিপদ-মুসিবত ও পরাজয় মুমিনের জন্য পরীক্ষা; এর মাধ্যমে আল্লাহ প্রকাশ করেন কে সত্যিকারের ঈমানদার এবং কে দুর্বল। তাই বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা উচিত।
আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল। বান্দা ভুল করলেও যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার উপর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। এটি মুমিনদের জন্য বড় সুসংবাদ।
ঐক্য ও সংহতি মুসলিম উম্মাহর শক্তি। মতবিরোধ ও নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বই পরাজয়ের মূল কারণ। তাই সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নেতার (রাসূল/আলিম/আমির) নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
আর তোমরা উপরে উঠে যাচ্ছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না কারো প্রতি, অথচ রসূল ডাকছিলেন তোমাদিগকে তোমাদের পেছন দিক থেকে। অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক, যাতে তোমরা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখ না কর এবং যার সম্মুখীণ হচ্ছ সেজন্য বিমর্ষ না হও। আর আল্লাহ তোমাদের কাজের ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন।
অতঃপর তোমাদের উপর শোকের পর শান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা ছিল তন্দ্রার মত। সে তন্দ্রায় তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঝিমোচ্ছিল আর কেউ কেউ প্রাণের ভয়ে ভাবছিল। আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিল মুর্খদের মত। তারা বলছিল আমাদের হাতে কি কিছুই করার নেই? তুমি বল, সবকিছুই আল্লাহর হাতে। তারা যা কিছু মনে লুকিয়ে রাখে-তোমার নিকট প্রকাশ করে না সে সবও। তারা বলে আমাদের হাতে যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। তুমি বল, তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও থাকতে তবুও তারা অবশ্যই বেরিয়ে আসত নিজেদের অবস্থান থেকে যাদের মৃত্যু লিখে দেয়া হয়েছে। তোমাদের বুকে যা রয়েছে তার পরীক্ষা করা ছিল আল্লাহর ইচ্ছা, আর তোমাদের অন্তরে যা কিছু রয়েছে তা পরিষ্কার করা ছিল তাঁর কাম্য। আল্লাহ মনের গোপন বিষয় জানেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।