Innal laaha faaliqul habbi wannawaa yukhrijul haiya minal maiyiti wa mukhrijul maiyiti minal haiy; zaalikumul laahu fa annaa tu`fakoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ख़ुदा ही तो गुठली और दाने को चीर (करके दरख्त ऊगाता) है वही मुर्दे में से ज़िन्दे को निकालता है और वही ज़िन्दा से मुर्दे को निकालने वाला है (लोगों) वही तुम्हारा ख़ुदा है फिर तुम किधर बहके जा रहे हो
নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَالِقُ = বিদীর্ণকারী, ফাটিয়ে উদগতকারী।
الْحَبِّ = শস্য-বীজ (যেমন গম, যব ইত্যাদি)।
النَّوَى = আঁটি/বিচি (যেমন খেজুর, আঙুরের বীজ)।
تُؤْفَكُونَ = তোমাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে / ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তাফসীর:
নিশ্চয়ই আল্লাহই সেই সত্তা যিনি শস্য-বীজ ও আঁটিকে বিদীর্ণ করে তা থেকে সবুজ উদ্ভিদ, বৃক্ষ ও ফসল উদগত করেন। তিনি মৃত বস্তু থেকে জীবিত বস্তু বের করেন—যেমন নিষ্প্রাণ শুক্রবিন্দু (নutfah) থেকে সজীব মানুষ ও প্রাণী সৃষ্টি করেন। আবার জীবিত বস্তু থেকে মৃত বস্তুও বের করেন—যেমন জীবিত মানুষ ও প্রাণী থেকে শুক্রবিন্দু, মুরগি থেকে ডিম, এবং জীবিত দেহ থেকে মল-মূত্র ইত্যাদি নির্গত হয়। এই সমস্ত কাজ একমাত্র আল্লাহই করেন, যিনি সকল সৃষ্টির স্রষ্টা ও রিজিকদাতা। তিনিই প্রকৃত ইলাহ, যিনি একক ও অংশীদারহীন। তিনি ছাড়া আর কেউ এসব করতে সক্ষম নয়। অতএব, হে মুশরিকরা! যখন তোমরা এত স্পষ্ট প্রমাণ ও অলৌকিক সৃষ্টি-নিদর্শন প্রত্যক্ষ করছ, তখন কীভাবে তোমাদেরকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে মিথ্যার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? কীভাবে তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করছ, অথচ তিনিই একমাত্র উপাসনার যোগ্য?
ফায়দা (শিক্ষা):
এই আয়াত আল্লাহর কুদরতের অসাধারণ নিদর্শন তুলে ধরে। একটি মৃত, শুকনো বীজ থেকে সবুজ, সজীব বৃক্ষ বের হওয়া—এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান অবশ্যই ঘটবে। যে আল্লাহ বীজ থেকে জীবন সৃষ্টি করতে পারেন, তিনি মৃত মানুষের দেহকেও পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম।
এই আয়াত তাওহীদের (একত্ববাদের) সবচেয়ে বড় দলিল। যিনি এত সুক্ষ্ম ও জটিল ব্যবস্থা পরিচালনা করেন, শুধুমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য। তাঁর কোনো শরীক নেই।
মানুষের উচিত প্রকৃতির এই নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। প্রতিটি ফসল, প্রতিটি বৃক্ষ, প্রতিটি প্রাণী—সবই আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতার জীবন্ত প্রমাণ। যে ব্যক্তি এগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে কখনো শিরকে লিপ্ত হবে না।
এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। তিনি আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন, আমাদের জীবন দিয়েছেন, এবং প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের অগণিত নিয়ামত দান করছেন। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁরই ইবাদত করা।
আয়াতটি মুমিনের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো কিছুই ঘটতে পারে না। তিনি যেমন বীজ থেকে গাছ বের করেন, তেমনি তিনি চাইলে কঠিন থেকে সহজ, দুঃখ থেকে সুখ এবং বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারেন। তাই মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখে।
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি যেমন আল্লাহ নাযিল করেছেন। যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে।
তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের কে দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে।
নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।