আল-হাদিদ · 27/29
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-হাদিদ
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا ۖ فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ ۝٢٧
Summa qaffainaa `alaa aasaarihim bi Rusulinaa wa qaffainaa be `Eesab ni Maryama wa aatainaahul Injeela wa ja`alnaa fee quloobil lazeenat taba` oohu raafatanw wa rahmatanw wa rahbaaniyyatanib tada` oohaa maa katanaahaa `alaihim illab tighaaa`a ridwaanil laahi famaa ra`awhaa haqqa ri`aayatihaa fa aatainal lazeena aamanoo minhum ajrahum wa kaseerum minhum faasiqoon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • قَفَّيْنَا – আমরা অনুসরণ করিয়েছি, পিছনে পিছনে পাঠিয়েছি।
  • آثَارِهِم – তাদের (পূর্ববর্তী নবীদের) পদচিহ্নের উপর।
  • رَأْفَةً – অত্যন্ত দয়া ও কোমলতা।
  • رَهْبَانِيَّةً – সন্ন্যাসবাদ; দুনিয়া ত্যাগ করে কঠোর ইবাদতে লিপ্ত হওয়া।
  • ابْتَدَعُوهَا – তারা নিজেরাই তা নতুনভাবে উদ্ভাবন করেছিল।
  • مَا كَتَبْنَاهَا – আমরা তা তাদের উপর ফরজ করিনি।
  • رِضْوَانِ اللَّهِ – আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছা।
  • فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا – তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি।
  • فَاسِقُونَ – সত্য থেকে বিচ্যুত, অবাধ্য।

তাফসীর:

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, আমরা নূহ ও ইবরাহীম (আঃ)-এর পরে পর্যায়ক্রমে আমাদের রাসূলগণকে পাঠিয়েছি, এবং তাদেরই ধারাবাহিকতায় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ)-কে প্রেরণ করেছি। তাঁকে আমরা ‘ইনজিল’ কিতাব দান করেছি। যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল, তাদের অন্তরে আমরা দয়া ও করুণা সৃষ্টি করে দিয়েছিলাম, ফলে তারা পরস্পরের প্রতি স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল ছিল।

কিন্তু তারা নিজেরাই মনগড়া একটি ‘রাহবানিয়্যাত’ (সন্ন্যাসবাদ) উদ্ভাবন করেছিল—দুনিয়া ত্যাগ করে পাহাড়-গুহায় আশ্রয় নেওয়া, বিবাহ-বর্জন এবং কঠোর আত্মনিগ্রহের মাধ্যমে ইবাদত করা। আল্লাহ তাদের উপর এটা ফরজ করেননি; বরং তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এটা অবলম্বন করেছিল। কিন্তু তারা এটাকেও যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেনি; বরং পরবর্তীকালে তারা এটাকে বিকৃত করে ফেলে এবং তাদের অনেকেই সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

অতএব, যারা তাদের মধ্যে প্রকৃত ঈমান এনেছিল (বিশেষ করে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান এনেছিল), আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ফাসিক—সত্য থেকে দূরে সরে গিয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়ে মানুষকে সত্য পথের দিশা দিয়েছেন। তাই প্রতিটি যুগের মানুষের উচিত নিজ নিজ যুগের রাসূলের অনুসরণ করা।
  2. দ্বীনের মধ্যে মনগড়া নতুন বিষয় প্রবর্তন করা (বিদ‘আত) কখনোই কাম্য নয়। ইবাদত-বন্দেগিতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দেখানো পথই অনুসরণ করতে হবে, নিজের ইচ্ছামতো কঠোরতা বা শিথিলতা নয়।
  3. দুনিয়া ত্যাগ করে সন্ন্যাসবাদ গ্রহণ ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম দুনিয়া ও আখিরাতের সমন্বয় চায়—বিবাহ করা, হালাল রিজিক অর্জন করা এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলা।
  4. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কাজ করলে তা যদি কুরআন-সুন্নাহসম্মত হয়, তবে তা কবুল হবে; কিন্তু নিজের পক্ষ থেকে মনগড়া পথ বানালে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
  5. প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো—আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং রাসূলের (সাঃ) আদর্শের অনুসরণ। আর যে ব্যক্তি এ পথ থেকে বিচ্যুত হয়, সে-ই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।


📜 আয়াত 25-29 — আল-হাদিদ

25لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।
26وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِمَا النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ ۖ فَمِنْهُم مُّهْتَدٍ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী।
27ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا ۖ فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।
28يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন, তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
29لِّئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَيْءٍ مِّن فَضْلِ اللَّهِ ۙ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
যাতে কিতাবধারীরা জানে যে, আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা, তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
আল-হাদিদকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীRevelation
27আয়াত

অনুবাদ — আল-হাদিদ 27

সূরা আল-হাদিদ আয়াত 27 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের…

সূরা আয়াত 27/29 — আল-হাদিদ الحديد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-হাদিদ শুনুন, আল-হাদিদ অনুবাদ, আল-হাদিদ mp3, আল-হাদিদ pdf. আয়াত 25–29. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না