আর-রাদ · 12/43
অনুবাদ উচ্চারণ — আর-রাদ
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ ۝١٢
Huwal lazee yureekumul barqa khawfanw wa tama`anw wa yunshi`us sahaabas siqaal
📖 বাংলা অর্থ
তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্যে এবং আশার জন্যে এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ

শব্দার্থ:

  • الْبَرْقَ: বিদ্যুৎ চমকানো, যা মেঘের মধ্যে থেকে আলোর ঝলক হিসেবে দেখা যায়।
  • خَوْفًا: ভয়, কারণ বিদ্যুৎ চমকালে বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকে।
  • طَمَعًا: আশা বা লোভ, কারণ বিদ্যুৎ চমকানোর সাথে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
  • يُنشِئُ: সৃষ্টি করেন, উত্থিত করেন।
  • السَّحَابَ الثِّقَالَ: ভারী মেঘ, যা প্রচুর পানি ধারণ করে থাকে।

তাফসির:

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে বিদ্যুৎ চমক দেখান—যা একই সাথে ভয় ও আশার কারণ। যখন বিদ্যুৎ চমকায়, তখন তোমরা ভয় পাও যে, হয়তো বজ্রপাত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে; আবার আশাও কর যে, এর সাথে বৃষ্টি নেমে আসবে এবং জমিন সজীব হবে। আর তিনি এমন ভারী মেঘ সৃষ্টি করেন, যা প্রচুর পানি বহন করে এবং তা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয় তোমাদের উপকারের জন্য। এটি তারই কুদরতের নিদর্শন যে, তিনি আকাশে মেঘ জমা করেন, তাকে ভারী করেন এবং তা থেকে জীবনধারা বর্ষণ করেন।

ফায়দা:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনায় আল্লাহর কুদরত ও রহমত লুকিয়ে আছে। বিদ্যুৎ চমকানো এবং মেঘ সৃষ্টি করা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ। এটি আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশা দুইটিই রাখতে শেখায়—ভয় তার শাস্তির, আর আশা তার রহমতের। যখন আমরা বৃষ্টি দেখি, তখন আমাদের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তার দানকে স্মরণ করা। এই আয়াত আমাদেরকে প্রকৃতির দিকে চোখ খুলে দেখতে শেখায়, যেন আমরা আল্লাহর নিদর্শনগুলো চিনতে পারি এবং তার ইবাদতে আত্মনিয়োগ করি।



📜 আয়াত 10-14 — আর-রাদ

10سَوَاءٌ مِّنكُم مَّنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَن جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ
তোমাদের মধ্যে কেউ গোপনে কথা বলুক বা তা সশব্দে প্রকাশ করুক, রাতের অন্ধকারে সে আত্নগোপন করুক বা প্রকাশ্য দিবালোকে বিচরণ করুক, সবাই তাঁর নিকট সমান।
11لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
12هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ
তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্যে এবং আশার জন্যে এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা।
13وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ
তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।
14لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ ۖ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ ۚ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
সত্যের আহবান একমাত্র তাঁরই এবং তাকে ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না; ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ, যেমন কেউ দু’ হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোন সময় পৌঁছাবে না। কাফেরদের যত আহবান তার সবই পথভ্রষ্টতা।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীRevelation
12আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 12

সূরা আর-রাদ আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্যে এবং আশার জন্যে এবং…

সূরা আয়াত 12/43 — আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আর-রাদ শুনুন, আর-রাদ অনুবাদ, আর-রাদ mp3, আর-রাদ pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না