Alam tara ilal lazeena naafaqoo yaqooloona li ikhwaanihimul lazeena kafaroo min ahlil kitaabi la`in ukhrijtum lanakhrujanna ma`akum wa laa nutee`u feekum ahadan abadanw-wa in qootiltum lanansuran nakum wallaahu yashhadu innahum lakaaziboon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या तुमने उन मुनाफ़िकों की हालत पर नज़र नहीं की जो अपने काफ़िर भाइयों अहले किताब से कहा करते हैं कि अगर कहीं तुम (घरों से) निकाले गए तो यक़ीन जानों कि हम भी तुम्हारे साथ (ज़रूर) निकल खड़े होंगे और तुम्हारे बारे में कभी किसी की इताअत न करेंगे और अगर तुमसे लड़ाई होगी तो ज़रूर तुम्हारी मदद करेंगे, मगर ख़ुदा बयान किए देता है कि ये लोग यक़ीनन झूठे हैं
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
### معاني الكلمات:
نَافَقُوا: যারা অন্তরে কুফরী লুকিয়ে রেখে মুখে ঈমান প্রকাশ করেছে।
إِخْوَانِهِمُ: তাদের ধর্মীয় ভাই, অর্থাৎ কুফরী ও শত্রুতার ভিত্তিতে সম্পর্কযুক্ত।
لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ: যদি তোমাদেরকে (মদীনা থেকে) বহিষ্কার করা হয়।
لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ: আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব।
لَنَنصُرَنَّكُمْ: আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।
لَكَاذِبُونَ: তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।
### تفسير الآية:
হে নবী! আপনি কি লক্ষ্য করেননি সেই মুনাফিকদের অবস্থা, যারা অন্তরে কুফরী লুকিয়ে রেখে মুখে ঈমানের দাবি করে? তারা কিতাবধারী (ইয়াহুদী বনী নাযীর) যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে ভাই বলে সম্বোধন করে বলত: “যদি তোমাদেরকে (মদীনা থেকে) বের করে দেওয়া হয়, আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব। তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনো কারো কথা মানব না—চাই সে রাসূলুল্লাহ (সা.) হোক বা অন্য কোনো মুসলিম। আর যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা হয়, আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।”
কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী দিচ্ছেন যে, এ মুনাফিকরা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী। তাদের এই প্রতিশ্রুতি ছিল শুধু মুখের কথা; বাস্তবে তারা ইয়াহুদীদের সাথে বের হওয়া বা তাদের সাহায্য করার কোনো ইচ্ছা পোষণ করত না। তাদের অন্তর ছিল ভয়ে ভীত, আর তারা কেবল ইয়াহুদীদেরকে মদীনা থেকে বহিষ্কারের সময় ভয় দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছিল। আল্লাহ তাদের মনের গোপন কথা জানেন এবং তাদের মিথ্যা প্রকাশ করে দিয়েছেন।
### শিক্ষণীয় বিষয়:
মুনাফিকের চরিত্র: মুনাফিকরা সবসময় দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে। তারা মুখে এমন প্রতিশ্রুতি দেয় যা তাদের অন্তরে নেই। মুমিনের উচিত তাদের থেকে সতর্ক থাকা এবং তাদের কথায় বিশ্বাস না করা।
আল্লাহর জ্ঞান: আল্লাহ প্রতিটি মানুষের অন্তরের গোপন কথা জানেন। কোনো মুনাফিকের ধোঁকা বা মিথ্যা তাঁর অজানা নয়। তাই সৎ ও সত্যনিষ্ঠ হওয়াই মুমিনের কর্তব্য।
প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব: ইসলামে প্রতিশ্রুতি পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুনাফিকদের একটি আলামত হলো তারা প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। মুমিনের উচিত কথা ও কাজে সামঞ্জস্য রাখা।
আল্লাহর ওপর ভরসা: শত্রুদের ষড়যন্ত্র বা মুনাফিকদের প্রতিশ্রুতি যতই ভয়ংকর হোক না কেন, মুমিনের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। কারণ আল্লাহই সর্বশক্তিমান এবং তিনি তাঁর বান্দাদের রক্ষা করেন।
কুরআনের চিরন্তন বাণী: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কুরআন শুধু ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য দিকনির্দেশনা বহন করে। মুনাফিকদের চরিত্র ও তাদের পরিণতি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।