আল-মায়িদা · 33/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ۝٣٣
Innamaa jazaaa`ul lazeena yuhaariboonal laaha wa Rasoolahoo wa yas`awna fil ardi fasaadan ai yuqattalooo aw yusallabooo aw tuqatta`a aideehim wa arjuluhum min khilaafin aw yunfaw minalard; zaalika lahum khizyun fid dunyaa wa lahum fil Aakhirati `azaabun `azeem
📖 বাংলা অর্থ
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ – আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, অর্থাৎ আল্লাহর বিধান ও রাসূলের আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং তা লঙ্ঘন করা।
  • يَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا – পৃথিবীতে দাঙ্গা-ফাসাদ, ডাকাতি, খুন-খারাবি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা।
  • يُصَلَّبُوا – শূলিতে চড়ানো, অর্থাৎ অপরাধীকে কাঠের খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা।
  • مِنْ خِلَافٍ – বিপরীত দিক থেকে, অর্থাৎ ডান হাত ও বাম পা কাটা।
  • يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ – দেশ থেকে নির্বাসিত করা বা অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া।
  • خِزْيٌ – লাঞ্ছনা, অপমান ও মানহানি।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত লোকদের শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে — যেমন ডাকাতি, খুন, সম্পদ লুণ্ঠন, রাস্তাঘাটে মানুষকে ভয় দেখানো ইত্যাদি। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য ইসলামী আইনে চারটি শাস্তির বিধান রয়েছে, যা অপরাধের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হবে:

  1. হত্যা – যদি তারা কাউকে হত্যা করে থাকে, তাহলে তাদেরকে হত্যা করা হবে।
  2. শূলিতে চড়ানো – যদি তারা হত্যা ও সম্পদ লুণ্ঠন উভয়ই করে থাকে, তাহলে তাদেরকে হত্যা করে শূলিতে চড়ানো হবে, যাতে অন্যরা শিক্ষা নেয়।
  3. হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কাটা – যদি তারা শুধু সম্পদ লুণ্ঠন করে থাকে কিন্তু হত্যা না করে, তাহলে তাদের ডান হাত ও বাম পা কেটে দেওয়া হবে। যদি তারা আবার অপরাধ করে, তবে বাম হাত ও ডান পা কাটা হবে।
  4. নির্বাসন বা কারাদণ্ড – যদি তারা শুধু রাস্তাঘাটে ভয় দেখায় বা ছোটখাটো ফাসাদ করে, তাহলে তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে অথবা অন্য এক জায়গায় বন্দী করে রাখা হবে, যতক্ষণ না তাদের তাওবা প্রকাশ পায়।

এই শাস্তিগুলো দুনিয়ায় তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমানের কারণ। আর যদি তারা তাওবা না করে, তবে আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তবে উল্লেখ্য যে, যদি অপরাধীরা তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তবে ইসলামী আইনে তাদের শাস্তি মাফ হয়ে যেতে পারে, যেমনটি পরবর্তী আয়াতে (আয়াত ৩৪) উল্লেখ করা হয়েছে।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলামে নিরাপত্তার গুরুত্ব: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলাম সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কতটা গুরুত্ব দেয়। যারা মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যাতে সমাজে অপরাধ দমন হয়।
  2. অপরাধের সাথে শাস্তির সামঞ্জস্য: ইসলামী আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে — হত্যার বদলে হত্যা, লুণ্ঠনের বদলে হাত-পা কাটা ইত্যাদি। এটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
  3. তাওবার দরজা খোলা: যদিও এই আয়াতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী আয়াতে তাওবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম ঘৃণা ও প্রতিশোধের ধর্ম নয়; বরং অপরাধী যদি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, তবে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।
  4. দুনিয়া ও আখিরাতের হিসাব: এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার শাস্তি সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের শাস্তি চিরস্থায়ী। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
  5. সামাজিক দায়বদ্ধতা: একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সমাজে কোনো ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করা এবং অপরকে এ থেকে বিরত রাখা। ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।


📜 আয়াত 31-35 — সূরা আল-মায়িদা

31فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ ۚ قَالَ يَا وَيْلَتَا أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَٰذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْءَةَ أَخِي ۖ فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ
আল্লাহ এক কাক প্রেরণ করলেন। সে মাটি খনন করছিল যাতে তাকে শিক্ষা দেয় যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে আবৃত করবে। সে বললঃ আফসোস, আমি কি এ কাকের সমতুল্যও হতে পারলাম না যে, আপন ভ্রাতার মৃতদেহ আবৃত করি। অতঃপর সে অনুতাপ করতে লাগল।
32مِنْ أَجْلِ ذَٰلِكَ كَتَبْنَا عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ۚ وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم بَعْدَ ذَٰلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ
এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।
33إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
34إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِن قَبْلِ أَن تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ۖ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু।
35يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
33আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 33

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 33 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে…

সূরা আয়াত 33/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 31–35. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না