আল-আহযাব · 32/73
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আহযাব
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا ۝٣٢
Yaa nisaaa`an Nabiyyi lastunna ka ahadim minan nisaaa`i init taqaitunna falaa takhda`na bilqawli fa yatma`al lazee fee qalbihee maradunw wa qulna qawlam ma`roofaa
📖 বাংলা অর্থ
হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ — তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও।
  • لَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ — তোমরা কথা বলার সময় কোমল/মধুর স্বর ব্যবহার করো না।
  • فَيَطْمَعَ — ফলে লোভ/আশা পোষণ করে।
  • الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ — যার অন্তরে রোগ আছে (মুনাফিকি বা খারাপ কামনা)।
  • قَوْلًا مَّعْرُوفًا — শরিয়তসম্মত ও শালীন কথা।

তাফসীর:

হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা মর্যাদা ও মর্যাদার দিক থেকে অন্য যেকোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো—অর্থাৎ তাঁর আদেশ পালন করো এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকো—তাহলে তোমাদের মর্যাদা আরও উচ্চে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এই উচ্চ মর্যাদার সাথে সাথে তোমাদের উপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও বর্তায়। তার মধ্যে একটি হলো—তোমরা যখন অপরিচিত/বেগানা পুরুষের সাথে কথা বলবে, তখন কোমল, মিষ্টি বা আকর্ষণীয় স্বরে কথা বলবে না। কারণ এমন স্বরে কথা বললে সেই ব্যক্তি লোভী হয়ে পড়তে পারে, যার অন্তরে রোগ আছে—অর্থাৎ মুনাফিকি বা অবৈধ কামনা-বাসনার রোগ। তাই তোমরা এমনভাবে কথা বলবে যা সম্পূর্ণ শালীন, সোজা-সরল, প্রয়োজন অনুযায়ী এবং শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকবে—যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা কু-আশার সৃষ্টি না হয়।

এ নির্দেশ শুধু নবী-পত্নীদের জন্য নয়, বরং প্রত্যেক মুমিন নারীর জন্য এটি একটি শিক্ষণীয় আদর্শ। প্রত্যেক নারীর উচিত বেগানা পুরুষের সাথে কথা বলার সময় শালীনতা ও সংযম বজায় রাখা।


উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. মর্যাদার সাথে দায়িত্বও বাড়ে: যাদের আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, তাদের উপর অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে। নবী-পত্নীদের সম্বোধন করে এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, মর্যাদা যত বড়, আচরণও তত বেশি সতর্ক হওয়া চাই।
  2. শালীনতা ইসলামের সৌন্দর্য: ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্ককে পবিত্র রাখতে চায়। কথা বলার ধরন, স্বর ও ভাষা—সবকিছুতে শালীনতা বজায় রাখা ইসলামের একটি সুন্দর শিক্ষা, যা সমাজে পবিত্রতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
  3. অন্তরের রোগ থেকে সতর্কতা: যাদের অন্তরে খারাপ কামনা বা মুনাফিকি আছে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একজন মুমিন নারী তার আচরণের মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে কু-প্রবৃত্তির মানুষ সুযোগ না পায়।
  4. প্রয়োজনমতো কথা বলা জায়েজ: ইসলাম নারীদের কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ করেনি, বরং শালীন ও প্রয়োজনীয় কথা বলতে উৎসাহিত করেছে। এটি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
  5. তাকওয়াই আসল মর্যাদার চাবিকাঠি: আল্লাহর কাছে প্রকৃত মর্যাদা তাকওয়ার ভিত্তিতে। নবী-পত্নীদের বলা হচ্ছে—তোমরা অন্য নারীদের মতো নও, কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্ব তখনই সত্যিকার হবে যখন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে। এটি আমাদের শেখায়, বংশ বা পদমর্যাদা নয়, বরং আল্লাহভীতি ও সৎকর্মই মানুষকে উন্নত করে।


📜 আয়াত 30-34 — আল-আহযাব

30يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ مَن يَأْتِ مِنكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا
হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। এটা আল্লাহর জন্য সহজ।
31۞ وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا
তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি।
32يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।
33وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।
34وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا
আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানগর্ভ কথা, যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয় তোমরা সেগুলো স্মরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্নদর্শী, সর্ববিষয়ে খবর রাখেন।
আল-আহযাবকুরআন সূচী
73আয়াত
মাদানীRevelation
32আয়াত

অনুবাদ — আল-আহযাব 32

সূরা আল-আহযাব আয়াত 32 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা…

সূরা আয়াত 32/73 — আল-আহযাব الأحزاب (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আহযাব শুনুন, আল-আহযাব অনুবাদ, আল-আহযাব mp3, আল-আহযাব pdf. আয়াত 30–34. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না