অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- فُرَادَىٰ — একাকী, নিঃসঙ্গভাবে, দলবল ও সাহায্যকারী ছাড়া।
- خَوَّلْنَاكُمْ — যা আমরা তোমাদের দান করেছিলাম (ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি)।
- شُفَعَاءَكُمُ — তোমাদের সুপারিশকারীরা, যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক মনে করতে।
- تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ — তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।
- ضَلَّ — হারিয়ে গেছে, নিষ্ফল হয়ে গেছে, বিলীন হয়ে গেছে।
তাফসির:
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুশরিকদের উদ্দেশ্যে বলবেন: “তোমরা আমার কাছে নিশ্চয়ই একাকী ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসে উপস্থিত হয়েছ—ঠিক যেমন আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। তখন তোমাদের সাথে কোনো সম্পদ ছিল না, কোনো ক্ষমতা ছিল না, কোনো সাহায্যকারীও ছিল না। আজও ঠিক তেমনি তোমরা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছ।”
“আর তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ যা কিছু আমি তোমাদের দান করেছিলাম”—অর্থাৎ দুনিয়ার সেই ধন-সম্পদ, রাজত্ব, সন্তান-সন্ততি, বিলাসিতা ও অহংকারের উপকরণ—সবকিছুই দুনিয়ায় রেখে এসেছ। আজ তোমাদের সাথে তার কিছুই নেই; বরং তা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে গেছে।
“আর আমি তোমাদের সাথে দেখতে পাচ্ছি না তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের, যাদেরকে তোমরা দাবি করতে যে, তারা তোমাদের জন্য আল্লাহর সাথে শরিক”—অর্থাৎ তোমরা যে মূর্তি-প্রতিমা, দেব-দেবী বা অন্য কিছুকে আল্লাহর সাথে শরিক মনে করতে এবং ভাবতে যে তারা তোমাদের জন্য সুপারিশ করবে বা বিপদে সাহায্য করবে—আজ তাদের কাউকেই আমি তোমাদের সাথে দেখতে পাচ্ছি না। তারা সবাই আজ অনুপস্থিত।
“নিশ্চয়ই তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে”—অর্থাৎ দুনিয়ায় তোমাদের যে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা পারস্পরিক নির্ভরতা ছিল, সবকিছু আজ শেষ হয়ে গেছে। আর “তোমাদের সেই দাবি সব হারিয়ে গেছে যা তোমরা করতে”—অর্থাৎ তোমরা যে ধারণা পোষণ করতে যে এই উপাস্যরা তোমাদের সুপারিশ করবে বা তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে পৌঁছে দেবে—সব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং তা থেকে আজ তোমরা সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্কতা: এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার সম্পদ, ক্ষমতা ও আত্মীয়-স্বজন কোনোদিন আমাদের সাথে আখিরাতে যাবে না। তাই আমাদের উচিত এমন আমল করা যা সত্যিই আখিরাতে কাজে দেবে।
- তাওহিদের গুরুত্ব: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুকে উপাস্য বা সুপারিশকারী বানানো সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও ক্ষতিকর। শুধুমাত্র আল্লাহই আমাদের সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হতে পারেন, এবং তা কেবল তাঁর অনুমতিতে।
- আখিরাতের বাস্তবতা: প্রত্যেক মানুষকে একদিন একাকী আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। সেদিন কোনো বাহ্যিক উপকরণ বা সম্পর্ক কাজে আসবে না। তাই এই জীবনে সৎকর্ম ও আল্লাহভীতি অর্জন করাই একমাত্র পাথেয়।
- আত্মশুদ্ধির আহ্বান: এই আয়াত আমাদের অন্তরকে শুদ্ধ করার এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করার প্রেরণা দেয়। যারা আল্লাহকে ভুলে নিজের ক্ষমতা ও সম্পদের ওপর ভরসা করে, তাদের পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক।
- কুরআনের সত্যতা: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কুরআন সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তাই আমাদের উচিত কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজেদের জীবনকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সাজানো।
📜 আয়াত 92-96 — আল-আনআম
অনুবাদ — আল-আনআম 94
সূরা আল-আনআম আয়াত 94 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি…সূরা আয়াত 94/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 92–96. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








