আল-ইমরান · 152/200
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ইমরান
وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ۝١٥٢
Wa laqad sadaqakumul laahu wa`dahooo iz tahussoo nahum bi iznihee hattaaa izaa fashiltim wa tanaaza`tum fil amri wa `asaitum mim ba`di maaa araakum maa tuhibboon; minkum mai yureedud dunyaa wa minkum mai yureedul Aakhirah; summa sarafakum `anhum sarafakum `anhum liyabtaliyakum wa laqad `afaa `ankum; wallaahu zoo fadlin `alal mu`mineen
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَحُسُّونَهُم – তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করছিলে / নির্মূল করছিলে।
  • فَشِلْتُمْ – তোমরা দুর্বল হয়ে পড়লে, সাহস হারিয়ে ফেললে।
  • تَنَازَعْتُمْ – তোমরা মতবিরোধ করলে।
  • لِيَبْتَلِيَكُمْ – যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন।
  • عَفَا عَنكُمْ – তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তাদেরকে যে বিজয়ের ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা তিনি সত্যে পরিণত করেছেন। উহুদ যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে তোমরা আল্লাহর অনুমতিতে শত্রুদেরকে এমনভাবে হত্যা করছিলে যে, তারা সম্পূর্ণরূপে পরাজিত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন তোমরা দুর্বল হয়ে পড়লে, সাহস হারিয়ে ফেললে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ সম্পর্কে মতবিরোধে লিপ্ত হলে—কেউ বলল, আমরা অবস্থান ছেড়ে গিয়ে গনিমতের মাল সংগ্রহ করব, আবার কেউ বলল, আমরা নির্দেশ মেনে অবস্থানেই থাকব—এবং তোমরা রাসূলের আদেশ অমান্য করলে, যে আদেশ ছিল পাহাড়ের গিরিপথে অবস্থানকারী তীরন্দাজদেরকে কোনো অবস্থাতেই স্থান ত্যাগ না করার। এই অবাধ্যতা তোমরা করেছিলে সেই মুহূর্তে, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয় ও গনিমতের মতো প্রিয় জিনিস দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তখনই পরাজয় নেমে এলো।

তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ দুনিয়ার সম্পদ (গনিমত) কামনা করে, আর কেউ কেউ আখিরাতের প্রতিদান ও সাওয়াব কামনা করে। যারা গিরিপথ ছেড়ে গনিমত সংগ্রহে গিয়েছিল তারা দুনিয়া চেয়েছিল, আর যারা রাসূলের নির্দেশে অটল থেকে অবস্থানে ছিল তারা আখিরাত কামনা করেছিল। এরপর আল্লাহ তোমাদেরকে শত্রুদের সামনে থেকে ফিরিয়ে দিলেন এবং তাদেরকে তোমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন—এটি ছিল তোমাদের পরীক্ষা, যাতে প্রকাশ পায় কে প্রকৃত ধৈর্যশীল মুমিন এবং কে দুর্বল ও বিচলিত। তবে আল্লাহ তোমাদের এই ভুলের জন্য তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেননি; বরং তোমাদের অনুতাপ ও তওবার কারণে তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অশেষ অনুগ্রহশীল ও দয়ালু।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর ওয়াদা কখনো ভঙ্গ হয় না, তবে শর্ত হলো তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা। বিজয় আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু তা বান্দার আনুগত্য ও ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল।
  2. দুনিয়ার সামান্য সম্পদের লোভ মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মুমিনের উচিত দুনিয়ার মোহকে আখিরাতের চেয়ে বড় না করা।
  3. বিপদ-মুসিবত ও পরাজয় মুমিনের জন্য পরীক্ষা; এর মাধ্যমে আল্লাহ প্রকাশ করেন কে সত্যিকারের ঈমানদার এবং কে দুর্বল। তাই বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা উচিত।
  4. আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল। বান্দা ভুল করলেও যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার উপর অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। এটি মুমিনদের জন্য বড় সুসংবাদ।
  5. ঐক্য ও সংহতি মুসলিম উম্মাহর শক্তি। মতবিরোধ ও নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বই পরাজয়ের মূল কারণ। তাই সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নেতার (রাসূল/আলিম/আমির) নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।


📜 আয়াত 150-154 — সূরা আল-ইমরান

150بَلِ اللَّهُ مَوْلَاكُمْ ۖ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ
বরং আল্লাহ তোমাদের সাহায্যকারী, আর তাঁর সাহায্যই হচ্ছে উত্তম সাহায্য।
151سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا ۖ وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ ۚ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
152وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
153۞ إِذْ تُصْعِدُونَ وَلَا تَلْوُونَ عَلَىٰ أَحَدٍ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِي أُخْرَاكُمْ فَأَثَابَكُمْ غَمًّا بِغَمٍّ لِّكَيْلَا تَحْزَنُوا عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَا أَصَابَكُمْ ۗ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
আর তোমরা উপরে উঠে যাচ্ছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না কারো প্রতি, অথচ রসূল ডাকছিলেন তোমাদিগকে তোমাদের পেছন দিক থেকে। অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক, যাতে তোমরা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখ না কর এবং যার সম্মুখীণ হচ্ছ সেজন্য বিমর্ষ না হও। আর আল্লাহ তোমাদের কাজের ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন।
154ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّن بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُّعَاسًا يَغْشَىٰ طَائِفَةً مِّنكُمْ ۖ وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ ۖ يَقُولُونَ هَل لَّنَا مِنَ الْأَمْرِ مِن شَيْءٍ ۗ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ ۗ يُخْفُونَ فِي أَنفُسِهِم مَّا لَا يُبْدُونَ لَكَ ۖ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَّا قُتِلْنَا هَاهُنَا ۗ قُل لَّوْ كُنتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلَىٰ مَضَاجِعِهِمْ ۖ وَلِيَبْتَلِيَ اللَّهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
অতঃপর তোমাদের উপর শোকের পর শান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা ছিল তন্দ্রার মত। সে তন্দ্রায় তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঝিমোচ্ছিল আর কেউ কেউ প্রাণের ভয়ে ভাবছিল। আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিল মুর্খদের মত। তারা বলছিল আমাদের হাতে কি কিছুই করার নেই? তুমি বল, সবকিছুই আল্লাহর হাতে। তারা যা কিছু মনে লুকিয়ে রাখে-তোমার নিকট প্রকাশ করে না সে সবও। তারা বলে আমাদের হাতে যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। তুমি বল, তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও থাকতে তবুও তারা অবশ্যই বেরিয়ে আসত নিজেদের অবস্থান থেকে যাদের মৃত্যু লিখে দেয়া হয়েছে। তোমাদের বুকে যা রয়েছে তার পরীক্ষা করা ছিল আল্লাহর ইচ্ছা, আর তোমাদের অন্তরে যা কিছু রয়েছে তা পরিষ্কার করা ছিল তাঁর কাম্য। আল্লাহ মনের গোপন বিষয় জানেন।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
152আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 152

সূরা আল-ইমরান আয়াত 152 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই…

সূরা আয়াত 152/200 — সূরা আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ইমরান শুনুন, সূরা আল-ইমরান অনুবাদ, সূরা আল-ইমরান mp3, সূরা আল-ইমরান pdf. আয়াত 150–154. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না