আন-নিসা · 8/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَإِذَا حَضَرَ ٱلۡقِسۡمَةَ أُوْلُواْ ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينُ فَٱرۡزُقُوهُم مِّنۡهُ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلًا مَّعۡرُوفًا  ۝٨
Wa izaa hadaral qismata ulul qurbaa walyataamaa walmasaakeenu farzuqoohum minhu wa qooloo lahum qawlam ma`roofaa
📖 বাংলা অর্থ
সম্পতি বন্টনের সময় যখন আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু খাইয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • الْقِسْمَةَ — সম্পদ বণ্টন, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা।
  • أُولُو الْقُرْبَىٰ — মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন যারা ওয়ারিশ তালিকাভুক্ত নয়, অর্থাৎ যাদেরকে শরিয়তের নির্ধারিত অংশ দেওয়া হয় না।
  • الْيَتَامَىٰ — এতিম, যাদের পিতা মারা গেছেন এবং তারা এখনও বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়নি।
  • الْمَسَاكِينُ — অভাবী ও দরিদ্র মানুষ, যাদের প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব রয়েছে।
  • فَارْزُقُوهُم — তাদেরকে কিছু দান করুন, অর্থাৎ সম্পদ থেকে তাদের অংশ দিন।
  • قَوْلًا مَّعْرُوفًا — সদয় ও ন্যায়সংগত কথা, যা তাদের মনে কষ্ট না দেয় এবং যা শরিয়তের আদব-কায়দার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাফসির:

যখন মৃত ব্যক্তির সম্পদ বণ্টনের সময় উপস্থিত হয় এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন, যারা শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ওয়ারিশ নয়, কিংবা সেখানে উপস্থিত হয় এতিম শিশু এবং অভাবী-দরিদ্র মানুষ, তখন তাদের প্রতি কর্তব্য হলো—সম্পদ বণ্টনের আগেই তাদেরকে কিছু দান করা। এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় কাজ। কারণ, এই মানুষগুলো সম্পদের প্রতি আগ্রহী এবং তাদের প্রয়োজনও রয়েছে, অথচ তারা নিজেদের চেষ্টায় কিছু পেতে পারে না। তাই তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে সম্পদ থেকে কিছু অংশ দেওয়া উচিত, যাতে তাদের মন খুশি হয় এবং কোনো প্রকার কষ্ট না পায়।

এছাড়া, তাদের সাথে কথা বলার সময়ও সদয় ও নম্র আচরণ করতে হবে। তাদেরকে এমন কোনো কথা বলা যাবে না যা তাদের মনে আঘাত দেয় বা তাদেরকে অপমানিত করে। বরং তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলতে হবে যা তাদের সম্মান রক্ষা করে এবং তাদের মনে প্রশান্তি আনে। যেমন বলা যেতে পারে: "আমরা তোমাদের জন্য কিছু রেখেছি" বা "আল্লাহ তোমাদেরকে বরকত দান করুন" — এমন সদয় ও ন্যায়সংগত কথা।

উল্লেখ্য, এই আয়াতের নির্দেশটি প্রাথমিক যুগের জন্য ছিল, যখন ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের সময় এই ধরনের দান করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) ছিল। পরবর্তীতে কিছু বিধান পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর মূল শিক্ষা—অভাবী ও এতিমদের প্রতি সহানুভূতি ও দানশীলতা—চিরকালের জন্য প্রযোজ্য।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম সম্পদ বণ্টনের সময়ও দরিদ্র ও এতিমদের কথা স্মরণ রাখে, যা দেখায় ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কতটা মানবিক ও সহানুভূতিপূর্ণ।
  2. এই আয়াত মুসলিমদের মধ্যে উদারতা ও দানশীলতার শিক্ষা দেয়, যা সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে।
  3. ইসলাম শুধু সম্পদ দানই নয়, বরং কথা বলার আদবও শেখায়—যাতে মানুষের মনে কোনো কষ্ট না লাগে। এটি ইসলামের নৈতিক সৌন্দর্যের প্রমাণ।
  4. এখানে এতিম ও দরিদ্রদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তাদের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে এবং তাদের মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
  5. এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলাম ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমাতে এবং সমাজে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কতটা আন্তরিক।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 6-10 — আন-নিসা

6وَٱبۡتَلُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰ حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغُواْ ٱلنِّكَاحَ فَإِنۡ ءَانَسۡتُم مِّنۡهُمۡ رُشۡدًا فَٱدۡفَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَأۡكُلُوهَآ إِسۡرَافًا وَبِدَارًا أَن يَكۡبَرُواْۚ وَمَن كَانَ غَنِيًّا فَلۡيَسۡتَعۡفِفۡۖ وَمَن كَانَ فَقِيرًا فَلۡيَأۡكُلۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِذَا دَفَعۡتُمۡ إِلَيۡهِمۡ أَمۡوَٰلَهُمۡ فَأَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِمۡۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ حَسِيبًا 
আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার। এতীমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা স্বচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট।
7لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنۡهُ أَوۡ كَثُرَۚ نَصِيبًا مَّفۡرُوضًا 
পিতা-মাতা ও আত্নীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্নীয়-স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশী। এ অংশ নির্ধারিত।
8وَإِذَا حَضَرَ ٱلۡقِسۡمَةَ أُوْلُواْ ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينُ فَٱرۡزُقُوهُم مِّنۡهُ وَقُولُواْ لَهُمۡ قَوۡلًا مَّعۡرُوفًا 
সম্পতি বন্টনের সময় যখন আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু খাইয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।
9وَلۡيَخۡشَ ٱلَّذِينَ لَوۡ تَرَكُواْ مِنۡ خَلۡفِهِمۡ ذُرِّيَّةً ضِعَٰفًا خَافُواْ عَلَيۡهِمۡ فَلۡيَتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلۡيَقُولُواْ قَوۡلًا سَدِيدًا 
তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তান-সন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জন্যে তারাও আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সংগত কথা বলে।
10إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ أَمۡوَٰلَ ٱلۡيَتَٰمَىٰ ظُلۡمًا إِنَّمَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ نَارًاۖ وَسَيَصۡلَوۡنَ سَعِيرًا 
যারা এতীমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং সত্ত্বরই তারা অগ্নিতে প্রবেশ করবে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
8আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 8

সূরা আয়াত 8/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 6–10. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না