Kazaalika arsalnaaka feee ummatin qad khalat min qablihaaa umamul litatluwa `alaihimul lazeee awhainaaa ilaika wa hum yakfuroona bir Rahmaaan; qul Huwa Rabbee laaa ilaaha illaa Huwa Rabbee laaa ilaaha illaa Huwa `alaihi tawakkaltu wa ilaihi mataab
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এমনিভাবে আমি আপনাকে একটি উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছি। তাদের পূর্বে অনেক উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। যাতে আপনি তাদেরকে ঐ নির্দেশ শুনিয়ে দেন, যা আমি আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल जिस तरह हमने और पैग़म्बर भेजे थे) उसी तरह हमने तुमको उस उम्मत में भेजा है जिससे पहले और भी बहुत सी उम्मते गुज़र चुकी हैं -ताकि तुम उनके सामने जो क़ुरान हमने वही के ज़रिए से तुम्हारे पास भेजा है उन्हें पढ़ कर सुना दो और ये लोग (कुछ तुम्हारे ही नहीं बल्कि सिरे से) ख़ुदा ही के मुन्किर हैं तुम कह दो कि वही मेरा परवरदिगार है उसके सिवा कोई माबूद नहीं मै उसी पर भरोसा रखता हूँ और उसी तरफ रुज़ू करता हूँ
এমনিভাবে আমি আপনাকে একটি উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছি। তাদের পূর্বে অনেক উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। যাতে আপনি তাদেরকে ঐ নির্দেশ শুনিয়ে দেন, যা আমি আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
خَلَتْ – অতিবাহিত হয়েছে, বিগত হয়েছে।
أُمَمٌ – বহু উম্মত (জাতি/সম্প্রদায়)।
لِتَتْلُوَ – যাতে তুমি পাঠ করো/শুনাও।
الرَّحْمَٰنِ – দয়াময় (আল্লাহর একটি বিশেষ গুণবাচক নাম)।
مَتَابِ – আমার প্রত্যাবর্তন, তাওবা, ফিরে যাওয়ার স্থান।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে নবী! যেমনভাবে আমি আপনার পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণকে তাদের উম্মতদের কাছে পাঠিয়েছিলাম, ঠিক তেমনিভাবে আমি আপনাকে পাঠিয়েছি এমন এক উম্মতের কাছে, যাদের আগে বহু উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। আপনার আগমনের পূর্বে বহু জাতি এসেছে এবং চলে গেছে, প্রত্যেকের কাছে তাদের নিজ নিজ নবী এসেছেন। এখন আপনাকে পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো—আপনি তাদের কাছে সেই কিতাব তিলাওয়াত করবেন, যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে নাযিল করেছি। এই কুরআনই আপনার সত্যতার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ। কিন্তু আপনার সম্প্রদায়ের অবস্থা এই যে, তারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করছে এবং তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করছে। তারা "রহমান" নামটি শুনলেই অস্বীকৃতি জানায়, যদিও এই নামটি আল্লাহর অসীম দয়া ও করুণার পরিচায়ক।
আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন—আপনি তাদের বলুন: "এই রহমানই আমার রব, যাঁকে তোমরা অস্বীকার করছ। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।" অর্থাৎ, তিনি আমার পালনকর্তা, আমার সমস্ত বিষয়ে আমি তাঁর উপর নির্ভর করি এবং আমার তাওবা ও প্রত্যাবর্তনও তাঁরই দিকে। তোমাদের অস্বীকৃতি ও শত্রুতার কারণে আমার ঈমান ও ভরসায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
নবী-রাসূলগণের প্রেরণা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া—প্রত্যেক যুগে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হিদায়াতের জন্য নবী পাঠিয়েছেন। এটি আল্লাহর রহমতের প্রমাণ।
কুরআন তিলাওয়াত করা ও তার শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া নবীর প্রধান দায়িত্ব ছিল এবং তাঁর অনুসারীদেরও এ কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
মানুষের অস্বীকৃতি ও বিরোধিতা সত্যের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। নবী (সা.)-কে যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমাদেরও উচিত সত্য বলতে থাকা, ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।
আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন (তাওবা) মুমিনের জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বিপদ-আপদে, শত্রুর বিরোধিতায় এবং কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল।
আল্লাহর গুণবাচক নাম "রহমান" আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। তাঁর দয়া ও করুণাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। তাই আমরা যেন সর্বদা তাঁর দয়া প্রত্যাশা করি এবং তাঁরই দিকে ধাবিত হই।
এমনিভাবে আমি আপনাকে একটি উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছি। তাদের পূর্বে অনেক উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। যাতে আপনি তাদেরকে ঐ নির্দেশ শুনিয়ে দেন, যা আমি আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ।
যদি কোন কোরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা যমীন খন্ডিত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কি হত? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? কাফেররা তাদের কৃতকর্মের কারণে সব সময় আঘাত পেতে থাকবে অথবা তাদের গৃহের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত নেমে আসবে, যে, পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা না আসে। নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।