আল-হাশর · 10/24
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-হাশর
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ۝١٠
Wallazeena jaaa`oo min ba`dihim yaqooloona Rabbanagh fir lanaa wa li ikhwaani nal lazeena sabqoonaa bil eemaani wa laa taj`al fee quloobinaa ghillalil lazeena aamanoo rabbannaaa innaka Ra`oofur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • غِلًّا: হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি বা অন্তরের গোপন শত্রুতা।
  • رَءُوفٌ: অতি দয়ালু, যিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল।
  • رَحِيمٌ: পরম দয়াময়, যিনি অফুরন্ত করুণা বর্ষণ করেন।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই মুমিনদের প্রশংসা করেছেন যারা মুহাজির ও আনসারদের পরে এসেছেন—অর্থাৎ তাবেয়ী ও কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল ঈমানদার। তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁরা পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য দোয়া করেন এবং বলেন: "হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের আগে অগ্রগামী হয়েছেন।" তাঁরা আরও প্রার্থনা করেন: "হে আমাদের রব! যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা হানাহানি সৃষ্টি করবেন না।" তাঁরা এই বলে দোয়া শেষ করেন: "হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়াময়।"

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন যে, প্রকৃত মুমিনের অন্তর পূর্ববর্তী মুমিনদের—বিশেষত সাহাবায়ে কেরাম—প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানে পূর্ণ থাকে। তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁদের প্রতি কোনো প্রকার হিংসা বা বিদ্বেষ না পোষণ করাই ঈমানের পরিচয়। যে ব্যক্তি সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে বা তাঁদের সমালোচনা করে, সে মূলত এই আয়াতে বর্ণিত মুমিনদের দলভুক্ত নয়।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি হলো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুমিনের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁদের জন্য দোয়া করা। এটি অন্তরের পবিত্রতা ও ঈমানের গভীরতার প্রমাণ।
  2. সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পোষণ করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। তাঁদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা বা বিদ্বেষ পোষণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
  3. মুমিনের অন্তর হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হওয়া উচিত। হিংসা অন্তরের আমলকে ধ্বংস করে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই আল্লাহর কাছে হিংসামুক্ত অন্তর প্রার্থনা করা উচিত।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, মুমিনের উচিত নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে আল্লাহর রহমত কামনা করাই বান্দার প্রকৃত অবস্থান।
  5. আল্লাহর গুণাবলি "রউফ" ও "রহিম" স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তাই তাঁর কাছে আশা রাখা এবং তাঁর রহমতের উপর ভরসা করা উচিত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 8-12 — আল-হাশর

8لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।
9وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ ۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
10وَالَّذِينَ جَاءُوا مِن بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।
11۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا نُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا وَإِن قُوتِلْتُمْ لَنَنصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
12لَئِنْ أُخْرِجُوا لَا يَخْرُجُونَ مَعَهُمْ وَلَئِن قُوتِلُوا لَا يَنصُرُونَهُمْ وَلَئِن نَّصَرُوهُمْ لَيُوَلُّنَّ الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ
যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না।
আল-হাশরকুরআন সূচী
24আয়াত
মাদানীRevelation
10আয়াত

অনুবাদ — আল-হাশর 10

সূরা আল-হাশর আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে।…

সূরা আয়াত 10/24 — আল-হাশর الحشر (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-হাশর শুনুন, আল-হাশর অনুবাদ, আল-হাশর mp3, আল-হাশর pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না