আমি তার সে অপরাধ ক্ষমা করলাম। নিশ্চয় আমার কাছে তার জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্তবা ও সুন্দর আবাসস্থল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
زُلْفَى — নৈকট্য, উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান।
حُسْنَ مَآبٍ — উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল, অর্থাৎ জান্নাত।
তাফসীর:
আয়াতটি হযরত দাউদ (আঃ)-এর ঘটনার প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। তিনি একটি কঠিন বিচারের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সেই তওবা কবুল করে নেন এবং তাঁর ওই ভুল-ত্রুটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করে দেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন যে, দাউদ (আঃ)-এর জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও নৈকট্য। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আর আখিরাতে তার জন্য রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল, অর্থাৎ জান্নাত, যেখানে তিনি চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি লাভ করবেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, নবী-রাসূলগণ নিষ্পাপ ও পবিত্র। তাদের থেকে কোনো গুনাহ বা পাপ কাজ সংঘটিত হয় না। তবে কখনো কখনো তাদের থেকে কোনো ত্রুটি বা ভুল হয়ে থাকলে তা আল্লাহর বিধান পালনে সামান্য অগ্রাধিকার বা ত্রুটির কারণে হতে পারে, যা তাদের মর্যাদার পরিপন্থী নয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সেই ত্রুটিও ক্ষমা করে দেন এবং তাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেন। দাউদ (আঃ)-এর ঘটনায়ও এরূপই হয়েছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল। বান্দা যখন আন্তরিকভাবে তওবা করে, তখন আল্লাহ তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তাকে আরও সম্মানিত করেন।
নবী-রাসূলগণ হলেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা। তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিও আল্লাহ ক্ষমা করে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। এটি তাদের জন্য সম্মানের বিষয়।
গুনাহের পর আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য তওবা ও ইস্তিগফার একটি উত্তম মাধ্যম। যে বান্দা যত বেশি আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তার মর্যাদা তত বৃদ্ধি করেন।
আখিরাতে মুমিনদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির স্থান জান্নাতই মুমিনের চূড়ান্ত কাম্য।
দাউদ বললঃ সে তোমার দুম্বাটিকে নিজের দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবী করে তোমার প্রতি অবিচার করেছে। শরীকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি জুলুম করে থাকে। তবে তারা করে না, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও সৎকর্ম সম্পাদনকারী। অবশ্য এমন লোকের সংখ্যা অল্প। দাউদের খেয়াল হল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করছি। অতঃপর সে তার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল, সেজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করল।
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।