অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
- مَيْتَةً (মাইতাহ): যে পশু যবেহ করা ছাড়াই মৃত, তা যেভাবেই মরুক না কেন।
- دَمًا مَّسْفُوحًا (দামান মাসফূহান): প্রবাহিত রক্ত, যা যবেহ করার সময় বেরিয়ে আসে। কলিজা বা প্লীহার মতো রক্ত জমাট বাঁধা অংশ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
- فِسْقًا (ফিসকান): অবাধ্যতা ও পাপের কাজ। এখানে এমন পশুকে বোঝানো হয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে।
- أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ (উহিল্লা লিগাইরিল্লাহি বিহি): যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, যেমন মূর্তির নাম বা অন্য কোনো সৃষ্টির নাম নেওয়া।
- غَيْرَ بَاغٍ (গাইরা বাগিন): যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে বা স্বেচ্ছায় হারাম খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে না।
- وَلَا عَادٍ (ওয়া লা 'আদিন): যে ব্যক্তি প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে না, অর্থাৎ ক্ষুধা নিবারণের প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি খায় না।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি তাদেরকে বলুন, যারা নিজেদের মনগড়া নিয়মে কিছু হালাল-হারাম ঘোষণা করে বসে আছে: "আমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করা হয়েছে, তাতে আমি কোনো খাদ্য বস্তুকে ভক্ষণকারীর জন্য হারাম পাই না, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ছাড়া:
প্রথমত: যে পশু যবেহ করা ছাড়াই মৃত (মাইতাহ) — তা ডুবে মরা, গলা টিপে মরা, পিটিয়ে মারা বা অন্য কোনোভাবে মরা হোক না কেন।
দ্বিতীয়ত: প্রবাহিত রক্ত (দাম মাসফূহ) — যা যবেহ করার সময় বেরিয়ে আসে। এটি সম্পূর্ণ হারাম।
তৃতীয়ত: শূকরের গোশত — কেননা এটি সম্পূর্ণ নাপাক ও অপবিত্র বস্তু। এর প্রতিটি অংশই হারাম।
চতুর্থত: এমন পশু যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে, অর্থাৎ যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্তার নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। এটিকে 'ফিসক' বা পাপের কাজ বলা হয়েছে, কারণ এটি আল্লাহর আদেশের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধাচরণ এবং শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অশেষ mercy ও করুণা প্রকাশ করে বলেছেন: যদি কেউ চরম ক্ষুধার কারণে প্রাণ বাঁচানোর জন্য এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলো খেতে বাধ্য হয়, কিন্তু সে স্বেচ্ছায় বা অন্যায়ভাবে তা খেতে চায় না এবং প্রয়োজনের সীমাও অতিক্রম করে না — অর্থাৎ ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি খায় না — তাহলে তার প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি তাকে ক্ষমা করবেন এবং তার ওপর কোনো গুনাহ হবে না।
এ প্রসঙ্গে মনে রাখা জরুরি যে, পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ দ্বারা আরও কিছু বস্তু হারাম প্রমাণিত হয়েছে। যেমন: শিকারী দাঁতওয়ালা হিংস্র জন্তু, নখরওয়ালা পাখি, গৃহপালিত গাধা এবং কুকুর ইত্যাদি। সুতরাং মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য — আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী হালাল-হারাম মেনে চলা, নিজেদের মনগড়া নিয়ম না তৈরি করা। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতার জন্য সর্বোত্তম বিধান প্রদান করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন এবং হারাম থেকে দূরে থাকার শক্তি দিন। আমিন।
📜 আয়াত 143-147 — সূরা আল-আনআম
অনুবাদ — আল-আনআম 145
সূরা আল-আনআম আয়াত 145 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে…সূরা আয়াত 145/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 143–147. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








