আল-মায়িদা · 108/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَىٰ وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَن تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ ۝١٠٨
Zaalika adnaaa ai yaatoo bishshahaadati `alaa wajhihaaa aw yakhaafooo an turadda aimaanum ba`da aimaanihim; wattaqul laaha wasma`oo; wallaahu laa yahdil qawmal faasiqeen
📖 বাংলা অর্থ
এটি এ বিষয়ের নিকটতম উপায় যে, তারা ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করবে অথবা আশঙ্কা করবে যে, তাদের কাছ থেকে কসম নেয়ার পর আবার কসম চাওয়া হবে। আল্লাহকে ভয় কর এবং শুন, আল্লাহ দুরাচারীদেরকে পথ-প্রদর্শন করবেন না।
🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَدْنَى — অধিক নিকটবর্তী, বেশি উপযুক্ত।
  • عَلَى وَجْهِهَا — যথাযথভাবে, সঠিক পদ্ধতিতে, কোনো পরিবর্তন বা বিকৃতি ছাড়া।
  • تُرَدَّ أَيْمَانٌ — শপথ ফিরিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে শপথ করা হয়েছে তারা যদি শপথ করে বসে।
  • فَاسِقِينَ — সত্য থেকে বিচ্যুত, আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত বিধান সম্পর্কে বলেছেন— свидетельство (সাক্ষ্য) প্রদানের সময় যে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এই জন্য যে, এতে সাক্ষীরা তাদের সাক্ষ্য সঠিকভাবে ও যথাযথভাবে আদায় করবে। যখন তারা জানবে যে, তাদের সাক্ষ্য সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে মসজিদে এনে পবিত্র কুরআনের উপর শপথ করানো হবে এবং যদি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় তবে তাদের শপথ প্রত্যাখ্যান করে অপর পক্ষকে শপথ করানো হবে, তখন তারা মিথ্যা বলতে ভয় পাবে। কারণ, যদি তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং অপর পক্ষ শপথ করে তাদের সাক্ষ্য বাতিল করে দেয়, তাহলে দুনিয়াতেই তাদের মিথ্যা ও বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ হয়ে যাবে এবং লজ্জিত হতে হবে। আর আখিরাতের শাস্তির ভয় তো আছেই।

অতএব, এই বিধান সাক্ষ্যদাতাদেরকে সত্য বলতে বাধ্য করে এবং মিথ্যা ও খিয়ানত থেকে বিরত রাখে। এরপর আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন— হে মানুষ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকো। মিথ্যা শপথ করে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করো না। আর যে উপদেশ ও নির্দেশ তোমাদের দেওয়া হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করো। আল্লাহ সেই সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না যারা তাঁর আদেশ অমান্য করে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এমন কঠোর বিধান নির্ধারণ করেছে যাতে সাক্ষীরা মিথ্যা বলতে সাহস না পায়। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার ও সত্যনিষ্ঠার প্রমাণ।
  2. দুনিয়ার লজ্জা ও আখিরাতের শাস্তির ভয় মানুষকে সত্য বলতে উদ্বুদ্ধ করে। একজন মুমিনের সর্বদা সত্য বলা উচিত, এমনকি সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও।
  3. আল্লাহভীতি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, সে জেনে-বুঝে মিথ্যা ও অন্যায় কাজ করতে পারে না।
  4. আল্লাহর নির্দেশ মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তা মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। উপদেশ শোনা যথেষ্ট নয়, বরং তা অনুসরণ করাও জরুরি।
  5. আল্লাহ পথভ্রষ্ট ও সত্যবিমুখ সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। তাই আমাদের সর্বদা সত্যের পথে থাকতে হবে এবং আল্লাহর আদেশ পালন করতে হবে, যাতে আমরা তাঁর হিদায়াত লাভ করতে পারি।

📜 আয়াত 106-110 — আল-মায়িদা

106يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُم مُّصِيبَةُ الْمَوْتِ ۚ تَحْبِسُونَهُمَا مِن بَعْدِ الصَّلَاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِي بِهِ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۙ وَلَا نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذًا لَّمِنَ الْآثِمِينَ
হে, মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যখন কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওছিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে ধর্মপরায়ন দুজনকে সাক্ষী রেখো। তোমরা সফরে থাকলে এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যু উপস্থিত হলে তোমরা তোমাদের ছাড়াও দু ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখো। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে উভয়কে নামাযের পর থাকতে বলবে। অতঃপর উভয়েই আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, আমরা এ কসমের বিনিময়ে কোন উপকার গ্রহণ করতে চাই না, যদিও কোন আত্নীয়ও হয় এবং আল্লাহর সাক্ষ্য আমরা গোপন করব না। এমতাবস্থায় কঠোর গোনাহগার হব।
107فَإِنْ عُثِرَ عَلَىٰ أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْمًا فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِن شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
অতঃপর যদি জানা যায় যে, উভয় ওসি কোন গোনাহে জড়িত রয়েছে, তবে যাদের বিরুদ্ধে গোনাহ হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে মৃতু ব্যক্তির নিকটতম দু’ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যর চাইতে অধিক সত্য এবং আমরা সীমা অতিক্রম করিনি। এমতাবস্থায় আমরা অবশ্যই অত্যাচারী হব।
108ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَىٰ وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَن تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
এটি এ বিষয়ের নিকটতম উপায় যে, তারা ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করবে অথবা আশঙ্কা করবে যে, তাদের কাছ থেকে কসম নেয়ার পর আবার কসম চাওয়া হবে। আল্লাহকে ভয় কর এবং শুন, আল্লাহ দুরাচারীদেরকে পথ-প্রদর্শন করবেন না।
109۞ يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ ۖ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
110إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَىٰ وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدتُّكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا ۖ وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ ۖ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِي ۖ وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنكَ إِذْ جِئْتَهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
108আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 108

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 108 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এটি এ বিষয়ের নিকটতম উপায় যে, তারা ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ…

সূরা আয়াত 108/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 106–110. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না