আল-ফাতহ · 10/29
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফাতহ
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ۝١٠
Innal lazeena yubaayi`oonaka innamaa yubaayi`oonal laaha yadul laahi fawqa aydehim; faman nakasa fainnamaa yuankusu `alaa nafsihee wa man awfaa bimaa `aahada `alihul laaha fasa yu`teehi ajran `azeemaa
📖 বাংলা অর্থ
যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُبَايِعُونَكَ — আপনার হাতে বাই’আত (আনুগত্যের শপথ) করে।
  • نَكَثَ — শপথ বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করা।
  • أَوْفَى — অঙ্গীকার পূর্ণ করা।
  • عَاهَدَ عَلَيْهُ اللهُ — যে বিষয়ে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছে।
  • أَجْرًا عَظِيمًا — মহান পুরস্কার (জান্নাত)।

তাফসীর:

হে নবী! যারা হুদাইবিয়ার দিনে আপনার হাতে বাই’আত করেছিল (যুদ্ধে অবিচল থাকার শপথ), তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাথেই বাই’আত করেছিল। কারণ এই বাই’আত ছিল আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে, এবং জান্নাতের বিনিময়ে নিজেদের জীবন ও সম্পদ আল্লাহর কাছে বিক্রি করার মাধ্যম। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে—অর্থাৎ তিনি তাদের সাথে আছেন, তাদের কথা শোনেন, তাদের অবস্থান দেখেন এবং তাদের অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তিনি তাদের এই আনুগত্য ও সাহসিকতাকে সম্মান করেছেন এবং তাদের শপথকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

অতঃপর আল্লাহ বলেন: যারা এই বাই’আত ভঙ্গ করবে, তার ক্ষতি তার নিজেরই হবে—আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ আল্লাহ সম্পদশালী ও অভাবমুক্ত, তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আর যারা এই অঙ্গীকারে অটল থাকবে, আল্লাহর পথে ধৈর্য ধারণ করবে এবং নবী (সা.)-কে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাদেরকে অচিরেই মহান পুরস্কার দেবেন—যা হলো জান্নাত, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তর কল্পনাও করতে পারেনি।

এখানে আল্লাহর "হাত" উল্লেখের অর্থ হলো তাঁর ক্ষমতা, দৃষ্টি ও তত্ত্বাবধান—তিনি সবকিছুর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। তবে তাঁর হাত সৃষ্টিজীবের হাতের মতো নয়; বরং তা তাঁর মহিমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা আমরা কল্পনা বা তুলনা করতে পারি না।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. নবী (সা.)-এর আনুগত্য আসলে আল্লাহর আনুগত্য। তাই তাঁর নির্দেশ মেনে চলা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানের অংশ।
  2. আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্গীকার ভঙ্গ করা মারাত্মক গুনাহ এবং এর ক্ষতি ব্যক্তির নিজেরই হয়।
  3. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত সদয়—তিনি তাদের ছোট ছোট কাজকেও মহান পুরস্কারে পরিণত করেন। তাই আল্লাহর পথে একটু ধৈর্য ও ত্যাগের বিনিময়ে তিনি অসীম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
  4. এই আয়াত মুসলিমদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেয় যে, আল্লাহ সর্বদা তাদের সাথে আছেন এবং তাদের ভালো কাজের সাক্ষী। তাই কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া উচিত নয়।
  5. জান্নাতই সর্বোচ্চ সাফল্য। দুনিয়ার যেকোনো ক্ষতি বা কষ্টের বিনিময় যদি জান্নাত হয়, তবে তা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 8-12 — আল-ফাতহ

8إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।
9لِّتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।
10إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
11سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا ۚ يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا ۚ بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
12بَلْ ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَنقَلِبَ الرَّسُولُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَىٰ أَهْلِيهِمْ أَبَدًا وَزُيِّنَ ذَٰلِكَ فِي قُلُوبِكُمْ وَظَنَنتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًا بُورًا
বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীRevelation
10আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 10

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে…

সূরা আয়াত 10/29 — আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফাতহ শুনুন, আল-ফাতহ অনুবাদ, আল-ফাতহ mp3, আল-ফাতহ pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না