আর-রাদ · 13/43
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আর-রাদ
وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ ۝١٣
Wa yusabbihur ra`du bihamdihee walmalaaa`ikatu min kheefatihee wa yursilus sawaa`iqa fa yuseebu bihaa mai yashaaa`u wa hum yujaadiloona fil laahi wa Huwa shadeedul mihaal
📖 বাংলা অর্থ
তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • الرَّعْدُ (রাদ) — বজ্রপাতের যে গর্জন শোনা যায়।
  • الصَّوَاعِقُ (সাওয়ায়েক) — ‘সা’য়েকা’র বহুবচন। অর্থ: বজ্রপাতের অগ্নি বা ধ্বংসকারী আযাব যা আকাশ থেকে নেমে আসে।
  • الْمِحَالُ (মিহাল) — শাস্তি, কঠোর প্রতিশোধ, শক্তিশালী কৌশল বা ক্ষমতা। অর্থাৎ আল্লাহর পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাশক্তির কিছু নিদর্শন এবং তাঁর প্রতি সৃষ্টিজগতের বিনয় ও আনুগত্যের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, বজ্রপাতের গর্জনও আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে — অর্থাৎ সেই ভয়ংকর শব্দটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে, তাঁর প্রশংসার সাথে। এটি কোনো চেতনাহীন শব্দ নয়; বরং প্রতিটি সৃষ্টি নিজ নিজ ভাষায় আল্লাহর তাসবীহ করে, যেমনটি কুরআনের অন্যত্রও বলা হয়েছে।

আর ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে ও ভীতি থেকে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে। তারা তাঁর আদেশের সামনে সম্পূর্ণ বিনীত এবং তাঁর মহত্ত্বের সামনে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে। তাদের এই তাসবীহ ভয় ও শ্রদ্ধার মিশ্রণে পূর্ণ।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি বজ্রপাত প্রেরণ করেন এবং তা দিয়ে যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন, কখনো তা কারও জন্য ধ্বংসের কারণ হয়। অথচ কাফেররা আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর পুনরুত্থানের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক করে। তারা তাঁর অসীম ক্ষমতাকে অস্বীকার করে, অথচ তাদের চোখের সামনেই তাঁর শক্তির এমন নিদর্শন ঘটে চলেছে।

আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কঠোর পাকড়াওকারী। তিনি যখন কাউকে শাস্তি দিতে চান, কেউ তা রুখতে পারে না। তাঁর শক্তি অপরিসীম, তাঁর প্রতিশোধ অত্যন্ত ভয়ংকর। তাই মানুষের উচিত তাঁর সামনে মাথা নত করা, তাঁর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাঁরই কাছে আশ্রয় চাওয়া।


শিক্ষণীয় ও প্রেরণামূলক দিক:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, এই বিশাল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু — এমনকি বজ্রপাতের মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক ঘটনাও — আল্লাহর অনুগত এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। যখন আমরা বজ্রপাতের গর্জন শুনি, তখন আমাদের উচিত আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করা এবং তাঁর শক্তি স্মরণ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবীরা বজ্রপাতের শব্দ শুনলে তাসবীহ পাঠ করতেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে তাঁর অনুগত হতে হবে। কাফেররা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক করে, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে তাঁর শক্তি দেখিয়ে দেন। আমাদের উচিত আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা, তাঁর আদেশ মান্য করা এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু, কিন্তু তিনি অত্যন্ত কঠোর শাস্তিদাতাও। তাই আমরা যেন তাঁর রহমতের আশা করি এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় করি — এই দুইয়ের সমন্বয়ই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।



📜 আয়াত 11-15 — সূরা আর-রাদ

11لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
12هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ
তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ দেখান ভয়ের জন্যে এবং আশার জন্যে এবং উক্ষিত করেন ঘন মেঘমালা।
13وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ
তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।
14لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ ۖ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ ۚ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
সত্যের আহবান একমাত্র তাঁরই এবং তাকে ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না; ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ, যেমন কেউ দু’ হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোন সময় পৌঁছাবে না। কাফেরদের যত আহবান তার সবই পথভ্রষ্টতা।
15وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُم بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ ۩
আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
13আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 13

সূরা আর-রাদ আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি…

সূরা আয়াত 13/43 — সূরা আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আর-রাদ শুনুন, সূরা আর-রাদ অনুবাদ, সূরা আর-রাদ mp3, সূরা আর-রাদ pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না