অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
- الرَّعْدُ (রাদ) — বজ্রপাতের যে গর্জন শোনা যায়।
- الصَّوَاعِقُ (সাওয়ায়েক) — ‘সা’য়েকা’র বহুবচন। অর্থ: বজ্রপাতের অগ্নি বা ধ্বংসকারী আযাব যা আকাশ থেকে নেমে আসে।
- الْمِحَالُ (মিহাল) — শাস্তি, কঠোর প্রতিশোধ, শক্তিশালী কৌশল বা ক্ষমতা। অর্থাৎ আল্লাহর পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাশক্তির কিছু নিদর্শন এবং তাঁর প্রতি সৃষ্টিজগতের বিনয় ও আনুগত্যের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, বজ্রপাতের গর্জনও আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে — অর্থাৎ সেই ভয়ংকর শব্দটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে, তাঁর প্রশংসার সাথে। এটি কোনো চেতনাহীন শব্দ নয়; বরং প্রতিটি সৃষ্টি নিজ নিজ ভাষায় আল্লাহর তাসবীহ করে, যেমনটি কুরআনের অন্যত্রও বলা হয়েছে।
আর ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে ও ভীতি থেকে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে। তারা তাঁর আদেশের সামনে সম্পূর্ণ বিনীত এবং তাঁর মহত্ত্বের সামনে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে। তাদের এই তাসবীহ ভয় ও শ্রদ্ধার মিশ্রণে পূর্ণ।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি বজ্রপাত প্রেরণ করেন এবং তা দিয়ে যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন, কখনো তা কারও জন্য ধ্বংসের কারণ হয়। অথচ কাফেররা আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর পুনরুত্থানের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক করে। তারা তাঁর অসীম ক্ষমতাকে অস্বীকার করে, অথচ তাদের চোখের সামনেই তাঁর শক্তির এমন নিদর্শন ঘটে চলেছে।
আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কঠোর পাকড়াওকারী। তিনি যখন কাউকে শাস্তি দিতে চান, কেউ তা রুখতে পারে না। তাঁর শক্তি অপরিসীম, তাঁর প্রতিশোধ অত্যন্ত ভয়ংকর। তাই মানুষের উচিত তাঁর সামনে মাথা নত করা, তাঁর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তাঁরই কাছে আশ্রয় চাওয়া।
শিক্ষণীয় ও প্রেরণামূলক দিক:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, এই বিশাল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু — এমনকি বজ্রপাতের মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক ঘটনাও — আল্লাহর অনুগত এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। যখন আমরা বজ্রপাতের গর্জন শুনি, তখন আমাদের উচিত আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করা এবং তাঁর শক্তি স্মরণ করা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবীরা বজ্রপাতের শব্দ শুনলে তাসবীহ পাঠ করতেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে তাঁর অনুগত হতে হবে। কাফেররা আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক করে, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে তাঁর শক্তি দেখিয়ে দেন। আমাদের উচিত আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা, তাঁর আদেশ মান্য করা এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে তাকওয়া অবলম্বন করা। আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু, কিন্তু তিনি অত্যন্ত কঠোর শাস্তিদাতাও। তাই আমরা যেন তাঁর রহমতের আশা করি এবং তাঁর শাস্তি থেকে ভয় করি — এই দুইয়ের সমন্বয়ই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
📜 আয়াত 11-15 — সূরা আর-রাদ
অনুবাদ — আর-রাদ 13
সূরা আর-রাদ আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি…সূরা আয়াত 13/43 — সূরা আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আর-রাদ শুনুন, সূরা আর-রাদ অনুবাদ, সূরা আর-রাদ mp3, সূরা আর-রাদ pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








