আল-মায়িদা · 34/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ مِن قَبۡلِ أَن تَقۡدِرُواْ عَلَيۡهِمۡۖ فَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ  ۝٣٤
Illal lazeena taaboo min qabli an taqdiroo `alaihim fa`lamooo annnal laaha Ghafoorur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَابُوا: তওবা করেছে, অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এসেছে।
  • تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ: তাদের ওপর ক্ষমতা লাভ করা, তাদেরকে ধরা বা আয়ত্তে আনা।
  • غَفُورٌ: অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
  • رَحِيمٌ: পরম দয়ালু।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সব অপরাধীকে ক্ষমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যারা দস্যুতা, ডাকাতি, সশস্ত্র বিদ্রোহ বা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়ার পরেও, মুসলিম শাসক বা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ধরার আগেই অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে ফিরে আসে। অর্থাৎ, তারা যদি স্বেচ্ছায়, নিজেদের ইচ্ছায় এবং আন্তরিক অনুতপ্ত হয়ে অপরাধ পরিত্যাগ করে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তাহলে তাদের ওপর থেকে দণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।

তবে শর্ত হলো, এই তওবা অবশ্যই শাসক বা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার আগে হতে হবে। একবার তারা ধরা পড়ে গেলে বা তাদের ওপর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, তখন আর এই বিশেষ ক্ষমার বিধান প্রযোজ্য হবে না; তখন তাদের বিরুদ্ধে শরিয়তের নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।

এরপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলছেন: তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। তিনি তওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেন। তার রহমত এতই প্রশস্ত যে, গুরুতর অপরাধের পরেও আন্তরিক তওবা করলে তিনি তা কবুল করেন এবং শাস্তি ক্ষমা করে দেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি সহজ ও ক্ষমাশীল ধর্ম। ভুল বা অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসার দরজা সর্বদা খোলা থাকে, যতক্ষণ না জীবনের শেষ মুহূর্ত বা শাস্তি কার্যকর হওয়ার সময় এসে যায়।
  2. আল্লাহর রহমত মানুষের গুনাহের চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত। তিনি চান তার বান্দারা তার দিকে ফিরে আসুক, তাদের ধ্বংস নয়।
  3. আন্তরিক তওবা মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। অপরাধের পরেও অনুতপ্ত হয়ে ফিরে এলে সমাজে তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া ইসলামের শিক্ষা।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ক্ষমা ও দয়া আল্লাহর অন্যতম প্রধান গুণ, যা মুমিনদের মধ্যে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। অপরাধী যদি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়, তবে তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
  5. ইসলামে শাস্তির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়, বরং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। তাই তওবার দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 32-36 — আল-মায়িদা

32مِنۡ أَجۡلِ ذَٰلِكَ كَتَبۡنَا عَلَىٰ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ أَنَّهُۥ مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٍ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعًا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعًاۚ وَلَقَدۡ جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُنَا بِٱلۡبَيِّنَٰتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنۡهُم بَعۡدَ ذَٰلِكَ فِي ٱلۡأَرۡضِ لَمُسۡرِفُونَ 
এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।
33إِنَّمَا جَزَٰٓؤُاْ ٱلَّذِينَ يُحَارِبُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَسۡعَوۡنَ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوٓاْ أَوۡ يُصَلَّبُوٓاْ أَوۡ تُقَطَّعَ أَيۡدِيهِمۡ وَأَرۡجُلُهُم مِّنۡ خِلَٰفٍ أَوۡ يُنفَوۡاْ مِنَ ٱلۡأَرۡضِۚ ذَٰلِكَ لَهُمۡ خِزۡيٌ فِي ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ 
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
34إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ مِن قَبۡلِ أَن تَقۡدِرُواْ عَلَيۡهِمۡۖ فَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 
কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু।
35يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱبۡتَغُوٓاْ إِلَيۡهِ ٱلۡوَسِيلَةَ وَجَٰهِدُواْ فِي سَبِيلِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ 
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য অন্বেষন কর এবং তাঁর পথে জেহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।
36إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَوۡ أَنَّ لَهُم مَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعًا وَمِثۡلَهُۥ مَعَهُۥ لِيَفۡتَدُواْ بِهِۦ مِنۡ عَذَابِ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنۡهُمۡۖ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ 
যারা কাফের, যদি তাদের কাছে পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ এবং তৎসহ আরও তদনুরূপ সম্পদ থাকে আর এগুলো বিনিময়ে দিয়ে কিয়ামতের শাস্তি থেকে পরিত্রান পেতে চায়, তবুও তাদের কাছ থেকে তা কবুল করা হবে না। তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
34আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 34

সূরা আয়াত 34/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 32–36. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না