In takfuroo fa innal laaha ghaniyyun `ankum; wa laa yardaa li`ibaadihil kufra wa in tashkuroo yardahu lakum; wa laa taziru waaziratunw wizra ukhraa; summa ilaa Rabikum marji`ukum fa-yunabbi`ukum bimaa kuntum ta`maloon; innahoo `aleemum bizaatissudoor
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
अगर तुमने उसकी नाशुक्री की तो (याद रखो कि) खुदा तुमसे बिल्कुल बेपरवाह है और अपने बन्दों से कुफ्र और नाशुक्री को पसन्द नहीं करता और अगर तुम शुक्र करोगे तो वह उसको तुम्हारे वास्ते पसन्द करता है और (क़यामत में) कोई किसी (के गुनाह) का बोझ (अपनी गर्दन पर) नहीं उठाएगा फिर तुमको अपने परवरदिगार की तरफ लौटना है तो (दुनिया में) जो कुछ (भला बुरा) करते थे वह तुम्हें बता देगा वह यक़ीनन दिलों के राज़ (तक) से खूब वाक़िफ है
যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
غَنِيٌّ — সম্পদশালী, কারো মুখাপেক্ষী নন।
لَا يَرْضَىٰ — পছন্দ করেন না, সন্তুষ্ট হন না।
تَشْكُرُوا — কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করা।
يَرْضَهُ — তিনি তা পছন্দ করেন (অর্থাৎ শোকরকে সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করেন)।
لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ — কোনো বহনকারী অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না।
ذَاتِ الصُّدُورِ — অন্তরের গোপন বিষয়, যা বুকের ভেতরে লুকানো থাকে।
তাফসীর:
হে মানুষ! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি কুফরি করো, তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান না আনো, তবে জেনে রাখো—আল্লাহ তোমাদের থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। তোমাদের ঈমান বা কুফরি তাঁর কোনো লাভ বা ক্ষতি করতে পারে না। বরং এর ফল-পরিণতি তোমাদের নিজেদেরই উপর বর্তাবে। তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না, আর তিনি কখনো তাদেরকে কুফরির নির্দেশ দেন না। কারণ তিনি অতি দয়ালু ও অনুগ্রহশীল, তিনি জানেন যে কুফরি মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ধ্বংস ডেকে আনে। অপরদিকে, তোমরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহের শোকর আদায় করো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো, তবে তিনি তোমাদের এই শোকর ও ঈমানকে পছন্দ করেন এবং এর বিনিময়ে তোমাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। কারণ শোকরই তোমাদের সাফল্য ও কল্যাণের চাবিকাঠি।
আরও জেনে রাখো—প্রতিটি মানুষ তার নিজের কাজের জন্য দায়ী। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। পিতা-মাতার পাপ সন্তানের উপর চাপানো হবে না, আবার সন্তানের পাপ পিতা-মাতার উপর চাপানো হবে না। প্রত্যেকে নিজের কর্ম অনুযায়ী হিসাব দেবে। এরপর কিয়ামতের দিন তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন তোমাদের রবের দিকেই হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা কিছু তোমরা দুনিয়ায় আমল করেছিলে—ভালো也罢 মন্দ也罢—এবং সেই অনুযায়ী তোমাদেরকে প্রতিদান দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তোমাদের মনে যা কিছু লুকিয়ে থাকে, ভালো বা মন্দ—সবকিছুই তাঁর জানা। কোনো কিছুই তাঁর থেকে গোপন থাকতে পারে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহ সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের ইবাদত বা অবাধ্যতা তাঁর কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না; বরং এর ফল আমাদের নিজেদেরই ভোগ করতে হয়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
আল্লাহ কুফরি ও অবাধ্যতা পছন্দ করেন না, কিন্তু শোকর ও ঈমান পছন্দ করেন। এটি তাঁর অশেষ অনুগ্রহ যে তিনি আমাদের ভালো কাজের নির্দেশ দেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন।
প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মের জন্য দায়ী। এই জ্ঞান আমাদেরকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের আমল সংশোধনে উদ্বুদ্ধ করে।
কিয়ামতে সবকিছুর হিসাব হবে। এই বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মে অটল থাকতে এবং পাপ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয়ও জানেন। তাই আমাদের উচিত বাহ্যিক আমলের সাথে সাথে অন্তরকে পবিত্র রাখা, নিয়তকে খাঁটি করা এবং মনে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ বা কপটতা না পোষণ করা।
তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্যে আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরওয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।
যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত।
যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।